মোঃ হাসান হাওলাদার | লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ ‘আলেকজান্ডার মেঘনা পাড়’ সন্ধ্যার পর চরম অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়ছে। মেঘনার ভাঙন রোধে নির্মিত ব্লক এলাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তা ও চলাচলের সুবিধার জন্য স্থাপিত সোলার চালিত সড়ক বাতিগুলোর প্রায় সবকটিই দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো এলাকায় নেমে আসে ঘুটঘুটে অন্ধকার, যা পর্যটন শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর তীরে ভ্রমণপিপাসুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েক বছর আগে সারিবদ্ধভাবে সোলার ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা হলেও বর্তমানে সেগুলোর কোনোটিতেই আলো জ্বলে না। অধিকাংশ ল্যাম্পের সোলার প্যানেল ভেঙে গেছে, আবার অনেকগুলোর ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেগুলো সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
এলাকাবাসী জানান, বিকেল বেলা মেঘনা পাড়ে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই অন্ধকারের কারণে পুরো এলাকাটি প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত আলোর অভাবে সন্ধ্যার পর বখাটে ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়, যা সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। ছিনতাই বা অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় অনেক পর্যটক দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক বলেন, “মেঘনা পাড়ের বিকেলটা অসাধারণ সুন্দর। কিন্তু সন্ধ্যার পর অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে এখানে থাকা নিরাপদ মনে হয় না। লাইটগুলো ঠিক থাকলে রাতের মনোরম পরিবেশও উপভোগ করা যেত।”
স্থানীয়দের দাবি, আলেকজান্ডার মেঘনা পাড়কে কেন্দ্র করে এলাকার অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ছোট ছোট দোকান, চা-স্টল ও ভাসমান ব্যবসা পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। সোলার ল্যাম্পগুলো দ্রুত সংস্কার ও সচল করা হলে পর্যটক আগমন বাড়বে, একই সঙ্গে এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে মনে করেন তারা।
এলাকাবাসী ও পর্যটকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সোলার ল্যাম্পগুলো মেরামত ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।



0Share