বর্ষায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ভাঙনের শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়েছে হাজারো পরিবার। বিলিন হচ্ছে বসত বাড়ি-ঘর, স্কুল-মাদ্রাসা, ফসলি জমি ও পথঘাট। উপকূলবাসীর দীর্ঘদিনের দাবীর পর ২০২২ সালে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে ৩ হাজার ৮৯ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ হলেও বড়খেরী অংশে বেড়িবাঁধ নির্মাণ দৃশ্যমান ছিল না। তবে, এবার নদী ভাঙন রোধে ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বড়খেরী ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে তড়িৎ গতিতে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরইমধ্যে সে কাজ দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মান, বালি ভর্তি জিও ব্যাগ নদীতে ফেলে এবং পাথর, বালি ও সিমেন্ট জমিয়ে সিসি ব্লক তৈরি করে নদীর পাশে বসিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে টেকসই বেড়িবাঁধ।
এলাকাবাসী জানায়, টেকসই বেড়িবাঁধটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে নদী ভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের বাড়ি-ঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, ফসলি জমি, মাছের ঘের এবং পশু-পাখির ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে না। ছাড়তে হবে না জন্মভিটা, বসতবাড়ি। এছাড়াও এ অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।
বড়খেরী ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা তানসেন দাস জানান, কার্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদাররা বালু ও শ্রমিক সংঙ্কট দেখিয়ে কাজ শুরু না করায় এলাকাটি ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে। নানা অজুহাতে আগের ঠিকাদাররা কাজ করেনি। আগের ঠিকাদারদের বাদ দিয়ে নতুন ঠিকাদার দিয়ে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে, আস্তে আস্তে দৃশ্যমান হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত টেকসই বেড়িবাঁধ।
রামগতি উপজেলার বয়ারচর ব্রীজ থেকে ওচখালী পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার। এরমধ্যে ৬.২ কি.মি বেড়ী বাঁধ করা আছে বাকি ৫.৮ কি,মি. বেড়ী বাঁধ নির্মান করবে পাউবো। এ সাইটের দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এ এম এম নঈম বলেন, বয়ারচর ব্রীজ থেকে ওচখালী পর্যন্ত ওই অংশে দুটো লটে কাজ পেয়েছে ঠিকাদার। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেসিইএল এন্ড কেসিসি জেবি কে গত ১৪ আগস্ট ২০২২ সালে কাজের জন্য কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু তারা শ্রমিক ও বালু সঙ্কট দেখিয়ে গড়িমসি করে সঠিক সময়ে কাজ করেনি। তাই তাদের বাতিল করে গত ডিসেম্বরে দুটো লটের কার্যাদেশ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনডিই কে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে জিও ব্যাগের কাজ শেষ পর্যায়ে। ব্লকের কাজ চলমান, আশা করি বর্ষার আগে আগে বাঁধের কাজ শেষ হয়ে যাবে।



0Share