নিজস্ব প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর: লক্ষ্মীপুর জেলার ৪টি সংসদীয় আসনে ভোট শেষে বেসরকারি ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে চারটি আসনেই ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৩টার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান এ ফল ঘোষণা করেন।
লক্ষ্মীপুর -১ (রামগঞ্জ) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে শাহাদাত হোসেন সেলিম। তার প্রাপ্ত ভোট ৮৬ হাজার ৮১১। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির মাহবুব আলম পেয়েছেন ৫৯ হাজার ২৬৫ভোট। রাত ১১টার দিকে এনসিপি’র প্রার্থী মাহবুব আলম ফলাফল মেনে নিয়ে ফেসবুকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই আসনে ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকে মোঃ জাকির হোসেন পেয়েছেন ১১ হাজার ১৫৬ ভোট। এ আসনে ২ লাখ ৮১ হাজার ৩০২ ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ৬২ হাজার ৯৬২ ভোটার ভোট প্রদান করে। প্রদত্ত ভোটের হার ৫৭.৯৩%।
এদিকে গণভোটে ১ লাখ ১৭শ ৫৮ জন হ্যাঁ এবং ৪৭ হাজার ৯শ ৯৬জন না ভোট প্রয়োগ করে। গণভোটে ১৩ হাজার ২০৮ ভোট বাতিল হয়।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান মাহমুদ ৪শ ১৪ ভোট, সিংহ প্রতীকে জাতীয়বাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম এর মোঃ আলমগীর হোসেন ১শ ৬ ভোট, ট্রাক প্রতীকে গণঅধিকার পরিষদের মোঃ কাউছার আলম ১শ ১৫ ভোট, মই প্রতীকে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর মোঃ বিল্লাল হোসেন ২শ ৩ ভোট পান।
লক্ষ্মীপুর -২ (রায়পুর) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে আবুল খায়ের ভূইঁয়া। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩২১। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর দাড়িঁপাল্লা প্রতীকে এসইউএম রুহুল আমিন ভূইঁয়া পেয়েছেন ১লাখ ৩৩ হাজার ৬৯৮ ভোট। একই আসনে ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকে মোঃ হেলাল উদ্দিন পেয়েছেন ৬ হাজার ৭৭৪ ভোট। এ আসনে ৪ লাখ ৯৪ হাজার ২৬ ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ৯৭ হাজার ২৭০ ভোটার ভোট প্রদান করে। প্রদত্ত ভোটের হার ৬০.১৭%।
এদিকে গণভোটে ১ লাখ ৯০ হাজার ৩৬৯ জন হ্যাঁ এবং ৭৪ হাজার ১শ ৪৫জন না ভোট প্রয়োগ করে। গণভোটে ৩২ হাজার ৩৯৭ ভোট বাতিল হয়।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে কেটলী প্রতীকে নাগরিক ঐক্যের মোহাম্মদ রেজাউল করিম ২শ ৫৩ ভোট, একতারা প্রতীকে বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টি(বিএসপি) এর মোঃ ইব্রাহীম মিয়া ১৭শ ৮০ ভোট, ট্রাক প্রতীকে গণঅধিকার পরিষদের মোঃ আবুল বাশার ৪শ ২৪ ভোট, হাতঘড়ি প্রতীকে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ২শ ৮৮ ভোট পান।
লক্ষ্মীপুর -৩ ( সদর) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬১২। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর দাড়িঁপাল্লা প্রতীকে ডক্টর রেজাউল করিম পেয়েছেন ১লাখ ২২ হাজার ৮০২ ভোট। একই আসনে ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকে মোঃ ইব্রাহীম পেয়েছেন ৫ হাজার ৫১ ভোট। এ আসনে ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৪৭৩ ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ৭২হাজার ৪৩০ ভোটার ভোট প্রদান করে। প্রদত্ত ভোটের হার ৬১.২৯%।
এদিকে গণভোটে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫০৮ জন হ্যাঁ এবং ৬৮ হাজার ২শ ৩০জন না ভোট প্রয়োগ করে। গণভোটে ২৮ হাজার ৮৩৪ ভোট বাতিল হয়।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির একেএম মহি উদ্দিন ১৩শ ৩৯ ভোট, ছাতা প্রতীকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মোঃ শামছুদ্দিন ৪শ ৮৮ ভোট, আম প্রতীকে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি এর সেলিম মাহমুদ ২শ ৮৯ ভোট পান।
লক্ষ্মীপুর -৪ (রামগতি কমলনগর) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে শহীদ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ১৫ হাজার ১৯৯। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর দাড়িঁপাল্লা প্রতীকে এআর হাফিজ উল্লাহ পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৭৫৬ ভোট। একই আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির তারা প্রতীকে তানিয়া রব পেয়েছেন ২২ হাজার ৪০ ভোট, ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকে মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ পেয়েছেন ২১ হাজার ১০৩ ভোট। এ আসনে ৪ লাখ ১৮ হাজার ১৫৮ ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ৪০ হাজার ৯৬৭ ভোটার ভোট প্রদান করে। প্রদত্ত ভোটের হার ৫৭.৬৩%।
এদিকে গণভোটে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৪৩ জন হ্যাঁ এবং ৬০ হাজার ৩শ ৭৮জন না ভোট প্রয়োগ করে। গণভোটে ৩৪ হাজার ৩৫০ ভোট বাতিল হয়।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ট্রাক প্রতীকে গণঅধিকার পরিষদের মোঃ রেদওয়ান উল্লাহ ২শ ৫৯ ভোট, মই প্রতীকে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর মিলন কৃষ্ণ মন্ডল ৪শ ৪০ ভোট পান।



0Share