নিজস্ব প্রতিনিধি: শ্বশুরবাড়ী থেকে যৌতুকের দাবিকৃত ৮০ হাজার টাকা না এনে দেয়ায় নিজ স্ত্রী তাহেরা ইয়াসমিনকে (৩০) পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা করে পাষন্ড স্বামী আব্দুল মজিদ সরদার। মজিদ রায়পুর উপজেলার ছয়বাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। মঙ্গলবার রাতে পার্শ্ববর্তী গ্রামে মজিদের শ্বশুর বাড়িতে এ ঘটনা
ঘটে। বর্তমানে ইয়াসমিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের বিছানায় মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। বুধবার বিকালে দগ্ধ তাহেরা ইয়াসমিনের মা নাঈমা বেগম জানান, তাদের পার্শ্ববর্তী গ্রামের আবদুল মজিদের সঙ্গে ১০ বছর আগে তার মেয়ের বিয়ে হয়। ওই সময় কিছু ফার্নিচার দেয়ার কথা ছিল। সেই সঙ্গে একটি দোকার দেয়ার জন্য ৮০ হাজার টাকা দাবি করে মজিদ। কিন্তু তা দিতে না পারায় তাহেরাকে প্রায়ই মারধর করে নির্যাতন করতো সে।
মারধরে অতিষ্ট হয়ে তাহেরা গত ৯ রমজান বাবার বাড়ি চলে আসে। গত মঙ্গলবার বিকেলে তাহেরাকে নিতে আসেন আবদুল মজিদ। ঝগড়া-বিবাদের এক পর্যায়ে সেখানেও স্ত্রীকে মারধর করে। তাই এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাহেরাকে মজিদের সঙ্গে যেতে দেয়নি। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে মজিদ। ওই রাতেই কৌশলে শ্বশুর বাড়িতে ঢুকে ইয়ামিনের রুমে গিয়ে ঘুমন্ত ইয়াসমিনের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এ সময় ইয়াসমিনের চিৎকার শুনে পাশের রুম থেকে তার মা-বাবা তাকে উদ্ধার করে বাড়ীর পুকুরে নিয়ে আগুন নিভায়। পরে ইয়াসমিনকে লক্ষ্মীপুর সদর হাতপাতালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তার অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে পাঠান। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছে তাহেরা ইয়াসমিনের শরীরের ২২ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করার জন্য বলা হয়েছে।
ইয়াসমিনের রুম থেকে একটি সেভেন-আপের বোতল পাওয়া গেছে, যেটাতে করে পেট্রোল আনা হয়েছিল।
রায়পুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন ভূইয়া বলেন, এ ঘটনাটি থানা পুলিশকে কেউ জানায়নি। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



0Share