সানা উল্লাহ সানু: লক্ষীপুরের সদর উপজেলাকে ভাগ করে নতুন উপজেলা হলো ‘চন্দ্রগঞ্জ’। বৃহস্পতিবার ( ৭ মে ২০২৬) বিকালে সচিবালয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২০তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বর্তমানে লক্ষ্মীপুর জেলায় ৫টি উপজেলা রয়েছে। নতুন চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা গঠিত হলে লক্ষ্মীপুর জেলায় মোট ৬টি উপজেলা হবে। এর আগে বিএনপি সরকার ২০০৬ সালের ৬ জুন তারিখে লক্ষ্মীপুরের বৃহত্তর রামগতি উপজেলাকে ভাগ করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছোট বেলার ডাক নাম কমল অনুসারে” কমলনগর’ উপজেলা গঠন করে।
চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা গঠনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ২০২৫ সালের ১০ জুলাই তারিখে লক্ষ্মীপুরের বটতলী বাজার মডেল মসজিদ হলরুমে প্রশাসনের উদ্যোগে এক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক রাজিব কুমার সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার আকতার হোসেন, উপপরিচালক স্হায়ী সরকার মোঃ জসীম উদ্দিনসহ আরো অনেকে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জামসেদ আলম রানার সঞ্চালনায় আয়োজিত গণশুনানীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন।
স্থানীয়রা চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন চন্দ্রগঞ্জ, হাজীরপাড়া, উত্তরজয়পুর, বশিকপুর, দত্তপাড়া, মান্দারী, দিঘলী, চরশাহী ও কুশাখালীসহ ৯টি ইউনিয়নের ভৌগোলিক বিস্তৃতি, জনসংখ্যার ঘনত্ব, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলাকে ভাগ করে একটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলা গঠনের জোরালো দাবী তুলে ধরেন।
এর আগে ২০১৪ সালের ২ জুন জাতীয় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস কমিটির (নিকার) সভায় লক্ষ্মীপুর সদর থানাধীন চন্দ্রগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে চন্দ্রগঞ্জ থানা ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চন্দ্রগঞ্জ থানার অধীন ৯টি ইউনিয়ন রয়েছে। আয়তন ২০৩.৮৩ বর্গ কিলোমিটার। ইউনিয়নগুলো হলো: বশিকপুর, দত্তপাড়া, উত্তর জয়পুর, চন্দ্রগঞ্জ, হাজিরপাড়া, চারশাহী, দিঘলী, মান্দারী ও কুশাখালী।
থানা ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা চন্দ্রগঞ্জকে পৃথক উপজেলা ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
২০২২ সাল আদমশুমারি অনুযায়ী চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মোট জনসংখ্যা ৩,০৪,০৯১ জন। সাক্ষরতার হার ৬৫.২০ শতাংশ।



0Share