সব কিছু
facebook lakshmipur24.com
লক্ষ্মীপুর সোমবার , ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৬শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
লক্ষ্মীপুর-১ | অতীতের হিসাব আর বর্তমান মাঠে এগিয়ে ধানের শীষ

লক্ষ্মীপুর-১ | অতীতের হিসাব আর বর্তমান মাঠে এগিয়ে ধানের শীষ

লক্ষ্মীপুর-১ | অতীতের হিসাব আর বর্তমান মাঠে এগিয়ে ধানের শীষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোরমেঘনার উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর। কৃষি ও মৎস্য সম্পদের জন্য এ জেলা সারাদেশে সুপরিচিত। কৃষি, মৎস্য সম্পদের পাশাপাশি এ জেলাবাসীর আয়ের প্রধান উৎস প্রবাসের কর্মসংস্থান। স্বাধীনতার পর থেকে শত চেষ্টা করেও জেলাবাসী উন্নত সড়ক অবকাঠামো, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, উচ্চ শিক্ষা এবং স্থানীয় ভাবে কলকারখানা স্থাপন করে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেনি। 

এর মাঝে রাজনৈতিক সন্ত্রাস কবলিত জনপদ হিসেবে লক্ষ্মীপুর সারাদেশে পরিচিতি পেয়েছে। এখন জেলার এমন কোন গ্রাম নেই যেখানে হাত বাড়ালেই মাদক মিলছে না।

তাই ভোটাররা সবসময়ই চায় যোগ্য ও জনবান্ধব জনপ্রতিনিধি, যারা নির্বাচিত হলে দূর করতে পারবে মাদক ও সন্ত্রাস এবং উন্নয়ন আসবে জনপদে। কিন্ত সে জনপ্রতিনিধি এখনো পাওয়া যায়নি। তাই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে এখন সবার প্রত্যাশা।

আসনের বিবরণ:

লক্ষ্মীপুর জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রামগঞ্জ। জাতীয় সংসদে এর নাম লক্ষ্মীপুর-১ এবং আসন নম্বর ২৭৫।

আয়তন ও জনসংখ্যা:

৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনের জনসংখ্যা ৩ লাখ ১৩ হাজার। যার মধ্যে শিক্ষার হার প্রায় ৮২.৯০%। এখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি কিলোমিটারে ১৮শ ৫০ জন।

মানুষের  সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা:

লক্ষ্মীপুর জেলার অন্যান্য আসনের তুলনায় এ আসনের অবস্থা বেশ উন্নত ও গতিশীল। ধান, নারিকেল, সুপারি, বৈদেশিক রেমিটেন্স এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর ভিত্তি করে এখানকার অর্থনীতি গড়ে উঠেছে। এলাকার বেশির ভাগ পুরুষ প্রবাসী এবং ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসা বাণিজ্য করছেন। এলাকায় জুড়ে অসংখ্য রাস্তাঘাট এবং শতভাগ বিদ্যুৎ রয়েছে। মাদক এখানকার তরুণদের জন্য প্রধান হুমকি। 

এখানকার হিন্দু মুসলিম সম্পর্ক দারুণ। এলাকায় বেশ কিছু মাজার ও ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে, যা এর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহন করে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটার ও কেন্দ্র

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে ভোটার ২ লাখ ৭৪ হাজার ২শ ৬১ জন। নারী ভোটার ১ লাখ ৩৬ হাজার ২শ ৪৬ জন। ভোট কেন্দ্র ৯৩টি।

বিগত নিরপেক্ষ নির্বাচনে রাজনৈতিক অবস্থান 

বাংলাদেশে বিগত সময়ে যতগুলো নির্বাচন হয় তার মধ্যে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা পূর্ণ নির্বাচন ছিল ৪টি। সে নির্বাচনগুলোতে বিএনপি, জামায়াত, আওয়ামীলীগ এবং জাতীয় পার্টি অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে ১৯৯১ সালের নির্বাচন এবং নির্দলীয় সরকারের অধীন ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচন ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্ধিতা পূর্ণ নির্বাচন। এ নির্বাচনগুলো নিয়ে কারো দ্বিমত ছিল না। তাই বাংলাদেশের যে কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের সংখ্যা নির্ধারণে এখনো সেই নির্বাচনগুলোকেই ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।

তবুও ২০১১ সালে সাবেক আওয়ামীলীগ সরকার নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে। এরপর ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে যে নির্বাচন হয়, তা ছিল মূলত একদলীয় এবং কারচুপিপূর্ণ ও বির্তকিত ভোট।

অন্যদিকে ২০১৪ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহন করেনি। কিন্ত বিএনপি অংশ গ্রহন করলেও ২০১৮ সালের নির্বাচনটি রাতের ভোট হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেলেও আওয়ামীলীগ দাবি করে তাদেরকে ৮০ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছে।

তাই প্রতিদ্বন্ধিতা বোঝার জন্য ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৪টি নির্বাচনকে ভিত্তি ধরে তথ্য বিশ্লেষণ এবং আসন্ন ২০২৬ সালের নির্বাচনের মাঠ দেখে লক্ষ্মীপুর জেলার ৪টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভোট ব্যাংক চিত্র তুলে ধরা হলো।

১৯৯১-২০০৮ সাল পর্যন্ত বিএনপির ভোট কত ছিল ?

১৯৯১ সাল : ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির জিয়াউল হক জিয়া পায় ৪০.৫৬% ভোট।

১৯৯৬ সাল : ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির জিয়াউল হক জিয়া পায় ৪৩.৯২% ভোট।

২০০১ সাল : ধানের শীষ প্রতীকে জিয়াউল হক জিয়া পায় ৬৫.৯২% ভোট।

২০০৮ সাল : ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির নাজিম উদ্দিন আহমেদ পায় ৫৫.৬৭% ভোট।

১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮ সালের এ ৪টি নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিএনপির প্রাপ্ত ভোটের গড় ছিল ৫১.৫২ % ।

১৯৯১-২০০৮ সাল পর্যন্ত জামায়াতের ভোট কত ছিল ?

১৯৯১ সাল : দাড়িঁপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের লুৎফুর রহমান পায় ১৮.৪৫ % ভোট।

১৯৯৬ সাল : দাড়িঁপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা লুৎফুর রহমান পায় ১৩.৫৯ % ভোট।

২০০১ সাল : প্রার্থী ছিল না।

২০০৮ সাল : প্রার্থী ছিল না।

১৯৯১, ১৯৯৬ সালের এ ২ টি নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রাপ্ত ভোটের গড় ছিল ১৬.০২ % । 

১৯৯১-২০০৮ সাল পর্যন্ত আওয়ামীলীগের ভোট কত ছিল ?

১৯৯১ সাল:নৌকা প্রতীকে আওয়ামীলীগের উকিল সুলতান আহমেদ পায় ১০.৫০% ভোট।

১৯৯৬ সাল: নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের শফিকুল ইসলাম পায় ২৬.৫০% ভোট।

২০০১ সাল: নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের মোঃ শাহজাহান আজান পায় ৩০.৯৯% ভোট।

২০০৮ সাল: নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের মোঃ শাহজাহান পায় ৪১.১৮% ভোট।

১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮ সালের এ ৪টি নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-১ আসনে আওয়ামীলীগের প্রাপ্ত ভোটের গড় ছিল ২৭.৩০%।

  

১৯৯১-২০০৮ সাল পর্যন্ত জাতীয়পার্টির ভোট কত ছিল ?

১৯৯১ সাল: লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির সিরাজুল ইসলাম পায় ১২.৬৭ % ভোট।

১৯৯৬ সাল: লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মনির আহমেদ পায় ১৪.৩৬% ভোট।

 ২০০১ সাল: লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মাহমুদুর রহমান পায় ২.৪৬ % ভোট।

২০০৮ সাল: প্রার্থী ছিল না।

১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে এ ৩টি নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-১ আসনে জাতীয়পার্টির প্রাপ্ত ভোটের গড় ছিল ৯.৮৩% ভোট।

লক্ষ্মীপুর-১ আসনে ইসলামী আন্দোলনের ভোট কত ?

২০০৮ সাল: হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল কবির পায় ১.৩৯% ভোট।

বিগত ৪টি নির্বাচনের তথ্যানুসারে জানা দেখা গেছে বিগত ৪টি নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির গড় ভোটের পরিমাণ ৫১.৫২%, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভোট ১৬.০২%, আওয়ামীলীগের গড় ভোট ২৭.৩০%, জাতীয়পার্টির ভোট ৯.৮৩% এবং ইসলামী আন্দোলনের ১.৩৯% ভোট।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কোন দলের অবস্থান কেমন?

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে ৭ জন প্রার্থী রয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির শাপলা কপি প্রতীকে মোঃ মাহবুব আলম, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকে জাকির হোসেন পাটওয়ারী, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মাহমুদুর রহমান মাহমুদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের মই প্রতীকে বিল্লাল হোসেন, গণ অধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকে কাউছার আলম, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন -এনডিএম’র সিংহ প্রতীকে আলমগীর হোসাইন।

স্থানীয় বিভিন্ন দলের কর্মী সমর্থক এবং সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,  এখানে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই হবে তিনজনের মধ্যে। এরা হলেন বিএনপির শাহাদাত সেলিম, এনসিপির মাহবুব ও ইসলামী আন্দোলনের জাকির হোসেন। তবে অতীতের সকল পরিসংখ্যানে এখন পর্যন্ত এ আসনে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি।

পানিয়ালা, হরিশ্চর, হোটাটিয়া, কাঞ্চনপুর এবং রামগঞ্জ শহরের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার কয়েকজন ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে ভোটে প্রধান লড়াই হবে ধানের শীষ ও শাপলা কলির মধ্যে।

কাঞ্চনপুর গ্রামের ৩জন যুবকের সাথে কথা হয়। ভোট বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, এ আসনে বর্তমানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় অনেক চাঙ্গা । তবে বিএনপির অতীতের ভোট ব্যাংকে থেকে জামায়াতে কনভার্ট হওয়া লোকের সংখ্যা তেমন বেশি নেই।

তাই নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকবে। তাদের ধারণা নতুনদের মাঝে জামায়াত কিংবা এনসিপির প্রতি ঝোঁক থাকলেও এ আসনে ধানের শীষের পুরাতন যে ৫১.৫২% ভোট ব্যাংক রয়েছে সেটা কিন্ত পরিবর্তন হয়নি। খুব বড় পরিসরে কেউ দল পরিবর্তনও করেনি।

আবার আওয়ামীলীগের যে বড় ভোট ব্যাংক তৈরি হয়েছিল সেটাও বলা যাবে না।

হরিশ্চর এলাকার ৫-৬ জন যুবক জানায়, বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া সর্বশেষ ২০২৪ এর নির্বাচনে রামগঞ্জ আসনে ভোট কাস্ট হয়েছিল ২৩.৬৭% । মানে সে ভোটেরও সবগুলো আওয়ামীলীগের ছিল না। এ যুবকদের ধারণা বিএনপির ভোটের কোন পরিবর্তন হয়নি। তাদের ধারণা জামায়াতের জোট প্রতীক শাপলা কলির সাথে ধানের শীষের তীব্র ও মধুর লড়াই হবে । তবে শেষ বিজয়টা হবে ধানের শীষের।

এদিকে সাধারণ আওয়ামীলীগের সমর্থক বা কর্মীরা যদি ভোটে যায় তাহলে কোন দলের পাল্লা ভারী হতে পারে ? এমন প্রশ্নে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন আওয়ামী লীগের সমর্থক জানায়, আওয়ামীলীগ হয়তো কেন্দ্রে যাবে না। যারা যাবে তাদের মধ্যেও বেশির ভাগ ভোটার হয়তো বিএনপির প্রার্থীকে ভোট দিবে।

সংসদ নির্বাচন আরও সংবাদ

লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী

লক্ষ্মীপুর কারাগারে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন ১৮জন বন্দি

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন | লক্ষ্মীপুরের ৪টি আসনে লড়ছেন ২৯ প্রার্থী

লক্ষ্মীপুর জেলার ১৬ লাখ ২১ হাজার ভোটার ভোট দিবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে

লক্ষ্মীপুরের ৪টি আসনে ২৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ, বাতিল ১০

লক্ষ্মীপুরে ৩৫ প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল

Lakshmipur24 | লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ে নিবন্ধিত নিউজপোর্টাল  
 All Rights Reserved : Lakshmipur24 ©2012- 2026
Editor & Publisher: Sana Ullah Sanu
Muktizudda Market (3rd Floor), ChakBazar, Lakshmipur, Bangladesh.
Ph:+8801794822222, WhatsApp , email: news@lakshmipur24.com