সানা উল্লাহ সানু: ৫০ ফুট চওড়া আর ১০ ফুট গভীর খালের নিচে পৃথক দুটি স্থানে দেড় ফুট ব্যাসার্ধের ২ চোঙ্গের ( পাইপ) ও এক চোঙ্গের দুটি পানি চলাচলের পথ। স্থানীয়রা এগুলোকে বলে স্লুইচ গেট। এমন সরু পথে পানি বাঁধাগ্রস্থ হয়ে খালের বেশির ভাগ অংশ ভরাট হয়ে গেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার তিন উপজেলার চারটি ইউনিয়নে পানি আটকে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। আর শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে জমিতে সেচ দিতে পারে না কৃষকরা।
চোঙ্গ গুলো অপসারণ তার স্থলে পুল বা ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে এলাকার কৃষকরা।
এলাকা ঘুরে দেখা গেছে নোয়াখালীর সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের ভুলুয়া নদী থেকে শুরু হওয়া একটি খালটি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মুছার খালের সাথে মিলিত হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী কিংবা পানি উন্নয়ন বোর্ড কেউই এ ঐতিহাসিক এ খালটির নাম জানাতে পারেনি
প্রায় ৫০ ফুট চওড়া এবং ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এখালটির দুটি স্থানের ওপর দিয়ে চলে গেছে তোরাবগঞ্জ-হাজিগঞ্জ সড়ক।
তোরাবগঞ্জ-হাজীগঞ্জ সড়কের মৌলভীরহাট সংলগ্ন সুইচগেট এলাকায় এখালের নিচে দেড় ফুট ব্যাসার্ধের ২ চোঙ্গের একটি পথ রয়েছে। স্থানীয়রা দোকান বসিয়ে সেটাও দখল করে ফেলেছে। পাশেই রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি পরিত্যক্ত অফিস। অন্যদিকে একই সড়কের চৌধুরীবাজার এলাকায় রয়েছে আরো একটি দেড় ফুট ব্যাসার্ধের চোঙ্গ।
স্থানীয় কৃষক আবুল কালাম এবং মাহে আলম জানায়, এত চওড়া খালে এমন সরু চোঙ্গের কারণে এ খাল দিয়ে পানি চলাচল করতে পারে না। ফলে খালটি এলাকাবাসীর কোন উপকারে আসে না।
স্থানীয় ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে আনুমানিক ১৯৬০ সালের দিকে বন্যা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে পাকিস্তান সরকার এ খালটি কাটে এবং খালের বিভিন্ন স্থানে সরু পাইপের চোঙ্গ তৈরি করে।
স্থানীয় কৃষক মুজতবা ও মনির জানায় খালটি কাটার পর দীর্ঘ প্রায় ৬৬ বছর পেরিয়ে গেলেও আর কখনও সংস্কার করা হয়নি। এমনকি এ চোঙ্গগুলো যে পানি প্রবাহে বাঁধা সেটাও কেউ দেখেনি।
বিগত বন্যার সময় প্রথমবারের ন্যায় এগুলো মানুষের চোখে পড়ে। এখন এখালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করতে এ চোঙ্গগুলো অপসারণ করে তার স্থলে পুল বা ব্রিজ তৈরি খুবই জরুরী।
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা ফজলুল কাদের জানায়, এ খালের কমলনগর অংশে খননের কাজ চলছে। স্থানীয়রা খাল খননে বাঁধা তৈরি করছে। কিন্ত এ খালের নিচে থাকা মাত্র দেড় ফুটের চোঙ্গ দিয়ে এত বিশাল খালের পানি প্রবাহ মোটেও সম্ভব না। তাই চোঙ্গগুলো সরিয়ে তার স্থলে পুল বা ব্রিজ নির্মাণ জরুরী।
স্থানীয় ভাবে জানা গেছে, নোয়াখালীর সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের ভুলুয়া নদী থেকে সৃষ্টি হওয়া এ খালটি পশ্চিম দিকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ এবং সদর উপজেলার তেওয়ারিগঞ্জ এবং ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন হয়ে তোরাবগঞ্জ বাজারের মুছার খালের সাথে মিলেছে। খালটি এ এলাকার কৃষি উৎপাদন ও পানি নিষ্কাশনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে স্থানীয়রা।



0Share