নিজস্ব প্রতিনিধি: কমলনগর উপজেলার চরফলকন ইউনিয়ন (ইউপি) পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সোমবার (১ আগষ্ট) দুপুরে জেলা সিনিয়র স্পেশাল জজ ও দূর্নীতি দমন ট্্রাইব্যুনালে কমলনগরের চর ফলকন গ্রামের জেলে মো. ফারুক বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। এতে ম্যসৎজীবি জেলেদের জন্য বরাদ্ধ বিশেষ ভিজিএফের চাল ও অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচীর টাকা আত্মাসাতের অভিযোগ আনা হয়।
বাদীর আইনজীবি এম এ মালেক বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য নোয়াখালী দূর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্র জানায়, জাটকা ও মা ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা ম্যসৎজীবি জেলে পরিবারের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য সরকার চাল বরাদ্ধ দেয়। এ লক্ষ্যে উপজেলার চর ফলকন ইউনিয়নে গত মে ও জুন মাসে ২৩.২০০ মেট্রিক টন করে বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচীর আওতায় চাল বরাদ্ধ আসে। ওই ইউনিয়নের কার্ডধারী ৫৮০ ম্যসৎজীবি জেলে পরিবার রয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ বরাদ্ধকৃত চাল উত্তোলন করলেও যথা নিয়মে নির্দেশিত উপায়ে জেলেদের মধ্যে তা বিতরণ করেননি। ওই দুই মাসের একসাথে বিতরণ দেখিয়ে কিছু সংখ্যক জেলের মধ্যে চাল বিতরণ করেন। অবশিষ্ট চাল বিতরণ না করে মাষ্টার রোল ও রেজিষ্ট্রারে তালিকাভূক্ত জেলেদের টিপ ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করা হয়। পরে ওই সরকারি চাল তিনি বিক্রি করে টাকা আত্মাসাৎ করেছেন। এজাহারে ৫০ জন তালিকাভূক্ত ম্যসৎজীবি জেলেকে সাক্ষী করা হয়।
আরো অভিযোগ আনা হয়,২০১৫-১৬ অর্থ-বছরে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী ২য় পর্যায়ের আওতায় চরফলকনে তিনটি রাস্তা মেরামতের প্রকল্প অন্তভূক্ত হয়। ইউনিয়নের কলেজ রাস্তা মেরামতের জন্য ৪৬ শ্রমিকে বিপরীতে ৩ লাখ ৩৮ হাজার, মাতাব্বর হাট থেকে জাজিরা রাস্তা মেরামতের জন্য ৫০ শ্রমিকের বিপরীতে ৪ লাখ এবং হাইস্কুল রাস্তা মেরামতের জন্য ৩০ শ্রমিকের বিপরীতে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্ধ হয়। এসব রাস্তায় কোন কাজ না করেই চেয়ারম্যান টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।
মামলার বাদী মো. ফারুক বলেন, দূর্নীতিবাজ ইউপি চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ তালিকাভূক্ত জেলেদের চাল না দিয়ে আত্মসাৎ করেছে। তিনি তিনটি রাস্তা মেরামতের কোন কাজ না করেই সরকারি টাকা উত্তোলন করে পকেট ভারি করেছেন। এসব ঘটনার সাক্ষি রয়েছে। তার উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।
এ ব্যাপারে চরফলকন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, আমার বিরুদ্ধে মামলায় আনিত অভিযোগ মিথ্যা। মূলত, ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীতার বিরোধের জের ধরে একটি মহল চক্রান্ত করছে। তারা হয়রানি করতে পরিকল্পিতভাবে মামলা দায়েরসহ বিভিন্ন অপ-প্রচার চালাচ্ছে।



0Share