রায়পুর প্রতিনিধি: ঢাকার যাত্রাবাড়ি কাঠেরপুল এলাকায় মঙ্গলবার গভীর রাতে র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুক যুদ্ধে নিহত অজ্ঞাত সেই দুই হতভাগ্য যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের একজন সাখাওয়াত হোসেন রাহাত (২০)
ও অপরজন মুজাহিদুল ইসলাম (৩০)। রাহাত রায়পুর উপজেলা ও মুজাহিদ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা।
বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গ থেকে সাখাওয়াতের লাশ গ্রহণ করেন তার খালাত ভাই রিপন ভূঁইয়া ও মুজাহিদের লাশ গ্রহণ করেন তার ছোট ভাই জাহিদুল ইসলাম। এ ঘটনায় উভয় পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের মাতম বিরাজ করছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নিহত রাহাত রায়পুর উপজেলার লুধুয়া গ্রামের আটিয়া ভূঁইয়া বাড়ির আলমগীর হোসেনের ছেলে। এলাকায় সে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও প্রায় ৪ বছর ধরে ফার্মগেটের উত্তরণ টায়ার নামের একটি দোকানে কর্মরত ছিল। জিহাদ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হামছাদী ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকুরে আবুল খায়েরের ছেলে। জিহাদ নিহত বিএনপি নেতা ও শিক্ষানবীশ আইনজীবী মো. দিদারের ছোট ভাই এবং ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত।
রাহাতের মামা রায়পুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি সৈয়দ ইকবাল জানান, তার ভাগিনা রাহাত ফার্মগেট উত্তরণ টায়ারে ৩ বছর থেকে কর্মরত ছিলো। ২১ জানুয়ারি বিকালবেলা মুখোশ পরা ১০/১২ ব্যক্তি তাকে দোকানের সম্মুখ থেকে অজ্ঞাত স্থানে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার শাহ আলম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় জিডি করেন। পরে ২৭ জানুয়ারি রাহাতের মা সৈয়দ সুফিয়া আক্তার বাদী হয়ে একই থানায় অপহরণ মামলা করেন। মামলাটি বৃহস্পতিবার ডিবির নিকট তদন্তের জন্য হস্তান্তর করা হয়। এতোদিন নিখে^াঁজ থাকার পর মঙ্গলবার রাতে র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুক যুদ্ধে রাহাতের নিহতের খবর দেয়া হয়।
মুজাহিদের ভাই জাহিদুল ইসলাম জানান, কয়েক বছর ধরে মুজাহিদ ঢাকার কারওয়ান বাজারে কাঁচামালের ব্যবসা করত। এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ ছিল সে। ২৬ জানুয়ারি কাফরুল থানায় জিডি করেন তারা। দুই বছর আগে মুজাহিদ সিঙ্গাপুরও গিয়েছিল। দুই মাস কাজ করে দেশে ফিরে আসে সে। কথিত বন্দুক যুদ্ধে নিহতের খবর পেয়ে তারা লাশ নিতে ঢাকা এসেছেন।
উল্লেখ্য, ওই দিন ঘটনার পরে র্যাবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, মঙ্গলবার গভীর রাতে র্যাব-১০-এর টহল দলকে লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা ও গুলি ছোড়ে। এ সময় র্যাবের সদস্যরা গুলি ছুড়লে দুই যুবক আহত হন। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে র্যাব। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল ও নিহত দুজনের কাছ থেকে কিছু ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন র্যাব কর্মকর্তারা।



0Share