সানা উল্লাহ সানু, লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর: বাংলাদেশের তারুণ্য দীপ্ত রাজনীতিবিদদের মধ্যে সুপরিচিত মুখ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। ২০২৬ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি তারিখে ত্রয়োদশ সংসদের প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমানের গঠিত মন্ত্রী সভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহন করেন ৫৮ বয়সি শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরের এ্যানি কে দায়িত্ব দেয়া হলো পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়।
এর মধ্য দিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলায় জন্ম গ্রহনকারী যে সব সৌভাগ্যবান ব্যক্তি বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী হয়েছিলেন তাদের মধ্যে জনাব এ্যানির অবস্থান সপ্তম।
এর আগে ২০১৭ সালে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী ছিলেন শাহজাহান কামাল, ১৯৯৬ সালের মন্ত্রী সভায় নৌ পরিবহন মন্ত্রী ছিলেন আ স ম আবদুর রব, ১৯৯১ সালে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী ছিলেন জিয়াউল হক জিয়া, ১৯৮৮ সালের মন্ত্রী সভার অর্থমন্ত্রী ছিলেন ড. ওয়াহিদুল হক, ১৯৭৯ সালের মন্ত্রী সভায় ভূমি প্রতিমন্ত্রী হয়েছিল এডভোকেট ইসমাঈল এবং ১৯৭৫ সালের মন্ত্রী সভায় শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন ড. মোজাফফর আহমদ চৌধুরী ।
কে এই শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ?
ইতিহাসের বহুল আলোচিত ২০২৬ এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৩ অর্থাৎ সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। এর আগে ২০০১ এবং ২০০৮ সালেও একই আসন থেকে দুইবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বাংলাদেশে যেসব রাজনীতিবিদদের রাজনীতিই পেশা তাদের মধ্যেও অন্যতম শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। পেশাদার রাজনীতিবিদ হলেও এ্যানি মূলত একজন রসায়নবিদ। জনাব এ্যানি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত রসায়ন এবং রাসায়নিক প্রযুক্তিবিদ্যা তিনি অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রী সম্পন্ন করেন ।
ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা এ্যানির পরিবার বৃটিশ আমল থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। ব্রিটিশ শাসনামলে রামগতির চর কাদিরা ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন এ্যানি চৌধুরীর দাদা হাজী পানা মিয়া। অন্যদিকে এ্যানির এক চাচাতো ভাই সাহাবুদ্দিন চৌধুরী ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের- এমপিএ এবং অপর চাচাতো ভাই খুরশিদ আলম চৌধুরী ছিলেন একজন সংসদ সদস্য। তবে জনাব এ্যানির বাবা বশির উল্লাহ চৌধুরী ছিলেন একজন ব্যবসায়ী।
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বাসিন্দা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি স্কুল জীবন থেকেই রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৮০ সালে খালকাটা কর্মসূচী নিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান লক্ষ্মীপুরে আসেন। এসময় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মূসার খাল খনন কর্মসূচীতে যোগ দিয়ে স্কুল জীবনেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
স্কুল জীবন শেষে ১৯৮৩ সালে তিনি কলেজ ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। মেধাবী ছাত্র এ্যানি কলেজ শেষে তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
১৯৮৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের সদস্য, ১৯৮৭ সালে ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এবং ১৯৮৮ সালে শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এ্যানি । এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৯ সালে তিনি জিয়াউর রহমান হল ছাত্র সংসদের জিএস নির্বাচিত হন।
রাজনীতির অগ্রসরতার ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালে এ্যানি সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে ডাকসুর সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৯২ সালে তিনি ডাকসুর ভারপ্রাপ্ত ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই বছর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহবায়ক এবং ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বপালন করেন।
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ১৯৯৬ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৯ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।
২০০১ এবং ২০০৮ সাল তিনি লক্ষ্মীপুর-৩ সদর আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এসময় তিনি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ হন।
২০১৬ সাল থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এছাড়াও অদ্যাবধি পর্যন্ত বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসনকমিটির সমন্বয়ক এবং বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব এবং লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির আহবায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
ছাত্র জীবন থেকে মন্ত্রীত্ব গ্রহনের পূর্ব পর্যন্ত কয়েক ডজন মামলার আসামী হয়ে বহু দিন কারা বরণ করেন এ রাজনীতিবিদ। বর্তমানে একজন মন্ত্রী হিসেবে কেমন করবেন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী এবং লক্ষ্মীপুর জেলাবাসী।
এ্যানি যখন পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব নিচ্ছেন, ঠিক সে সময়ে লক্ষ্মীপুরের রামগতি এবং কমলনগর কে মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গন থেকে রক্ষার জন্য তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি কাজ চলমান রয়েছে।



0Share