সব কিছু
facebook lakshmipur24.com
লক্ষ্মীপুর বৃহস্পতিবার , ৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
গ্রামের শান্তি রক্ষায় একজন লড়াকু বীর: আনসার কমান্ডার মোহাম্মদ উল্যাহ

গ্রামের শান্তি রক্ষায় একজন লড়াকু বীর: আনসার কমান্ডার মোহাম্মদ উল্যাহ

গ্রামের শান্তি রক্ষায় একজন লড়াকু বীর: আনসার কমান্ডার মোহাম্মদ উল্যাহ

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম আধাঁরমানিক। গ্রামটির বর্তমান অবস্থান তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নে হলেও এটি আগে ছিল ভবানীগঞ্জের অধীন। কিন্ত যেখানেই ছিল, এ গ্রামটির ইতিহাসে কোন আলোর খবর ছিল না। এক সময় দিনের বেলায়ও আধাঁরমানিক গ্রামে কোন লোক যাতায়াত করতে সাহস পেত না। এক কথায় শান্তি শৃঙ্খলার দিক থেকেও আধাঁরমানিক ছিল অন্ধকারে। সে কারণে বাংলাদেশের অনেক আইনই এ গ্রামে কার্যকর ছিল না। সে ভয়ংকর গ্রামের শান্তি শৃঙ্খলার দায়িত্ব কাধেঁ নিতে এগিয়ে আসে স্থানীয় কয়েকজন যুবক। যাদের মধ্যে অন্যতম মোহাম্মদ উল্যাহ।

নিজ গ্রামের শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে মোহাম্মদ উল্যাহ ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দলে যোগদান করেন। এরপর তার নেতৃত্বে রাতের বেলায় দলগতভাবে পালাক্রমে গ্রাম পাহারা দেয়া, চুরি-ডাকাতি বন্ধে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা, বিভিন্ন অপরাধ ধমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বাহিনীকে সহযোগিতা করা, সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনিসহ তার আনসার বাহিনী ঝাপিঁয়ে পড়েন। একাজের জন্য অনেক সময় বিপদেও পড়েছেন। তবুও পিছপা হননি। বহুবার ডাকাত দলের আক্রমন থেকে বেঁচে গেছেন কাকতালীয়ভাবে। স্থানীয় চোর, ডাকাতদের শক্রতে পরিণত ছিলেন সব সময়।

কাজের প্রতি সীমাহীন আগ্রহের কারণে অল্প দিনের মধ্যে জনাব মোহাম্মদ উল্যাহকে ইউনিয়ন আনসার কমান্ডার হিসেবে পদোন্নতি প্রদান করা হয়। কমান্ডার পদে আসীন হওয়ার পর তিনি আরো গুরুত্ব দিয়ে সরকারী দায়িত্ব পালন শুরু করেন। কিন্ত পদপদবী যাই থাকুক না কেন এ পদে কোন বেতন বা সরকারি সুযোগ সুবিধা ছিল না। স্বেচ্ছাশ্রমেই পুরো সরকারী দায়িত্ব পালন করতেন হতো।
এখানেই শেষ না, গ্রামের শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখায় জনাব মোহাম্মদ উল্যাহকে বাংলাদেশ আনসারের সর্বোচ্চ সম্মান স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। ১৯৯৬ সালের পহেলা জুন তারিখে জনাকীর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহীনির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ তার হাতে স্বর্ণপদক তুলে দেন।

একজন ইউনিয়ন আনসার কমান্ডার হিসেবে মোহাম্মদ উল্যাহ গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটে চলছেন, গ্রামের মানুষকে সচেতন করছেন। এক সময়ে অনেক তরুণ তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে আনসার বাহিনীতে যোগদানের মাধ্যমে গ্রামে শান্তি ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করেন। ভবানীগঞ্জ ও তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে কমান্ডার মোহাম্মদ উল্যাহ নেতৃত্বে এক প্লাটুন আনসার বাহিনী গড়ে উঠে। এই নিবেদীত সৈনিকের কাজ শুধু মাত্র নিজ ইউনিয়নে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ইউনিয়ন থেকে উপজেলা, উপজেলা থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানে তাঁর সাহসিকতা ও যোগ্য নেতৃত্বের কথা জানাজানি হতে থাকে।

লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশের সাথে যৌথ অভিযানে বিভিন্ন ডাকাত ও সন্ত্রাসী দলের সাথে অভিযান এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তার সহযোগিতা ছিল অবিশ্বাস্য। সেজন্য জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাকে অসংখ্যবার পুরস্কৃত করা হয়।

এছাড়াও গ্রামের শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসের মতো সরকারী বিভিন্ন দিবসে কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ, বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে উদাহরণ তৈরি করে চলছেন কমান্ডার মোহাম্মদ উল্যাহর টিমের আনসার সদস্যরা। তার ডাকে সাড়া দিয়ে গ্রামের শিক্ষিত যুবক আনসার বাহিনীতে যোগদিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তাদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে অনেক যুবক আনসারের কোটায় সরকারী চাকুরী করছেন।

জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় যখন অন্যান্য সমবয়সী মানুষগুলি তাদের পরিবার পরিজন ও সংসার গোছানোর দায়িত্ব নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, সেখানে জনাব মোহাম্মদ উল্যা বিনাশ্রমে নেমে পড়েছিলেন সমাজের প্রতিটি স্তরে শান্তি রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে। যা বর্তমান তরুণ সমাজে বিরবল ঘটনা। দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ২০১৯ সালে ৫২ বছর বয়সে তিনি সরকারী ভাতা প্রাপ্তির সুসংবাদ প্রাপ্ত হন।
ব্যক্তি জীবনে তিনি বহু যুবককে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। মোহাম্মদ উল্যাহ কমান্ডারের প্লাটুনের একজন আনসার সদস্য ছিলেন স্থানীয় যুবক মো: আবু তাহের। আবু তাহের বর্তমানে আনসার কোটায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। জানতে চাইলে তিনি বলেন

“মোহাম্মদ উল্যাহ কমান্ডার সাহেব যদি আমাকে আনসার বাহিনীতে না ডাকতেন এবং প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা না করতেন তাহলে শিক্ষক হওয়া শুধু নয়, জীবনের অনেক কিছুই অসমাপ্ত থেকে যেত।”

মোহাম্মদ উল্যা সম্পর্কে তাঁর ছোট ভাই আয়কর উপদেষ্টা সিরাজ উদ্দিন জানান,

“ভাইয়ের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলি বাংলাদেশ আনসার বাহিনীতে কাটিয়েছেন। তিনি নিজের জন্য কিছুই না করে সব সময় গ্রামের শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে ভেবেছেন। তিনি অনেক শিক্ষিত ছেলেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকুরীর সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। বর্তমান সময়ে এমন কাজ সমাজে বিরল।

মোহাম্মদ উল্যাহ জানান,

“কেউ সুখী হয় টাকা উপার্জন করে, আবার কেউ সুখী হয় সমাজ সেবা করে। আমি ভিন্ন কিছু করে সমাজকে কিছু দিতে পেরেছি এবং মানুষের মাঝে পরিচিতি অর্জন করেছি এটাই আমার আনন্দ। নির্বাচিত জন প্রতিনিধিসহ সমাজের একশ্রেণীর মানুষের কাছে আমার সুনাম আছে শুনে ভাল লাগে। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়ে জানান, আমাকেসহ এই বাহিনীর প্রায় ১২শত কমান্ডারকে সরকারী ভাতার আওতায় এনেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেজন্য আমাদের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ ধন্যবাদ। তিনি আরো বলেন, আশা করছি যতদিন শরীরে শক্তি আছে, ততদিন দেশ ও সমাজের কাজের নিজকে নিয়োজিত রাখবো।”

এদিকে গ্রামবাসীরা জানান, নিজ গ্রামের শান্তি রক্ষায় কমান্ডার মোহাম্মদ উল্যাহর মতো লড়াকুদের জন্ম যদি যুগে যুগে না হয় তবে দেশ ও মানব সভ্যতা অনেক সুন্দর থেকে বঞ্চিত হবে। সমাজে ভিন্ন কাজের জন্য কমান্ডার মোহাম্মদ উল্যাহরা একটি উদহারণ।

লক্ষ্মীপুরের ব্যক্তিত্ব আরও সংবাদ

নারী এমপি পদে আলোচনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিয়োগ পেলেন লক্ষ্মীপুরের কৃতি সন্তান ডা. আমান

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হলেন লক্ষ্মীপুরের ইসমাইল জবিউল্লাহ

পানিসম্পদ মন্ত্রী হলেন, লক্ষ্মীপুরের এ্যানি

জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের প্রশিক্ষণ সম্পাদক হলেন, লক্ষ্মীপুরের তাপিত

১৮৪ দেশ ভ্রমণ করে ইতিহাস গড়লেন লক্ষ্মীপুরের মেয়ে নাজমুন নাহার

Lakshmipur24 | লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ে নিবন্ধিত নিউজপোর্টাল  
 All Rights Reserved : Lakshmipur24 ©2012- 2026
Editor & Publisher: Sana Ullah Sanu
Muktizudda Market (3rd Floor), ChakBazar, Lakshmipur, Bangladesh.
Ph:+8801794822222, WhatsApp , email: news@lakshmipur24.com