সব কিছু
facebook lakshmipur24.com
লক্ষ্মীপুর সোমবার , ৫ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
২০২৫ সাল থেকে লক্ষ্মীপুরে নতুন নীতিমালায় সড়ক তৈরি হবে; ইউনিয়নে সর্বনিম্ন প্রস্থ হবে ১২ ফুট

২০২৫ সাল থেকে লক্ষ্মীপুরে নতুন নীতিমালায় সড়ক তৈরি হবে; ইউনিয়নে সর্বনিম্ন প্রস্থ হবে ১২ ফুট

২০২৫ সাল থেকে লক্ষ্মীপুরে নতুন নীতিমালায় সড়ক তৈরি হবে; ইউনিয়নে সর্বনিম্ন প্রস্থ হবে ১২ ফুট

সানা উল্লাহ সানু: ২০২১ সালের আগষ্ট মাসে একটা নীতিমালা হয়েছে। সে অনুসারে সর্বনিম্ন গ্রামীণ সড়ক হতে হবে ১২ ফুট চওড়া। তবে নীতিমালা অনুযায়ী লক্ষ্মীপুর জেলায় আগামী ২০২৫ সালের আগে কোন সড়ক নির্মাণ করা যাবে না। ২০২৫ সালের পর লক্ষ্মীপুর জেলার সড়কগুলো নতুন ডিজাইনে তৈরি শুরু হবে। লক্ষ্মীপুর  এলজিইডি এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহ আলম পাটোয়ারী এ তথ্য জানিয়েছেন। 

তিনি জানান, ২০২১ সালের আগষ্ট মাসের নীতিমালায় যানবাহনের সংখ্যা ও চাপের ওপর নির্ভর করে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে সড়ক হবে ১৮, ২০, ২২, ২৪ ও ৩৬ ফুট চওড়ার। চার লেন পর্যন্ত সড়কও করতে পারবে এলজিইডি। আগের কাঠামো অনুসারে গ্রাম পর্যায়ে এত দিন ১০ ফুট, ইউনিয়ন পর্যায়ে ১২ ফুট এবং উপজেলা পর্যায়ে সড়কগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল ১৮ ফুট চওড়া মধ্যে।

একই সঙ্গে জলবায়ু সহিষ্ণু সড়কও নির্মাণ করতে পারবে এলজিইডি। বর্তমানে একটি সড়কের বেস (কার্পেটিংয়ের নিচের অংশ) হয় ১৫০ থেকে ২২৫ মিলিমিটারের মধ্যে, সাববেস (বেসের নিচের অংশ) হয় ১৫০ থেকে ৩০০ মিলিমিটারের মধ্য। নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে সড়কের বেস হবে ২০০ থেকে ২২৫ মিলিমিটার। সাববেস হবে ২০০ থেকে ২৭৫ মিলিমিটার।

সড়ক করতে প্রয়োজনে সরাসরি জমি অধিগ্রহণও করতে পারবে এলজিইডি। আঁকাবাঁকা সড়ক পরিবর্তন করে সোজা করা হবে। বিদ্যমান যেসব সড়ক আছে এবং ভবিষ্যতে যেসব সড়ক নির্মিত হবে, সেসব ক্ষেত্রে নতুন নকশা বাস্তবায়িত হবে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর জেলাতে মোট ইউনিয়ন সড়ক রয়েছে ১০১টি যার দৈর্ঘ্য ৫০৭ কিলোমিটার। উপজেলা সড়ক রয়েছে ৪৩টি। যার দৈর্ঘ্য ৩৫৮ কিলোমিটার। অন্যদিকে জেলায় গ্রামীণ এ ও বি ক্যাটাগরির রাস্তা রয়েছে ২ হাজার ৩৩ টি । যে গুলোর দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ২শ ৩০ কিলোমিটার। যার মধ্যে মাটির রাস্তা ২হাজার ৯শ ৩৪ কিলোমিটার।

সরেজমিনে মাঠে গিয়ে;

রোববার সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০ টার মধ্যে সড়কটির এক কিলোমিটার পোস্টের সীমানার একটি চা দোকানে বসে যানবাহন গণনা করা হয়। এসময়ে সড়কটিতে ২শ ৫টি ছোট বড় যানবাহন আর ৫ শতাধিক পথচারীকে চলাচল করতে দেখা যায়। ২টি সিএনজি অটোরিকশা পাশাপাশি যেতে পথচারীদের সড়কের পাশে নেমে যেতে হচ্ছিল। ১২ ফুট চওড়া এ সড়কে ১০-২০ টন মাল বোঝাই ট্রাক ও পিকআপ পুরো থেমে গিয়ে পরস্পরকে অতিক্রম করছিল। এর মাঝে গত ৩ বছর যাবত সড়কটির পুরোটাই ভাঙ্গা।
বর্তমানে গ্রামীণ সড়কের কেমন হাল তা জানতে লক্ষ্মীপুরের সদর ও কমলনগর উপজেলার সীমান্ত এলাকার তোরাবগঞ্জ-মতিরহাট ঘাট সড়কে গিয়ে এমন চিত্র ও তথ্য জানা যায়।
কয়েকজন জনপ্রতিনিধি এবং গাড়ি চালকদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, লক্ষ্মীপুর জেলার প্রায় সবগুলো গ্রাম, ইউনিয়ন এবং উপজেলার গ্রামীণ সড়ক এখন যানবাহনের তুলনায় অনেক সরু। অনেক সড়কে দারণ ক্ষমতার ৩-৫ গুণ যানবাহন চলে এবং ভারী ওজন বহন করে। এসব কারণে গ্রামীণ সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে, যানজট তৈরি হচ্ছে এবং কম সময়ে সড়ক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় ভাবে জানা যায়, গ্রামের মানুষের দান করা জমিতে এক সময়ে তৈরি হয়েছিল গ্রামীণ সড়ক। গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়ির আশপাশ দিয়ে গিয়ে এসব সড়ক যুক্ত হয়েছে ইউনিয়নে। ইউনিয়নের সড়ক গিয়ে মিলেছে উপজেলায়। আর উপজেলা সড়ক ছুটে গিয়েছে জেলায়। এক সময় কোন পরিকল্পনা ছাড়াই যেখানে মানুষের বসতি ছিল সেখানে গড়ে উঠেছিল সড়ক। এখনও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে এখন গ্রামীণ সড়ক নিমার্নে কিছু নিয়মনীতি মানা হয়।
কারণ এখন জনসংখ্যার কারণে গ্রামের সব সড়কই প্রয়োজনের তুলনায় সরু মনে হয়। উন্নয়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এসব সড়ক আর প্রয়োজন মেটাতে পারছে না। ফলে সড়ক নির্মাণের নিয়মনীতি বদলে ফেলানো দরকার ছিল বহু আগে, এমন অভিমত স্থানীয় এলাকাবাসীর।

অন্যদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে শিল্প-কারখানা গড়ে উঠছে । গ্রামে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বেড়েছে।কিন্তু আমাদের সড়ক তো সেই ১০ ফুটেই রয়ে গেছে। ‘গ্রাম পর্যায়ে অসংখ্য ইটভাটা রয়েছে। সেখানে ভারী যানবাহন যাচ্ছে। এতে গ্রামীণ রাস্তা সেই ভার নিতে পারছে না। ফলে অল্প সময়ে রাস্তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর উপকূলীয় জেলা সমূহে প্রতিনিয়ত জলোচ্ছাসের কারণেও অনেক সড়ক ণষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালযয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সড়ক ও সেতু রক্ষণাবেক্ষণ নীতিমালা ২০১৩ অনুসারে বাংলাদেশ সরকার ২০০৩ সালের ৬ নভেম্বর এক গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সর্বশেষ নীতিমালার সাথে সঙ্গতি রেখে জাতীয় সড়ক ব্যবস্থা কযয়েকটি শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন।পরবর্তীতে দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সড়ক শ্রেণীবিন্যাস অনুযায়ী দায়িত্ব ও মালিকানা অনুযায়ী দেশের সকল উপজেলায় সড়ক ও ইউনিয়ন সড়কের একক মালিকানা এলজিডি কে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ১৯৯২-১৯৯৩ সাল থেকে সরকারের রাজস্ব খাত হতে এলজিইডিকে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রথম অর্থায়ন শুরু করা হয়।বর্তমানে প্রকৃত চ্যালেঞ্জ এবং সাইক্লোন এর মত ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংগঠনের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি এবং সড়কের প্রতিনিয়ত অতিমাত্রায় যানবাহন চলাচলে স্বাভাবিকভাবে কঠিন করে তুলেছে। এলজ্ইিডি যে সব সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ করবে না সে সকল গ্রাম সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, ইউনিন পরিষদ তাদের আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী রক্ষণাবেক্ষণ করবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে ইউনিয়ন সড়কে ৮.২ টন এবং গ্রামীণ সড়কে ৫ টনের অতিরিক্ত পরিবহনের চলাচল করা যাবে না। সেই চিন্ত থেকে গ্রামীণ সড়কের কাঠামো পুরোপুরি পরিবর্তন করতে যাচ্ছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। প্রয়োজন ও চাহিদার কথা বিবেচনা করে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে চার লেনের সড়ক দেখতে পাবে সাধারণ মানুষ।

 

প্রতিবেদন আরও সংবাদ

২০২৫ সাল থেকে লক্ষ্মীপুরে নতুন নীতিমালায় সড়ক তৈরি হবে; ইউনিয়নে সর্বনিম্ন প্রস্থ হবে ১২ ফুট

লক্ষ্মীপুরের চিকিৎসা ব্যবস্থায় কমিশনের থাবা; রোগী রেফার করলেই মিলে মোটা অঙ্কের কমিশন

চাঁদপুর রেলস্টেশন থেকে লক্ষ্মীপুরের রামগতি হয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসায় যাবে মেঘনার পানি

দখলের নির্মমতায় ক্যান্সারে আক্রান্ত কমলনগরের জারিরদোনাশাখা খাল | মৃত্যু শয্যায় পাশে নেই কেউ

লক্ষ্মীপুর জেলার সরকারি ওয়েবসাইটগুলোতে তথ্য হালনাগাদ হয় না !

রায়পুর মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রের গুদামে ব্যক্তিগত ব্যবসা

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ে অনলাইন নিউজপোর্টাল প্রকাশনার নিবন্ধনের জন্য আবেদনকৃত, তারিখ: 9/12/2015  
 All Rights Reserved : Lakshmipur24 ©2012-2022
Chief Mentor: Rafiqul Islam Montu, Editor & Publisher: Sana Ullah Sanu.
Muktijudda Market (3rd Floor), ChakBazar, Lakshmipur, Bangladesh.
Ph:+8801794 822222, WhatsApp , email: news@lakshmipur24.com