সব কিছু
facebook lakshmipur24.com
লক্ষ্মীপুর বৃহস্পতিবার , ৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২২শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
লক্ষ্মীপুরসহ উপকূলের সকল জেলা জোয়ারে প্লাবিত

লক্ষ্মীপুরসহ উপকূলের সকল জেলা জোয়ারে প্লাবিত

লক্ষ্মীপুরসহ উপকূলের সকল জেলা জোয়ারে প্লাবিত

সাগরে লঘুচাপ আর অমাবস্যার প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে উঁচু জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে লক্ষ্মীপুরসহ দেশের উপকুলীয় ১৬ জেলা। বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক এলাকা। উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

২৩ আগস্টের মধ্যে আরও একটি লঘুচাপ এবং তা থেকে নিম্নচাপ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, লঘুচাপের প্রভাবে আগস্টের বাকি দিনগুলোতে বৃষ্টির প্রকোপ আরও বাড়বে। সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি শুক্রবারের মধ্যে দুর্বল হলেও এরই মধ্যে আরও একটি লঘুচাপ সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়ে আছে। ফলে একটি কেটে গিয়ে আরও একটি লঘুচাপ আসছে। এর প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে উপকূলীয় জেলার নিম্নাঞ্চল জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।

সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে লক্ষ্মীপুরের রামগতি, কমলনগর, লক্ষ্মীপুর সদর এবং রায়পুর উপজেলার মেঘনা তীরবর্তী অন্তত ৬০ কিমি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসময় বহু এলাকা প্রায় ৫-৬ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জোয়ারে চার উপজেলার অন্তত ৩০-৪০টি গ্রামে ফসল, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি এবং মাছের ঘেরের ক্ষতি হয়েছে।

চলতি আগষ্ট মাসে এ নিয়ে ৩ বার জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে লক্ষ্মীপুরের উপকূল। প্রবল বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা জানিয়েছে, এ বছরের মধ্যে আজসহ গত ৩ দিনে মেঘনা নদীতে পানির লেভেল সর্বোচ্চ। মেঘনার চাঁদপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ১১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে।

আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ মে সকাল থেকেই উপকূলে ফের আবহাওয়া বৈরী হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে নদ-নদীতে শুরু হয় বিপৎসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত অধিক উচ্চতার জোয়ার। এতে চর ও নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে ঘরদোর ভাসে। দিনে ও রাতে দু বেলার উচ্চ জোয়ারের দক্ষিণাঞ্চলের লাখো পরিবারে নেমে আসে অসহনীয় দুর্ভোগ। এই ধকল কাটতে না কাটতেই ৪ আগস্ট পুনরায় শুরু হয় উচ্চ জোয়ারের তাণ্ডব। ৮ আগস্ট পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। শেষে ১৯ এবং ২০ আগষ্ট তারিখে আবারো জোয়ার।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জোয়ার পরিমাপক শাখার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালে লক্ষ্মীপুরে মেঘনা নদীর সর্বোচ্চ জোয়ারের উচ্চতা ছিল ৩ দশমিক ৪৫ মিটার, ২০০৫ সালে ৩ দশমিক ৫১ মিটার, ২০০৬ সালে ২ দশমিক ৯৬ মিটার, ২০০৭ সালে সিডরে জোয়ারের এই উচ্চতা গিয়ে দাঁড়ায় ৪ দশমিক ২২ মিটার আর ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলায় জলোচ্ছ্বাস হয় ৩ দশমিক ৬৫ মিটার। এরপর ২০১৩ সালের ১৬ মের ঘূর্ণিঝড় মহাসেনে জোয়ারের তীব্রতা ছিল ৩ দশমিক ৩৬ মিটার। ওই বছরের ১৫ জুলাই পূর্ণিমার প্রভাবে উপকূলে জোয়ারের উচ্চতা ছিল ৩ দশমিক ৬২ মিটার। ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আঘাত হানার সময় জোয়ারের উচ্চতা ছিল ৩ দশমিক ১০ মিটার থেকে চার মিটারের মধ্যে। এবারের আম্পানে জোয়ারের উচ্চতা ছিল ৩ দশমিক ৩৬ মিটার থেকে ৪ মিটারের ওপরে। এসব নদীর জোয়ারের স্বাভাবিক মাত্রা হচ্ছে সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৮৫ মিটার। তবে ঘূর্ণিঝড় ছাড়াও এবারের অমাবস্য-পূণির্মার জোয়ারের উচ্চতাও ৪ মিটারের কাছাকাছি ছিল।

বুধবার বিকেল ৫টার দিকে মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। একই সময়ে মেঘনায় বিপৎসীমার ১১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি বয়ে গেছে, যা বিগত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

পাউবোর প্রকৌশলীরা জানান, এবারের অস্বাভাবিক উচ্চতার জোয়ার আমাদের জন্য একটি ভীতিকর ইঙ্গিত (অ্যালার্মিং)। উপকূলে জোয়ারের উচ্চতা অনেক বেড়েছে, এটা এখন নির্দ্বিধায় বলা যায়। এটা জলবায়ু পরিবর্তনেরই প্রভাব।

পরিবেশ ও জলবায়ু আরও সংবাদ

লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়কে মাথার ওপর ঝুঁকিপূর্ণ গাছ ঘিরে আতঙ্ক, বনবিভাগের খোঁজ নেই

টানা বৃষ্টি ও জোয়ারে রামগতি-কমলনগরে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

ফেনীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি এলাকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ও পরীক্ষা স্থগিত

ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ১৪টি ভাঙন, লোকালয়ে ঢুকছে পানি

কমলনগরে ৭৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নেমেছে প্রশাসন; ৪টিতে স্থগিতাদেশ

অবৈধ দখল আর দূষণে রামগতির জনগুরুত্বপূর্ণ খালটি প্রায় মৃত

Lakshmipur24 | লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ে নিবন্ধিত নিউজপোর্টাল  
 All Rights Reserved : Lakshmipur24 ©2012- 2026
Editor & Publisher: Sana Ullah Sanu
Muktizudda Market (3rd Floor), ChakBazar, Lakshmipur, Bangladesh.
Ph:+8801794822222, WhatsApp , email: news@lakshmipur24.com