নিজস্ব প্রতিনিধি: সারা দেশের ন্যায় লক্ষ্মীপুর জেলাব্যাপী অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘটে সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। যানবাহনের নিরাপত্তার অজুহাতে পরিবহন মালিক সমিতির হঠাৎ সিদ্ধান্তে আজসহ দুদিন লক্ষ্মীপুর থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। লক্ষ্মীপুরের সঙ্গে দেশের যোগাযোগব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। শনিবার বিকেল পর্যন্ত লক্ষ্মীপুরের ৫ উপজেলার অভ্যন্তরিন সড়কে সিএনজি, অটো রিকসা ছাড়া দূরপাল্লার গণপরিবহন রাস্তায় নামেনি। শুক্রবার (৩আগষ্ট) সকাল থেকেই এ কর্মসূচি পালন করছেন পরিবহন শ্রমিক ও মালিককরা। এদিকে বাস বন্ধ থাকায় বিভিন্ন উপজেলার স্থানীয় কাউন্টারে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকাগামি যাত্রীরা বিকল্প পথে যেতে পারলেও চট্টগ্রামগামি যাত্রীরা পড়েছেন সংকটে।
এদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘দেশে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনকে আমরা সমর্থন করি। কিন্তু সড়কে আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। আমরা যখন নিরাপদ বোধ করব তখন রাস্তায় গাড়ি নামাব। তবে এটা আমাদের আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচি নয়।’
শনিবার (৪ আগস্ট) সকালে জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাজী শাহজাহান বলেন, শুক্রবার থেকে লক্ষ্মীপুরে দূর-পাল্লার যানবাহন বন্ধ ছিল। তবে এটি ইউনিয়নের কর্মসূচির কারণে নয়। কেন্দ্র থেকে আমাদের কোনো কর্মসূচির জন্য বলা হয়নি। কেবল যানবাহনের নিরাপত্তার উদ্দেশ্যেই মালিকরা বাস বন্ধ রেখেছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্ঘটনায় নরহত্যার জন্য বাসচালক ও তাদের সহকারীর মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজার বিধান রেখে যে সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া করা হয়েছে তার প্রতিবাদে শুক্রবার থেকে সারা দেশে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন মালিক-শ্রমিকরা। শুক্রবার সকালে ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় বাস চলাচল বন্ধের ডাক দেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। সড়ক পরিবহন আইনটি আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপন করা হবে। সংসদের পরবর্তী অধিবেশনেই আইনটি পাসের চেষ্টা করছে সরকার।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের উদ্যোগের কারণেই নিরাপত্তার অজুহাতে সারা দেশের পরিবহন বন্ধ রেখেছে মালিক সমিতি। এর আগেও তারা হঠাৎ ধর্মঘট ডেকে সরকারকে বিভিন্ন উপায়ে চাপ দেয়।
শিক্ষার্থীদের দাবি নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন। প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উত্থাপন হবে মন্ত্রিসভায়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ বৃহস্পতিবারই পাঠানো হয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে। একই দিন গাড়ি চালানো বন্ধ রাখেন পরিবহন নেতারা।

এর আগে গত বছরের ২৭ মার্চ প্রস্তাবিত নতুন আইনের খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। তখনো দেশজুড়ে কর্মবিরতিতে যান শ্রমিকরা। এ আইন বাতিলের দাবিতে শ্রমিক ফেডারেশনের কর্মসূচি অনুযায়ী ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের সব জেলায় বাস, মিনিবাস, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। একই পদ্ধতিতে শুক্রবার থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন মালিক-শ্রমিকরা। মালিক সমিতি বলেছে, ভাঙচুরের ভয়ে চালক-হেলপাররা রাস্তায় গাড়ি বের করছেন না।
তবে এ নিয়ে সাধারণ মানুষ বলছে, গাড়ির বৈধ কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলে চালকদের রাস্তায় কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না। অনেকে বলছেন, পরিবহনকর্মীরা কি আইন মানতে রাজি নন?
লক্ষ্মীপুরে ভোগান্তি চরমে : নিরাপদ সড়কের দাবিতে সড়কে টানা আন্দোলনের মধ্যে শনিবার প্রয়োজনে যারা বের হয়েছেন তাদের অটোরিকশা ও রিকশায় অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়েছে। রামগতি-লক্ষ্মীপুর সড়কের একজন বাস চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গাড়ি বের না করতে বৃহস্পতিবার রাতেই মালিকরা নিষেধ করে দিয়েছেন।



0Share