সব কিছু
লক্ষ্মীপুর শুক্রবার , ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আলেকজান্ডার মেঘনাপাড় বৃহত্তর নোয়াখালীর নতুন পর্যটন স্পট – Lakshmipur24

আলেকজান্ডার মেঘনাপাড় বৃহত্তর নোয়াখালীর নতুন পর্যটন স্পট

আলেকজান্ডার মেঘনাপাড় বৃহত্তর নোয়াখালীর নতুন পর্যটন স্পট

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর প্রতিবেদন: লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় উপজেলা রামগতির চর আলেকজান্ডারের মেঘনা নদীর পাড়ের চিত্রটি  প্রথম দেখায় অনেকে ভাবতে পারেন, এটি কোনো সমুদ্রসৈকত। 

মেঘনার পাড় এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র। ঈদ, সরকারি ছুটি কিংবা অন্য কোনো উৎসবে এখানে মানুষের ঢল নামে। লক্ষ্মীপুর ছাড়াও নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসেন।

ঈদুল আযহার পরের দিন শুক্রবার দেখা যায়, উপজেলা পরিষদ থেকে সামান্য হাঁটলেই মেঘনার পাড়। নদীভাঙন ঠেকাতে নির্মিত বাঁধের কারণে বিস্তৃত হয়েছে নদীর তীর। বাঁধের ওপর দাঁড়ালেই দেখা মেলে বিস্তৃত জলরাশি। ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছে বাঁধের কিনারে।

ঈদের ছুটিতে বন্ধুদের নিয়ে এলাম। অনেক দিন পর এমন খোলামেলা পরিবেশে এসে ভালো লাগছে। নদীর বাতাস আর সূর্যাস্ত মিলিয়ে জায়গাটা সত্যিই দারুণ।

তুষার মাহমুদ, ভ্রমণকারী। 

নোয়াখালী থেকে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে আসা তুষার মাহমুদ বলেন, ‘ফেসবুকে এ জায়গার ভিডিও দেখেছিলাম। এরপর থেকেই এখানে আসার ইচ্ছে ছিল। ঈদের ছুটিতে বন্ধুদের নিয়ে এলাম। অনেক দিন পর এমন খোলামেলা পরিবেশে এসে ভালো লাগছে। নদীর বাতাস আর সূর্যাস্ত মিলিয়ে জায়গাটা সত্যিই দারুণ।’ চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থেকে আসা রাজু আহমেদ বলেন, ‘মেঘনার পাড়ে এসে মনে হচ্ছে যেন ছোট্ট একটা সমুদ্রসৈকতে আছি। বিশেষ করে বিকেলের দৃশ্যটা খুব সুন্দর।’

মেঘনা নদীর পাড় স্থানীয় মানুষের অন্যতম বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেলে লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডারেছবি: প্রথম আলো

কেন আসেন দর্শনার্থীরা ?

আলেকজান্ডার মেঘনাপাড়ের মূল আকর্ষণ এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। বিস্তীর্ণ নদী, দিগন্তজোড়া জলরাশি, নদীর ঢেউ, শীতল বাতাস ও মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্ত দেখতে প্রতিদিন এখানে ভিড় করেন মানুষ। বিকেলে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে সূর্য ডোবার দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হন অনেকেই। পাশাপাশি ট্রলার বা স্পিডবোটে নদী ভ্রমণ, দূরে জেগে ওঠা চর দেখা, জেলেদের মাছ ধরা উপভোগ করার দৃশ্যও পর্যটকদের টানে।

প্রতিদিন কত মানুষ নদীর পাড়ে ঘুরতে আসেন, এর কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই। তবে উপজেলা প্রশাসনের হিসাবে সাধারণ দিনে কয়েক হাজার মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন। ঈদ, সরকারি ছুটি ও বিভিন্ন উৎসবে সেই সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বিশেষ দিনগুলোয় অন্তত ৫০ হাজার মানুষ এখানে আসেন বলে প্রশাসনের ধারণা।

চর আলেকজান্ডারের এই সৌন্দর্যের আড়ালে রয়েছে ঝুঁকিও। সরেজমিনে দেখা যায়, পর্যটক বহনকারী বেশির ভাগ ট্রলার ও স্পিডবোটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাসামগ্রী নেই। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়েও নৌভ্রমণ করানো হয়। নদীপাড়ে পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারও নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা শিক্ষক মুকুল চৌধুরী বলেন, নদীভাঙন ঠেকাতে নির্মিত বাঁধের কারণেই এখানে বেলাভূমির মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জায়গাটি এখন মানুষের বিনোদনের কেন্দ্র। কিন্তু সংরক্ষণ ও পরিকল্পনা ছাড়া এটি টেকসই হবে না।

ষাটোর্ধ্ব মোহাম্মদ বাবুল হাওলাদার বলেন, লক্ষ্মীপুরে বিনোদনের জায়গা খুব বেশি নেই। তাই মানুষ পরিবার নিয়ে এখানে আসে। পর্যটকদের জন্য বসার জায়গা, শৌচাগার ও নিরাপত্তা বাড়ানো প্রয়োজন।

রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, আলেকজান্ডারে পর্যটকদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। ট্রলার ও স্পিডবোটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পর্যটকদের সুবিধার্থে স্বাস্থ্যসম্মত গণশৌচাগার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

যেভাবে আলেকজান্ডার পৌছাঁনো যায়

লক্ষ্মীপুর জেলা শহর থেকে আলেকজান্ডার মেঘনাপাড়ের দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার, নোয়াখালী জেলা শহর থেকে ৪৪ কিলোমিটার, চৌমুহনী থেকে ৫৪ কিলোমিটার । লক্ষ্মীপুর-রামগতি আঞ্চলিক মহাসড়ক ধরে বাস বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যেতে সময় লাগে প্রায় দেড় ঘণ্টা।

নোয়াখালীর মাইজদী থেকে আলেকজান্ডারের মধ্যে উন্নত সড়ক যোগাযোগের কারণে স্বল্প সময়েই সেখানে পৌঁছানো যায়। আলেকজান্ডার বাজার বা উপজেলা পরিষদ এলাকায় পৌঁছানোর পর কিছুক্ষণ হাঁটলেই বিস্তীর্ণ এ জায়গার দেখা মিলে।

Author

ভ্রমণ ও পর্যটন আরও সংবাদ

আস্-সালাম জামে মসজিদ

খোয়া সাগর দিঘি আর জমিদার বাড়ি ঘিরে লক্ষ্মীপুরের নতুন পর্যটন

রামগতিতে পর্যটক বাড়ছে

লক্ষ্মীপুরের পাশের জেলা ভোলাতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্বোচ্চ জ্যাকব টাওয়ার

মেঘনার কোল ঘেঁষে জেগে ওঠা ‘চর আলেকজান্ডার’

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ে নিবন্ধনকৃত নিউজপোর্টাল  
 All Rights Reserved : Lakshmipur24 ©2012-2026
Chief Mentor: Rafiqul Islam Montu, Editor & Publisher: Sana Ullah Sanu.
Muktijudda Market (3rd Floor), ChakBazar, Lakshmipur, Bangladesh.
Ph:+8801794 822222, WhatsApp , email: news@lakshmipur24.com