নিজস্ব প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের হুইপ হলেন, লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-শিল্প বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান। সোমবার (২ মার্চ) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সংসদ সচিবালয়ের সচিব সই করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় লাভ করে বিএনপি।
হুইপ কী
‘হুইপ’ শব্দের অর্থ হতে সচেতক। সরকার দলীয় হুইপ তাদের সংসদ সদস্যদের সম্মতিক্রমে নির্বাচিত হন। আর বিরোধী দলের হুইপ তাদের সংসদ সদস্যদের সম্মতিক্রমে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপন জারি করে সংসদ সচিবালয়।
যেসব দায়িত্ব পালন করেন হুইপরা
হুইপরা হলেন দলের এনফোর্সার্স। মানে সংসদে একটা রাজনৈতিক দলের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করাই তাদের কাজ। এজন্য তাকেও সংসদের সদস্য হতে হয়। অধিবেশনে দলের সহকর্মীদের উপস্থিত নিশ্চিত করেন তারা। কোনো বিল উত্থাপন করলে সেই বিল পাস করতে দলের পক্ষে ভোট জোগাড় করেন। যে সদস্যরা দলীয় নীতির বিরুদ্ধে ভোট দেন তাদের বহিষ্কারও করতে পারেন হুইপরা।
হুইপরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পান
আইন অনুযায়ী, হুইপরা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা ও তাদের সমপরিমাণ বেতন, ভাতা ও অন্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। একজন প্রতিমন্ত্রীর মাসিক বেতন ৯২ হাজার টাকা। দায়িত্ব পাওয়ার পর একজন মন্ত্রী সরকারি ব্যয়ে একটি সুসজ্জিত বাসভবন পান বিনা ভাড়ায়। প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীও একই সুবিধা পেয়ে থাকেন। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা গণপূর্ত থেকে আবাসন সুবিধা পেলেও চিফ হুইপ ও হুইপরা পান সংসদ সচিবালয় থেকে।
নিজ এলাকার মসজিদ, মন্দির উন্নয়নসহ এলাকার মানুষের দাতব্য কাজে একজন প্রতিমন্ত্রী বছরে পাবেন সাড়ে ৭ লাখ টাকা। এ টাকার মধ্যে প্রতিমন্ত্রী চাইলে একজন ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার টাকা দিতে পারেন। একজন প্রতিমন্ত্রীর দফতরে দেশি-বিদেশি অনেকে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন। নির্বাচনী এলাকার মানুষও দেখা করতে আসেন। তাদের আপ্যায়নের জন্য একজন প্রতিমন্ত্রী মাসে সাড়ে ৭ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন। বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী বছরে বীমা সুবিধা পাবেন ১০ লাখ টাকা।
মন্ত্রিসভার সদস্যরা অসুস্থ হলে তার পুরো চিকিৎসা খরচ সরকার বহন করে। এক্ষেত্রে বলা আছে, চিকিৎসা খরচ সীমাহীন। সরকার তার পুরো চিকিৎসার খরচ দেবে। তবে খরচের ভাউচার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে হবে।
দায়িত্ব পাওয়ার পর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী সরকারি খরচে একটি করে গাড়ি সুবিধা পেয়ে থাকেন। এই গাড়ি পরিবহন পুল সরবরাহ করে। তবে চিফ হুইপ ও হুইপদের গাড়ি সরবরাহ করে সংসদ সচিবালয়। এছাড়া সরকারি প্রয়োজনে ভ্রমণের সময় তারা মন্ত্রণালয়ের অধীনে যেকোনো সংস্থা বা দফতর থেকে একটি জিপ গাড়ি পাবেন। জ্বালানি বাবদ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী দৈনিক ১৮ লিটার জ্বালানি তেলের সমপরিমাণ অর্থ পাবেন। চিফ হুইপ ও অন্য হুইপরাও এ সুবিধা পাবেন। একজন প্রতিমন্ত্রী দেশের ভেতরে কোথাও ভ্রমণে গেলে দৈনিক ভাতা পাবেন দুই হাজার টাকা করে। হুইপও এই সুবিধা পাবেন।
সরকারি বাড়ি সাজসজ্জা করতে একজন প্রতিমন্ত্রী বছরে পাবেন ৪ লাখ টাকা। এছাড়া মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের বাসভবনে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিফোন ব্যয় যা আসবে, সরকার পুরোটাই বহন করবে।
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উপসচিব পদমর্যাদার একজন একান্ত সচিব (পিএস) পাবেন। এর বাইরে একজন সহকারী একান্ত সচিব এবং সরকারি কর্মকর্তার বাইরে নিজের পছন্দের একজন সহকারী একান্ত সচিব পেয়ে থাকেন। এছাড়া দুইজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, একজন জমাদার, একজন আরদালি, দুইজন অফিস সহায়ক ও একজন পাচক পেয়ে থাকেন। প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী একজন একান্ত সচিব, একজন ব্যক্তিগত সহকারী, একজন জমাদার, একজন আরদালি ও একজন অফিস সহায়ক পেয়ে থাকেন। এছাড়া মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা একটি করে মোবাইল ফোন পাবেন। এসব সুবিধা চিফ হুইপ ও হুইপরাও পাবেন।



0Share