হাসিবুর রশীদ, লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর || যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশে প্রায় দুই মাস ধরে জ্বালানি তেল নিয়ে চলছে সংকট। দীর্ঘদিন মূল্য স্থগিত রেখে সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে—কিন্তু সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।

নতুন দাম: ক্রেতাদের পকেটে আরও চাপ
গত রাত থেকে কার্যকর নতুন মূল্যে ডিজেল ৩০ শতাংশ, অকটেন ২৭ শতাংশ, পেট্রল ২৩ শতাংশ এবং কেরোসিন ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি লিটরে যথাক্রমে ১৫, ২০, ১৯ এবং ১৮ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমান বাজার মূল্য:
- ডিজেল: ১০০ থেকে ১১৫ টাকা
- অকটেন: ১২০ থেকে ১৪০ টাকা
- পেট্রল: ১১৬ থেকে ১৩৫ টাকা
- কেরোসিন: ১১২ থেকে ১৩০ টাকা
এদিকে বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমায় ফিলিং স্টেশনে ভিড় বেড়ে গেছে। তেলের দাম বৃদ্ধি পেলেও সংকট এখনও কমেনি। লক্ষ্মীপুরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে এখনও সংকট বিদ্যমান।
মেসার্স ধরিত্রী ফিলিং স্টেশনে সকালে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও তেলের গাড়ি না আসায় সকাল থেকে অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন গ্রাহকরা। বেলা গড়িয়ে বিকেল পাঁচটায় যখন গাড়ি আসে তখন বাইকারদের মুখে আশার প্রদীপ জ্বেলে ওঠে।
স্কুল শিক্ষক মো: জাকির হোসেন বলেন
দাম বৃদ্ধি পেলেও যদি আগের মতো স্বাভাবিকভাবে পাওয়া গেলে স্বস্তি পেতাম। দাম বাড়ানোর পরেও তেমন কোনো পরিবর্তন দেখছি না। দাম বাড়লে ভেবেছিলাম ভোগান্তি কমবে, উল্টো সেটা দিন দিন বাড়তেছে।
তিনি জানান,
আমরা সরকারি চাকুরিজীবী। আমাদেরকে যদি একদিন এক হাজার কিংবা দুই হাজার টাকার তেল দেওয়া তাহলে আমাদের এক/ দুই সপ্তাহ চলে যায়। চাকরির কারণে আমরা যথাসময়ে আসতে পারি না। চারটার পর অথবা দশটার আগে আসলেও অনেক সময় তেল পাই না। আজকে তেল না নিলেই আর হয়ত চলতে পারবো না। হুন্ডাটা রেখে দিতে হবে।
পল্লী চিকিৎসক মো: শরীফ হোসেন বলেন
সারা বাংলাদেশ জানে তেলের দাম বেড়েছে। কিন্তু তেলের দাম বাড়লেও আমরা এভেইলেবল (সুবিধাজনক) তেল পাচ্ছি না। দাম বাড়িয়ে আরও ক্ষতি হয়েছে। যদি দাম বাড়ার পরেও এভেইলেবল (সুবিধাজনক) পেতাম, তাহলে আমাদের অসুবিধাটা হতো না। আমাদের ভোগান্তিটা আগের মতোই রয়ে গেছে। সকাল দশটা থেকে সিরিয়াল ধরে এখন বিকাল পাঁচটা বাজে এখনও তেল পাইনি। সবশেষে জনগণের সমস্যাটাই রয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সরকার বলতেছে তেল এখনও এভেইলেবল আছে। কিন্তু আমরা পাচ্ছি না কেন সেটাই বুঝতেছি না। এখানে কোনো সিন্ডিকেট কাজ করতেছে। প্রশাসনের এখানে দৃষ্টি দেওয়া উচিত তাহলে আমাদের দুর্ভোগটা একটু কমবে৷
এদিকে তেলের জন্য এসে তেল না পেয়ে বসে বসে অপেক্ষার সময়ে মোবাইলে গেমস খেলে সময় কাটাচ্ছেন স্টিডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করা ইব্রাহীম।
পশ্চিম বাঞ্চানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো: আব্দুল মান্নান জানান,
সকাল এগারোটার দিকে তেল দেওয়া কথা ছিল তখন দেখলাম তেল নেই, স্কুলে চলে গেলাম। এখন ক্লাস শেষ করে আবার তেলের জন্য আসছি তেল নিতে।




0Share