উপকূলীয় রামগতি উপজেলার ৯৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে বিদ্যালয়ে খাবার পেয়ে উপকূলের বিভিন্ন এলাকার দরিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা মহা খুশি। এ কর্মসূচির আওতায় সুবিধা পাবে উপকূলের প্রায় ১৭ হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থী।
সপ্তাহে পাঁচদিন শিক্ষার্থীদের এ মিল দেয়া হবে। পুষ্টিমান নিশ্চিত করতে খাদ্য তালিকায় থাকছে ফর্টিফাইড বিস্কুট, সেদ্ধ ডিম ও কলা বা মৌসুমি ফল, বনরুটি এবং ২০০ মিলি ইউএইচটি দুধ।
উপস্থিতির হার ৮০শতাংশের উপরে আনা ও ড্রপ আউট হার ১০ শতাংশ কমানো। এ কর্মসূচির লক্ষ্য হচ্ছে দরিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিত এলাকার শিশুদের বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ বৃদ্ধি করা।
বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ডব্লিউএফপির যৌথ আয়োজনে প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। এতে জনপ্রতি ৩৯-৪০ টাকার খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করা, উপস্থিতির হার বৃদ্ধি এবং শ্রেণিকক্ষে শিশুদের মনোযোগ বাড়াতে এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।
সরকারের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা। তাদের মতে, দুপুরের খাবারের দু:শ্চিন্তা দূর হওয়ায় দরিদ্র পরিবারের শিশুরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে আরো উৎসাহিত হবে।
রামগতি স্টেশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আদ্রিকা সাহা মৌলি জানান, স্কুলে খাবার দেওয়ায় খুবই আনন্দ লাগছে। এতদিন বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসতে হতো, এখন তা স্কুলে পাচ্ছি।
ইউএনও সভাপতি ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে সদস্য সচিব করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গত রবিবার উপজেলার আলেকজান্ডার সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিং প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সাজ্জাদ।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবু সাঈদের সঞ্চালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার সায়েদুর রহমান স্বপন, পৌর বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র সাহেদ আলী পটু, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন, সাবেক পৌর কাউন্সিলর সৈয়দ মুর্তজা আল আমিন, উপজেলা যুবদলের সভাপতি শিবলী নোমান, প্রধান শিক্ষক সেলিনা আক্তার, স্বদেশ পল্লী জেলা কোঅর্ডিনেটর ইয়াসির আরাফাত, কোঅর্ডিনেটর মাহবুব উদ্দিন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার সায়েদুর রহমান স্বপন বলেন, উপকূলের শিক্ষার্থীদের সার্বিক পুষ্টিমান উন্নয়ন, মনোযোগ বৃদ্ধি, স্কুল থেকে ঝরে পড়া কমানো এবং উপস্থিতি বাড়ানো এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। এর ফলে দরিদ্র পরিবারের শিশুরা পুষ্টিকর খাবার পাওয়ার পাশাপাশি পড়াশোনার প্রতি শিশুরা আগ্রহী হয়ে উঠছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াছমিন নিপা বলেন, আলেকজান্ডার সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে উপজেলার ৯৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। এ কর্মসূচিতে উপকূলের শিক্ষার্থীদের বনরুটি, সেদ্ধ ডিম, কলা ও দুধ দেওয়া হচ্ছে।



0Share