লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সন্দেহের জেরে ‘মাদকাসক্ত’ একদল যুবকের হামলায় আহত কলেজ ছাত্র আশরাফুল ইসলাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল ৩ টার দিকে রাজধানীর গ্রীণ রোডে নিউ লাইফ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও হাজিমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মমিনুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আশরাফুল রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের চরবংশী গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে ও রায়পুর রুস্তম আলী কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের ছাত্র। পুলিশ ও এজাহার জানায়, ১৪ জানুয়ারি রাতে উত্তর চরবংশী গ্রামের ডালি কান্দি এলাকায় সিকদার বাড়ির পূর্ব ডালি কান্দি বিলে নাহিদ বেপারী ও শাহিন বেপারীসহ মামলায় অভিযুক্তরা আশরাফুলের ওপর হামলা করে। এসময় তারা তাকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে আহত ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে।
একপর্যায়ে তারা তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। খবর পেয়ে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় ১৬ জানুয়ারি দুপুরে আশরাফুলের বাবা আজিজুল বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১৬ জনের বিরুদ্ধে রায়পুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযান চালিয়ে শাহিন বেপারীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। অন্য অভিযুক্তরা হলেন নাহিদ বেপারী, হাবিব বেপারী, সুফিয়ান বেপারী, নজু বেপারী, শাকিল বেপারী, সোহাগ বেপারী, মোক্তার পাটওয়ারী, শাকিল পাইক, রাকিব পাইক, শামিম। তারা উত্তর চরবংশীসহ আশপাশ এলাকার বাসিন্দা।
এজাহারে উল্লেখ করা হয় ঘটনার কিছুদিন আগে শাহিনসহ ৩ জনকে মাদকসহ গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। শাহিন সন্দেহ করে আশরাফুল তথ্য দিয়ে তাকে ধরিয়ে দেয়। এতে ১৪ জানুয়ারি জামিনে মুক্ত হয়ে এসেই সে সঙ্গীদের নিয়ে আশরাফুলের ওপর হামলা চালায়। গ্রেপ্তার শাহিন উত্তর চরবংশী গ্রামের বেপারী বাড়ির মোস্তফা বেপারীর ছেলে। আশরাফুলের চাচাতো ভাই ফারহান খান নাদিম বলেন, মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িতরা দলবল নিয়ে আশরাফুলের ওপর হামলা চালায়। তারা আশরাফুলের মৃত্যু নিশ্চিত করতে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে জখম করে।
হামলায় আশরাফুলের মস্তিষ্কে প্রচন্ড জখম হয়। সে হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিল। সেখানেই সে মারা যায়। হাজিমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মমিনুল হক বলেন, গ্রেপ্তার শাহিনসহ অভিযুক্তরা মাদক ব্যবসায় ও সেবনের সঙ্গে জড়িত। ঘটনার কিছুদিন আগে ডিবি পুলিশ শাহিনকে গ্রেপ্তার করে। সে ধারণা করে আশরাফুল তাকে ধরিয়ে দিয়েছে। এতে সে অভিযুক্তদের নিয়ে আশরাফুলের ওপর হামলা চালায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আশরাফুল মারা গেছে। মামলায় অভিযুক্ত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।



0Share