সব কিছু
লক্ষ্মীপুর বৃহস্পতিবার , ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রামগতিতে পর্যটক বাড়ছে – Lakshmipur24

রামগতিতে পর্যটক বাড়ছে

রামগতিতে পর্যটক বাড়ছে

আকাশ মো. জসিম: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক রূপে অপরূপ রামগতি। লক্ষ্মীপুরের এ উপজেলা ট্যুরিস্ট স্পটে পরিণত হয়েছে। এখানকার সারি সারি ব্লক বাঁধের নয়নাভিরাম দৃশ্য যে কোনো ভ্রমণপিয়াসুর নজর কাড়ে সহজে। মন ভোলায় নিমিষেই।

২০১৭ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নেওয়া একটি সুপরিকল্পিত নকশার বাস্তবায়নে পাল্টে যায় উপজেলার দৃশ্যপট। অবশ্য এ কাজটির পুরোটাই করেছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি পদাতিক ডিভিশন।

ব্লক বাঁধের ফলে একটি সুবিশাল এলাকা ও জনগণ তাদের ঘর-সংসার রক্ষা করতে যেমন সক্ষম হয়েছে, তেমনি নদীর পাড় পেয়েছে নান্দনিক সৌন্দর্য। এখন এখানকার মুক্ত বাতাস যে কোনো মানুষের মন জুড়িয়ে দেয়। চোখে পড়ে মেঘনার গভীরতায় ছুটে চলা দেশি-বিদেশি সারি সারি সুবিশাল আয়তাকার পণ্যবাহী জাহাজ।

মেঘনায় জোয়ারের সময় রামগতি বাজার, উপজেলার প্রধান বাজার আলেকজান্ডার ও ভোলাঘাটে আরেক উপভোগীয় দৃশ্য দেখা যায়। এ সময় বিভিন্ন শ্রেণি-বয়সি মাঝির মাছভর্তি ট্রলার ঘাটে ফেরে। তখন ট্রলার থেকে নামানো তাজা মাছ নিয়ে শহরে আসেন পাইকাররা।

রামগতির অধিবাসীদের মতে, আরও আগে ব্লক বাঁধ নির্মাণ করা হলে কমপক্ষে দুই হাজার পরিবার ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পেত। তারা জানান, সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় নদীভাঙনের শিকার হওয়া সেসব পরিবারের বেশিরভাগই নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন রাস্তাঘাটের পাশে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের গৃহীত একটি প্রকল্পের ফলে রামগতির ব্লক বাঁধ নির্মিত নদীর পাড় দেশের অনেকের কাছে পর্যটনের নজরকাড়া স্থানে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে বিভিন্ন শ্রেণির পর্যটক ছুটে আসছেন এখানে। অনেকে বেড়াতে আসছেন সপরিবারে। জোয়ার-ভাটা উপভোগের সময় যে কোনো পর্যটকের কাছে মনে হবেÑএ যেন আরেক কক্সবাজার!

জেলা পরিষদের অর্থায়নে পর্যটকদের বসার জন্য ইট-সিমেন্টের তৈরি ছাউনির নিচে রয়েছে বসার আরামদায়ক ব্যবস্থা। লাগানো হয়েছে সোডিয়াম বাতি। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান জানান, রামগতিকে নদীভাঙনের ছোবল থেকে রক্ষার পাশাপাশি কীভাবে নাগরিকের চিত্তবিনোদনের স্থানে পরিণত করা যায়, সে বিষয়ে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এ ব্যাপারে আগামী বাজেটে জেলা পরিষদ আরও অর্থ বরাদ্দ রাখবে।

এত আশার মাঝেও একটু হতাশা রয়েছেÑনিরাপত্তাহীনতার কথা জানালেন অনেকে। মাঝেমধ্যে ছিনতাইকারীরা হানা দেয়। তাদের হাত থেকে পর্যটকদের রক্ষায় এখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি করা উচিত। তাহলে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে। এ বিষয়ে রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম আরিছুল হক বলেন, নিয়মিত পুলিশি টহলের অংশ হিসেবে নদীপাড় এলাকার নিরাপত্তাও নজরে রেখেছি।

কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পেলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিই। তাছাড়া আলেকজান্ডার বাজার এলাকায় পর্যটকদের মেঘনার তাজা মাছ খাওয়ার সুবিধা থাকলেও থাকার সুবিধা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। চিত্তাকর্ষক, মনোরম ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে আজও উন্নতমানের কোনো আবাসিক হোটেল করা হয়নি ব্যক্তি কিংবা সরকারি উদ্যোগে। স্থানীয়রা মনে করেন, এদিকেও নজর দেওয়া উচিত।

Author

ভ্রমণ ও পর্যটন আরও সংবাদ

আস্-সালাম জামে মসজিদ

খোয়া সাগর দিঘি আর জমিদার বাড়ি ঘিরে লক্ষ্মীপুরের নতুন পর্যটন

রামগতিতে পর্যটক বাড়ছে

লক্ষ্মীপুরের পাশের জেলা ভোলাতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্বোচ্চ জ্যাকব টাওয়ার

মেঘনার কোল ঘেঁষে জেগে ওঠা ‘চর আলেকজান্ডার’

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ে নিবন্ধনকৃত নিউজপোর্টাল  
 All Rights Reserved : Lakshmipur24 ©2012-2026
Chief Mentor: Rafiqul Islam Montu, Editor & Publisher: Sana Ullah Sanu.
Muktijudda Market (3rd Floor), ChakBazar, Lakshmipur, Bangladesh.
Ph:+8801794 822222, WhatsApp , email: news@lakshmipur24.com