জুনায়েদ আহমেদ: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বশিকপুর বাজারে আধুনিক ব্যাংকিং সেবার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং। স্থানীয় ‘মো. শাহ আলম এন্টারপ্রাইজ’-এর মাধ্যমে পরিচালিত এই আউটলেটটি এখন আর কেবল একটি সাধারণ ব্যাংকিং পয়েন্ট নয়, বরং বশিকপুর ও আশপাশের মানুষের নিরবচ্ছিন্ন আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
তৃণমূল পর্যায়ে ডিজিটাল ব্যাংকিং পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে শুরু হওয়া এই কেন্দ্রে বর্তমানে ১৩০০-এরও বেশি নিবন্ধিত গ্রাহক রয়েছেন। তবে সেবার পরিধি কেবল নিবন্ধিত গ্রাহকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ থেকে শুরু করে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের টাকা কোনো ঝামেলা ছাড়াই উত্তোলন করতে পারছেন সাধারণ মানুষ। শাখাটিতে আসা কয়েকজন নারী গ্রাহকের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে দ্রুত সেবা পাচ্ছেন। কেউ বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছেন, কেউবা ডিপিএস-এর টাকা জমা রাখছেন। আবার অনেকেই নতুন এফডিআর করার পরামর্শ নিতে আসছেন।
গ্রাহকদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে আউটলেটের স্বত্বাধিকারী মো. শাহ আলম নিজেই সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন, যা গ্রাহকদের মাঝে বাড়তি স্বস্তি তৈরি করেছে। আউটলেটের স্বত্বাধিকারী মো. শাহ আলম বলেন, “গ্রাহক সন্তুষ্টিই আমাদের মূল লক্ষ্য। এখানে সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাব খোলা, ডিপিএস, ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর), সুদমুক্ত সেভিংস অ্যাকাউন্ট, স্কুল ব্যাংকিং এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মতো সব ধরনের সেবা একই ছাদের নিচে প্রদান করা হচ্ছে।” এছাড়াও এখান থেকে নগদ জমা-উত্তোলন, চেক বই ও এটিএম কার্ডের আবেদন এবং সরকারি-বেসরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের সুবিধাও পাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকরা। বাজারের ব্যবসায়ী মো. উল্ল্যাহ পাটোয়ারী, রিপন, টুটুল, ওষুধ ব্যবসায়ী আনোয়ার, রূপক, গাছ ব্যবসায়ী নুর আলম স্প্রেম্যান এবং চাকুরিজীবী নুর আলম ভূঁইয়া একবাক্যে প্রশংসা করেন এই আউটলেটের। তারা বলেন, “মূলধারার ব্যাংকগুলোতে অনেক সময় লেনদেনে সীমাবদ্ধতা বা দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিলেও এখানে আমরা কখনও সেবা ব্যাহত হতে দেখিনি।
দিন হোক বা রাত, কোনো হয়রানি ছাড়াই টাকা লেনদেন করা যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসীদের পাঠানো টাকা দ্রুত হাতে পাওয়ার ক্ষেত্রে এই শাখাটিই আমাদের প্রধান ভরসা।” বাজার কমিটির সদস্য জিল্লালসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এজেন্ট মো. শাহ আলমের আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
তারা জানান, গ্রাহকদের যেকোনো অভিযোগ বা সমস্যা এখানে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে নিষ্পত্তি করা হয়। রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও দলমত নির্বিশেষে এই শাখার নিরবচ্ছিন্ন সেবার প্রশংসা করেছেন। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যাংকিং সেবা বশিকপুর অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার করেছে, যা স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে তৃণমূল পর্যায়ে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



0Share