সব কিছু
facebook lakshmipur24.com
লক্ষ্মীপুর রবিবার , ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
“লক্ষ্মীতারুণ্য” যাদের হাতে আগামির লক্ষ্মীপুর

“লক্ষ্মীতারুণ্য” যাদের হাতে আগামির লক্ষ্মীপুর

0
Share

“লক্ষ্মীতারুণ্য” যাদের হাতে আগামির লক্ষ্মীপুর

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে প্রায় বিশ লাখ মানুষের বসবাস। এদের মধ্যে শতকরা ৪০ ভাগই তরুণ। তরুণদের আছে অফুরান প্রাণশক্তি। জেলার এ তরুণদের শক্তি যদি এক সূতোয় গাঁথা যায়, তাহলে তা হতে পারে উন্নয়নের বিশাল শক্তি। কিন্তু ১৯৮৪’র পর আলাদ জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও লক্ষ্মীপুরের পরিচিতির জন্য আজও নিজস্ব কোন ব্র্যান্ডিং সেই অর্থে হয়ে ওঠেনি।

যে জন্য লক্ষ্মীতারুণ্যের ধারণাঃ
রাষ্ট্রের সাবেক একজন স্পিকার, দুইজন প্রধান বিচারপতি থেকে শুরু করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনবার উপাচার্য হয়েছেন লক্ষ্মীপুরের সন্তানরা। আরো বহু ক্ষেত্রে আছে অগনিত অবদান। এ জেলার তরুণদের রয়েছে অসীম সম্ভাবনা। সেই সম্ভাবনাকে এক মঞ্চে কিংবা এক কাতারে নিয়ে আসতে পারলে তা দিনশেষে জেলার জন্য বড় পাওয়া হয়ে থাকবে। আর সে ধারণা থেকেই জন্ম নিয়েছে “লক্ষ্মীতারুণ্য” শব্দের।
যার প্রধান লক্ষ্য লক্ষ্মীপুরে জন্ম গ্রহনকারি যে কোন শ্রেনি পেশার তরুণ যাদের পেশা বা কর্ম পুরো জেলা বা পুরো দেশে অনুকরণীয় তাদের কে খুঁেজ বের করা। এদের মতো তরুণদের কে জেলাবাসির কাছে পরিচিত করিয়ে দেয়া। আর সে পরিচিতি হবে কোন আনুষ্ঠানিকতায়। এ আনুষ্ঠানিকতা হবে জেলাবাসির পক্ষ থেকে তাদের জন্য সম্মানসূচক সনদ। যে সনদ তাদের কে আরো দূরে এগিয়ে নিবে এবং অন্যদের কে তার পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা যোগাবে। এ অর্থে লক্ষ্মীতারুণ্য মঞ্চের সনদ যেন লক্ষ্মীপুর জেলার “নোবেল”।
লক্ষ্মীতারুণ্যের সূচনাঃ
এমন ভাবনা থেকে লক্ষ্মীতারূণ্যের উদ্ভব। লক্ষ্মীপুরের তরুণ, মানেই লক্ষ্মীতারুন্য। যে কোন পেশার, শ্রেণির কিংবা সমাজের এমন সব তরুণদের কে এক মঞ্চে আনার জন্য ২০১৫ থেকে ভাবনার শুরু। আনুষ্ঠানিকভাবে যার যাত্রা শুরু ২০১৬-তে, ১ম লক্ষ্মীতারুণ্য সংবর্ধণার মধ্য দিয়ে। ওই বছর দেশে-বিদেশে থাকা লক্ষ্মীপুরের ১৬ তরুণকে সংবর্ধণার মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয় লক্ষ্মীতারুণ্যের। যা এখন একটি বিশাল মঞ্চ।
২০১৭ সালে ২য় লক্ষ্মীতারূণ্য সংবর্ধণার মাধ্যমে এই নেটওয়ার্ক আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। গত বছর ১৭ তরুণকে সংবর্ধণা দেয়া হয়। যেখানে আমরা প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষক, শিল্পী, চৌকস পুলিশ অফিসার, মেধাবী বিচারক, কবি, উদ্যোক্তাসহ নানা পেশার তরুণদের তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে এ মঞ্চে।
লক্ষ্মীতারুণ্যের সন্ধানে যারাঃ
প্রথমবারের যাত্রায় লক্ষ্মীতারুণ্যের সাথে সংগঠক হিসেবে যোগ দেয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শূণ্যর অন্যতম উদ্যোক্তা ইয়াসিন চৌধুরী তুষার ও জিসান মাহাদি। আর পরেরবার দ্বিতীয় লক্ষ্মীতারূণ্য উৎসবে যোগ হন আরেক তরুণ সাংবাদিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সাইফ সুজন। সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল নিরব, মোহম্মদ রায়হান, খালেদ হাসানদের মতো উদ্যোমী শতাধিক মেধাবী তরুণের এক বিশাল নেটওয়ার্ক।

লক্ষ্মীতারুণ্য যারাঃ
প্রথম লক্ষ্মীতারুণ্য মঞ্চে সংবর্ধণা জানানো হয় ১৬জন কে। এদের মধ্যে প্রথম এভারেস্টজয়ী বাংলাদেশি নারী নিশাত মজুমদার, ক্লোজআপ তারকা ইদ্রিস আনোয়ার পরাণের মত ১৬ মেধাবী তরুণ ছিলেন। তেমনি ছিল পরপর দু’বারের ইন্টারনেট জিনিয়াস সাদমান রহমান ধ্রুব। প্রথম উৎসবে সংবর্ধণা পাওয়া ৩৩তম পুলিশ ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া অহিদুজ্জামান নূর জয় এখন কাজ করছেন ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটে। যিনি ২০১৮’র বাংলাদেশ পুলিশ সপ্তাহে সর্বকনিষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পেয়েছেন পুলিশের সবচেয়ে মর্যাদাকার পুরস্কার, বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল, বিপিএম সাহসিকতা পদক।
দ্বিতীয় লক্ষ্মীতারুণ্য সংবর্ধণায় আরেক পুরস্কারপ্রাপ্ত জি এম মুনজুরুল করিম রাসেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী তরুণদের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা আর নতুন উদ্যোগ ভাবনায় মিলেছে তার এই বিশেষ স্বীকৃতি। লক্ষ্মীতারুণ্য মডেল সামিরা খান মাহি এখন দেশসেরা মডেল-অভিনেত্রীদের একজন। নামী-দামি ব্র্যান্ডের হয়ে কাজ করছেন তিনি। সংগঠক, চলচ্চিত্র নির্মাতা জিসান মাহাদির চলচ্চিত্র যাচ্ছে দেশের বাইরের বিভিন্ন উৎসবে।

 

লক্ষ্মীতারুণ্যে অনুপ্রেরণা দেয় যাঁরাঃ
লক্ষ্মীতারুণ্যে পেছন অনেক জ্ঞানী ও হৃদয়বান মানুষের উৎসাহ, অনুপ্রেরণা রয়েছে। এদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল স্যার, ঢাকার অতিরিক্ত মূখ্য মহানগর হাকিম মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূর বিজয় ও কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নোমান হোসেন প্রিন্সসহ অনেকেই। আবার লক্ষ্মীতারুণ্যের সংবর্ধণা পাওয়া ব্যক্তিরাই পরের বছর থেকে হচ্ছেন অনুপ্রেরণা প্রদানকারি। কারণ তত দিনে তারা তারুণ্য অতিক্রম করেছে।
যখন লক্ষ্মীতারুণ্য খোঁজা হয়ঃ
লক্ষ্মীপুরে জন্ম গ্রহনকারি এমন অনেক তরুণের নামই বলা যাবে, পৃষ্ঠা ভরবে কিন্তু গল্প ফুরাবে না। এমন প্রাণচাঞ্চলে ভরপুর তরুণদের নিয়ে প্রতি বছর মার্চ বা এপ্রিলে মিলিত হয় লক্ষ্মীতারুণ্য সন্ধানি বৈঠক। যাদের লক্ষ্য বিষয়টিকে সত্যি সত্যি উৎসবে রূপ দেয়া। এ জন্য প্রতি বছরই ব্যবসায়ী-পৃষ্ঠপোষকদের সহায়তায় জরুরি। কারণ তাদের সহযোগিতায় জ্বলে উঠবে পরবর্তী লক্ষ্মীতারুণ্য উৎসবের মঞ্চ।

লক্ষ্মীতারুণ্য মঞ্চে যার অবদান ব্যতিক্রমঃ
প্রথম লক্ষ্মীতারুণ্যে ইয়াসিন চৌধুরী তুষার ও জিসান মাহাদি, দ্বিতীয় লক্ষ্মীতারূণ্যে তরুণ সাংবাদিক সাইফ সুজন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল নিরব, মোহম্মদ রায়হান, খালেদ হাসানদের মতো উদ্যোমী তরুণরা যোগ দিলেও একেবারে শুরু থেকেই তারুণ্যের এ শক্তিকে সব সময় মনপ্রাণ দিয়ে এগিয়ে নিচ্ছেন, আরেক তরুণ জিয়া চৌধুরী। যুমনা টেলিভিশনের সম্পাদনা বিভাগের এ মেধাবি ও তরুণ সাংবাদিকের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে লক্ষ্মীপুরের শত সহ¯্র লক্ষ্মীতারুণ্যের। নিজ পেশার বাহিরে সার্বক্ষণিক খোজঁ খবর নিচ্ছেন জেলার লক্ষ্মীতারুণ্যদের। অন্যকে সুখী দেখাই যেন তার নেশা। তাকে ছাড়া লক্ষ্মীতারুণ্যের মঞ্চ কেমন হবে যেটা ভাবাই যাবে না।

লক্ষ্মীতারুণ্যের মুখপত্রঃ
প্রথম লক্ষ্মীতারুণ্যে খবর এবং দ্বিতীয় লক্ষ্মীতারুণ্যের সাথে সরাসরি যুক্ত হয়ে এ মঞ্চের একমাত্র মুখপত্র হিসেবে নিজকে সম্পৃক্ত করেছে লক্ষ্মীপুর জেলার প্রথম ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর। সময়ের সারথি এ অনলাইন গণমাধ্যমটির আর্কাইভে যোগ করা হবে লক্ষ্মীপুর জেলার সকল লক্ষ্মীতারুণ্যের প্রোফাইল। সাথে এ আয়োজনের সকল তথ্য। আর এ সকল বিষয়ের নানা খোঁজ খবর দিতে ফেসবুকে আছে লক্ষ্মীতারুণ্যের একটি অফিসিয়াল গ্রুপ।
তারুণ্যের জয় হোক। লক্ষ্মীতারুণ্যই হোক আগামির লক্ষ্মীপুরের পরিচিতি। সংগঠকদের প্রত্যাশা এটাই।

আরো পড়ুন: “লক্ষ্মীতারুণ্য” সম্মানে ভূষিত হলেন লক্ষ্মীপুরের ১৭ উদ্যমী

২য় লক্ষ্মীতারুণ্য উৎসবের যত ছবি

লক্ষ্মীতারুণ্য আরও সংবাদ

রামগতি ও কমলনগর থানা পুলিশের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী দিল ‘লক্ষ্মীতারুণ্য

মেঘনার জেলে ও অসহায় ৭০পরিবার পেল লক্ষ্মীতারুণ্যের খাদ্য সামগ্রী উপহার

লক্ষ্মীতারুণ্য সম্মাননা ২০২০ পাচ্ছেন যে ২০ জন

লক্ষ্মীপুর জেলার নোবেলখ্যাত ‘লক্ষ্মীতারুণ্য’ উৎসব শুক্রবার

লক্ষ্মীপুর জেলার নোবেলখ্যাত তৃতীয় ‘লক্ষ্মীতারুণ্য’ উৎসব ৬ মার্চ

তৃতীয় লক্ষ্মীতারুণ্য উৎসবের টাইটেল স্পন্সর ‘ব্রাভাত বাংলাদেশ’’

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ে অনলাইন নিউজপোর্টাল প্রকাশনার নিবন্ধনের জন্য আবেদনকৃত, তারিখ: 9/12/2015  
 All Rights Reserved : Lakshmipur24 ©2012-2022
Chief Mentor: Rafiqul Islam Montu, Editor & Publisher: Sana Ullah Sanu.
Muktijudda Market (3rd Floor), ChakBazar, Lakshmipur, Bangladesh.
Ph:+8801794 822222, WhatsApp , email: news@lakshmipur24.com