কামরুল হাসান হৃদয়: পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে জমে উঠেছে লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার মেঘনার তীর। ঈদ উপলক্ষে সেখানে নেমেছে পর্যটকদের ঢল, হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা ভিড় করছেন এখানে। নদী আর নদীপাড়ের মনোরম দৃশ্যই তাদের প্রধান আকর্ষণ। অনেকেই নদীর পাড়ে নোঙর করা নৌকা বা স্পিডবোটে চড়ে ছুটে যাচ্ছেন মাঝনদীর চরে। জনপ্রতি ১০০ টাকা ভাড়ায় এসব চরে যাতায়াত করা যাচ্ছে।
নদীর পাড়জুড়ে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী খাবারের দোকান। ফুচকা, বেলপুরি, চটপটি, ঝালমুড়ি, পেয়ারা, শরবত ও বাদামসহ নানা ধরনের স্ন্যাকসের দোকানে দেখা যাচ্ছে উপচে পড়া ভিড়। ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারাও ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতা সামলাতে।
পাশের জেলা নোয়াখালী থেকে ঘুরতে আসা রাজু বলেন, প্রতি বছর ঈদে বন্ধুদের নিয়ে এখানে আসি। এই জায়গার পরিবেশ সবসময়ই অন্যরকম ভালো লাগে।
তৃণা দাস নামে এক দর্শনার্থী বলেন, ঈদ মুসলমানদের উৎসব হলেও এর আনন্দ সবার। তাই পরিবার নিয়ে এই আনন্দে শামিল হতে এখানে আসা।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এলাকায় কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল চোখে পড়েছে পুরো এলাকায়। সেনাবাহিনীর সদস্য আক্তারুজ্জামান বলেন, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিয়মিত টহল দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে পার্কিং ব্যবস্থা। মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও সিএনজি পার্কিং করতে ২০ থেকে ৪০ টাকা নেওয়া হচ্ছে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য।
স্থানীয়রা জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এমন ভিড় থাকে, যা পুরো এলাকাকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
মহিন নামে এক বাদাম বিক্রেতা বলেন, এই সময়ে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার টাকার মতো বিক্রি হয়। আর সিরাজ নামে এক হোটেল ব্যবসায়ী জানান, ঈদের সময়ে দৈনিক ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, যা তাদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে।
জেলার আলেকজান্ডার মেঘনা বিচ ছাড়াও মতিরহাট, মাতাব্বরহাট, নাছিরগঞ্জ, আলতাফ মাস্টার ঘাট, রাহুল ঘাট, সাজু মোল্লার ঘাট ও মজুচৌধুরীর হাটসহ মেঘনাপাড়ের বিভিন্ন স্থান ঈদে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
এ ছাড়া ঐতিহ্যবাহী দালালবাজার খোয়াসাগর দীঘি, জমিদার বাড়ি, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ মাঠও অবকাশ যাপনের জন্য জমে ওঠে এ সময়। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর পৌর শিশুপার্ক, কুশাখালী স্টার পার্ক, মজুচৌধুরীর হাট রিসাইকেল পার্ক, গ্রীন এগ্রো পার্ক এবং রামগঞ্জের প্রোভিটা পার্কেও সব বয়সী মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।



0Share