নিজস্ব প্রতিনিধি: ১৪ ই মার্চ মঙ্গলবার বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্মীপুর আগমন সফল করে তোলার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলা আওয়ামী অঙ্গসংগঠন। এ উপলক্ষে সোমবার (৬ মার্চ ) বিকেলে জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে লক্ষ্মীপুর স্টেডিয়াম মাঠে এক প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামিমসহ জেলা আওয়ামী অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে রোববার (৫ মার্চ) বিকেলে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শাহজাহান কামাল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শামসুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন, সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফা খালেদ ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ মুর্শিদুল ইসলাম, পৌর মেয়র এমএ তাহের প্রমুখ।
লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুর আসছেন। তার আগমন আমাদের জন্য আনন্দের। ওই দিন মেঘনার ভাঙন থেকে কমলনগর রক্ষায় মাত্র এক কিলোমিটার বাঁধ যথেষ্ট নয়, আরও ৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করে কমলনগর উপজেলাকে রক্ষা করার জোর দাবি জানাবো প্রধানমন্ত্রীর কাছে।
জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন বলেন, ১৪ই মার্চ মঙ্গলবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাংগঠনিক সফরে লক্ষ্মীপুর আসছেন। আর এ উপলক্ষ্যে জেলা স্টেডিয়ামে সম্মেলনকে সফল করতে দলীয় ভাবে সকল ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, অনেক দিন না যাওয়া জেলাগুলোতে সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী।ওই সময় তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের এমন জেলার তালিকা তৈরির নির্দেশ ও দিয়েছেন তিনি।
সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে নেদারল্যান্ডস থেকে দেশে ফেরার পর সহযোগী সংগঠনের নেতারা তাকে শুভেচ্ছা জানাতে গণভবনে যান।ওই সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, সংগঠনের কাজে তিনি লক্ষ্মীপুর (১৯ অক্টোবর ২০১৫) গিয়েছিলেন। সেখানকার মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে চান। পংকজ দেবনাথ প্রধানমন্ত্রীর অনেকদিন সেখানে না যাওয়ার বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে থাকা তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের অনেক দিন না যাওয়া জেলাগুলোর তালিকা করতে বলেন। তিনি দ্রুতই এমন জেলাগুলো সফর করবেন বলে সিদ্ধান্ত জানান।
যেসব জেলায় একেবারেই যাননি এ তালিকায় আছে লক্ষ্মীপুর, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা, নড়াইলের পাশাপাশি বরিশাল এবং চট্টগ্রাম বিভাগের বেশকিছু জেলা।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিদেশের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে বিভিন্ন জেলায় যেতে হয় আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে। ব্যক্তিগত ভাবেও তিনি তৃণমূলে গিয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলায় বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়েছিল। জাতীয় কর্মসূচি পালনের জন্য সরকার প্রধান হিসেবে তিনি প্রতিবছরই এ দুই জেলায় যান। দেশের সার্বিক অবস্থা, মানুষের জীবনযাত্রা স্বচক্ষে দেখতে চান তিনি। সে বিবেচনায় লক্ষ্মীপুর জেলা এবার গুরুত্ব পাবে।



0Share