সব কিছু
লক্ষ্মীপুর শুক্রবার , ২১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
লক্ষ্মীপুর কে ব্র্যান্ডিং করছে আয়েশা: ঘুরিয়ে দিয়েছেন ৫শ’ নারীর জীবন

লক্ষ্মীপুর কে ব্র্যান্ডিং করছে আয়েশা: ঘুরিয়ে দিয়েছেন ৫শ’ নারীর জীবন

লক্ষ্মীপুর কে ব্র্যান্ডিং করছে আয়েশা: ঘুরিয়ে দিয়েছেন ৫শ’ নারীর জীবন

কিশোর কুমার দত্ত: ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। এ প্রবাদ বাক্যটি নিজের জীবনে যেমন বাস্তবায়ন করেছে তেমনি অন্যের জীবনের ভাগ্যটা বদলানের চেষ্ঠা করে যাচ্ছে রায়পুর উপজেলার চরবংশী গ্রামের মৃত আব্দুল হালিমের মেয়ে আয়েশা বেগম। তার অক্লান্ত পরিশ্রমের সফলতায় নকশীতে লক্ষ্মীপুর এখন

দেশের ব্যান্ডিং । শুধু ব্যান্ডিংই নয় সাথে তিনি সৃষ্টি করেছেন ৫শ’ নারী তাদের নিজের কর্মসংস্থান।  সমাজের বঞ্চিত, উপেক্ষিত ও এলাকার দরিদ্র নারীদের নিয়ে নিজ বাড়িতে শুরু করেন ছোট একটি বুটিক কারখানা। বর্তমানে রায়পুর উপজেলার চরবংশী গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি, চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলার কাটাখালী ও সদর উপজেলার কামান খোলা এলাকার বাবুর বাড়িতে মিলে রয়েছে শতাদিক বুটিক ফ্রেম। এসকল ফ্রেম ভাড়া ঘরে ৩শ’ নারীদের নিয়ে গড়ে তুলেন বুটিক কারখানা। নিজ গ্রামেও এই কাজের সাথে জড়িত রয়েছে আরো প্রায় ২শ’ নারী। এসব নারী সদস্যদের হাতে কাজ করা বুটিক শাড়ী যাচ্ছে ঢাকা শহরের বসুন্ধরা মার্কেট, নিউ-মার্কেট ও চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কামানখোলার বাবুর বাড়িতে ঘিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে চলছে শাড়ীতে বুটিকের কাজ। সমাজের পিছিয়ে পড়া মহিলারা ও লেখা-পড়ার পাশা-পাশি স্কুল পড়–য়া মেয়েরা শাড়ীতে বুটিকের কাজ করে বাড়তি টাকা রোজগার করছে। আয়েশার নিজের উদ্বেগে ৫শতাদিক মহিলা সাবলম্বী হতে চলছে।

কথা হয় ঐ কারখানার সুপারভাইজার রোজিনার সাথে। তিনি জানান, গ্রামীন জনপদ ও ঘরোয়া পরিবেশে এসব মহিলারা শাড়ী বুনিয়ে সাবলম্বী হতে চলছে। একটি শাড়ীতে বুটিকের কাজ করতে ৫ জন মহিলা তাদের এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন সময় লাগে। একটি শাড়ী বুনতে খরচ হয় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা । বিক্রি হয় ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা। তবে বর্তমান বাজারে মেনট্রেসের দাম বৃদ্ধি পাওয়া আগের তুলনায় লাভ কম হচ্ছে। এখানকার কাজ করা এসব শাড়ী ঢাকা শহরের বিভিন্ন মার্কেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানী করে দরিদ্র নারীদের অন্ন যোগানোর পাশাপাশি দেশীয় অর্থনীতিতে রাখছে দারুন ভুমিকা।

Ayesha-Noksheদুপুর গড়িয়ে ঠিক সাড়ে ৩টা বাজে। পরিচয় মিলে বুটিক কারখানার মূল উদ্যোক্তা আয়েশা বেগমের সাথে। তার সাথে আলাপকালে তিনি তুলে ধরেন তার জীবন কাহীনি।

তিনি বলেন, সে ১৯৮৮ সালের ১ জানুয়ারি উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের আব্দুল হালিমের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। দরিদ্র দিনমজুর পরিবারের জন্ম নেওয়া আয়েশা ৭ বোনের মধ্যে প্রথম। অভাবে সংসারে ভাই স্বপ্নে একের পর এক বোন হলে বাবা মা তাকে নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে। সে যখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে ঠিক তখনই তার বাল্যবিয়ে হয়ে যায় একই এলাকার কৃষক মোস্তফার সাথে। বিয়ের কারনেই তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। বিয়ের ৪ বছরের মাথায় তাদের ঘরে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।

এতে আয়েশা আরো চিন্তিত হয়ে পড়ে। নিজের শিক্ষিত হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও শিক্ষিত হতে না পেরে ছেলেকে উচ্চ শিক্ষিত করার স্বপ্ন বুনেন। কিন্তু দিনমজুরী স্বামীর উপার্জন দিয়ে সংসার ও ছেলে লেখাপড়া চালানো প্রায় অসম্ভ হয়ে পড়ে। ছেলের উচ্চ শিক্ষার জন্য সে নিজেই এলাকার একটি বুটিকের দোকানে মাসে ১৫’শ টাকা বেতনে চাকরি নেয়। এর মাঝে আয়েশা তার উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন পুরনের জন্য ”বাংলাদেশ উম্মক্ত বিশবিদ্যালয়ের“ মাধ্যমিক শাখার ৯ম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া শুরু করেন।

এর মাঝে কিছু কাজ শেখা হলো আয়েশার। পরে প্রতিবেশিদের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নিয়ে আয়েশা নিজের ঘরেই একটি ছোট বুটিকের কারখানা গড়ে তুলেন। এ আয় দিয়ে ছেলের লেখাপড়া ও সংসার চলতে শুরু হয়। এতেই সংসারের কিছুটা অভাব দূর হয়। এভাবেই ৬ বছর পার হলে আয়েশা ”বাংলাদেশ উম্মক্ত বিশ্ববিদ্যাল“ থেকে বিএ পাসও করেন। পরে সমাজের বঞ্চিত, উপেক্ষিত ও এলাকার দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য নিজের ছোট বুটিকের আয় দিয়ে ১৩টি ফ্রেম দিয়ে গ্রামে গড়ে তুলেন একটি বড় কারখানা। ঘুরে যায় তার জীবনের গতি।

ভাবতে থাকে সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের কথা। পরে এসব নারীসহ আশ-পাশের গ্রামের সমাজের বঞ্চিত, উপেক্ষিত ও এলাকার দরিদ্র নারীদের নিয়ে চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলার কাটাখালী এবং চলতি বছরের ১ জুলাই সদর উপজেলার কামানখোলা এলাকার বাবুর বাড়িতেসহ মিলে রয়েছে তিনটি কারখানা গড়ে তোলে। যার মধ্যে শতাদিক ফ্রেমে কাজ করছে ৩ শতাধিক নারী এবং চরবংশী নিজ গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে এই বুটিকের কাজ করে সাবলম্বী হচ্ছে ২শ’ নারী। ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম বিভাগে ৫০টি উপজেলার ২৫০ নারীকে পিছনে ফেলে অর্থনীতি সাফল্যেতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতার সম্মাননা লাভ করে নির্বাচিত হন আয়েশা।

তিনি আরো জানান, আমার এই সম্মাননা সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য উৎসর্গ করেছি। তবে আমার বুটিক কারখানায় সরকারি পৃষ্ঠ পোষকতা, সহজ শর্তে ঋনের সুবিধা পেলে নারীর কর্মসংস্থান করাসহ উৎপাদন বৃদ্ধি পেত। শিল্প কেন্দ্রীক সরকারি বেসরকারি উদ্যেগ গ্রহনে ভাগ্য বদল হতে পারে এ অঞ্চলের সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের। সরকারী বা কোন দাতা সংস্থার সহযোগীতা পেলে এ পেশায় আরো বহু মহিলার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশী প্রচুর পরিমান বৈদেশীক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।

প্রতিবেদক

মানুষের গল্প আরও সংবাদ

আমেরিকায় জনপ্রিয় হচ্ছে লক্ষ্মীপুরের প্রবাসী মনির দম্পত্তির চাষাবাদ ও কৃষি ট্যুরিজম

জলবায়ু ঝুঁকিতে লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় শিশুরা

ওরা স্কুল থেকে নৌকায়

অল্প বয়সেই তারা দক্ষ শ্রমিক

লক্ষ্মীপুর কে ব্র্যান্ডিং করছে আয়েশা: ঘুরিয়ে দিয়েছেন ৫শ’ নারীর জীবন

তথ্য অধিদফতরের নিবন্ধন নং: 236  
 All Rights Reserved : Lakshmipur24 ©2012-2026
Chief Mentor: Rafiqul Islam Montu, Editor & Publisher: Sana Ullah Sanu.
Muktijudda Market (3rd Floor), ChakBazar, Lakshmipur, Bangladesh.
Ph:+8801794 822222, WhatsApp , email: news@lakshmipur24.com