নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় এবার বাংলা নববর্ষকে ঘিরে বকেয়া খাজনা আদায়ে ঐতিহ্যবাহী ‘হালখাতা’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে উপজেলা ভূমি অফিস। ৩০ চৈত্র (১৩ এপ্রিল) উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন হবে। এরপর পুরো বৈশাখ মাসজুড়ে উপজেলার প্রতিটি ভূমি অফিসে চলবে এই আয়োজন।
কমলনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আরাফাত হুসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ভূমি মালিকদের নিয়মিত খাজনা পরিশোধে উৎসাহিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সময় সর্বোচ্চ ও নিয়মিত খাজনা প্রদানকারীদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
উৎসবমুখর হবে হালখাতা
হালখাতা উপলক্ষে উপজেলার সবগুলো ভূমি অফিস সাজানো হবে বর্ণিল আয়োজনে। খাজনা দিতে আসা ভূমি মালিকদের আপ্যায়ন করা হবে বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবার মিষ্টি, মোয়া, মুড়ি, পান ও সুপারি দিয়ে। এটি শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, বরং এক আনন্দঘন সামাজিক আয়োজনেও পরিণত করবে ভূমি অফিস।
হারানো ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ
সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, একসময় বাংলা বছরের শুরুতে জমির খাজনা আদায়ে ‘হালখাতা’র প্রচলন ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে তা হারিয়ে গিয়ে বর্তমানে শুধু ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। সেই পুরনো ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতেই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।
রাজস্ব বৃদ্ধি ও সচেতনতা তৈরি
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আরাফাত হুসাইন জানান, ঐতিহ্যের ভাবধারায় জমির মালিকদের নিয়মিত জমির খাজনা পরিশোধে উৎসাহ দিতে এবং দেশের রাজস্ব আদায় বাড়াতে এ হালখাতার আয়োজন করছে উপজেলা ভূমি অফিস। আবার কিছু ভূমি মালিক ও প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যস্ততায় সময় মতো ভূমির খাজনা পরিশোধ করতে পারেন না। এমন হালখাতার ধারা অব্যাহত রাখলে বাংলা বর্ষের শুরুতে জমির খাজনা দিতে আগ্রহী হবেন ভূমি মালিকরা। এতে এক দিকে সরকারি পাওনা যেমন নিদিষ্ট সময়ে আদায় হবে, তেমনি নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করতে আসলে জমিজমা ঠিক আছে কিনা সেটাও ভূমিমালিকরা জানতে পারবে। এর মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা কম হবে।
দ্রুত ভুমি সেবায় এগিয়ে কমলনগর
মুহাম্মদ আরাফাত হুসাইন জানান, কমলনগরে ঝামেলামুক্তভাবে খাজনা পরিশোধ করা যায় এবং গড়ে মাত্র ১৪ দিনের মধ্যেই নামজারি সম্পন্ন করা হয়। দ্রুত নামজারি নিষ্পত্তিতে লক্ষ্মীপুর জেলায় প্রথম স্থানে রয়েছে কমলনগর ভূমি অফিস। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এবার শতভাগ খাজনা আদায় করে সারাদেশে প্রথম হওয়া।” ইতোমধ্যে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের প্রায় ৯৭ শতাংশ খাজনা আদায় সম্পন্ন হয়েছে।
৫ ভূমি অফিসে একযোগে আয়োজন
উপজেলার ৫টি ভূমি অফিসের অধীনে ৯টি ইউনিয়নের ভূমি সেবা প্রদান করা হয়। এবার এসব অফিসে একযোগে ‘হালখাতা’ আয়োজন করা হবে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।



0Share