সব কিছু
facebook lakshmipur24.com
লক্ষ্মীপুর শনিবার , ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৪শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
লক্ষ্মীপুরে মেঘনার তীর সংরক্ষণ চলমান প্রকল্পে এক হাজার কোটির রেকর্ড বরাদ্দ

লক্ষ্মীপুরে মেঘনার তীর সংরক্ষণ চলমান প্রকল্পে এক হাজার কোটির রেকর্ড বরাদ্দ

লক্ষ্মীপুরে মেঘনার তীর সংরক্ষণ চলমান প্রকল্পে এক হাজার কোটির রেকর্ড বরাদ্দ

সানা উল্লাহ সানু || লক্ষ্মীপুর জেলার মেঘনানদীর ভয়াবহ ভাঙ্গন কবলিত রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় চলমান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পটিতে  চলতি অর্থবছরে রেকর্ড অংকের এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি)  প্রকল্পটির জন্য এ রেকর্ড পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রকল্পের মেয়াদ ১ বছর বাড়িয়ে চলতি ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। গত ১২ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরিকল্পনা মন্ত্রনালয় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

 

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জেলার দুই উপজেলার ৫ লাখের অধিক মানুষের ভিটেমাটি রক্ষায় ২০২১ সালের জুনে ৩ হাজার ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় সরকার। প্রকল্পের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

তবে বিগত বছরগুলোতে প্রকল্পে চাহিদার পরিমাণ অর্থ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ দেয়নি সরকার। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা যায়নি।

পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (RADP) এর তালিকা থেকে জানা গেছে, এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের শুরুতে এ প্রকল্পের জন্য মূল এডিপিতে বরাদ্দের ছিল ৩শ ৫০ কোটি টাকা। তবে কাজের গুরুত্ব  এবং প্রকল্পের সময় বিবেচনা করে সংশোধিত বরাদ্দে তা বাড়িয়ে ১ হাজার কোটি টাকায় উন্নিত করা হয়। যার সিংহভাগই ব্যয় হবে সরাসরি নির্মাণ কাজ ও ব্লক তৈরির কাজে।

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মোহাম্মদ রায়হান বলেন, ৫ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পটি যথা সময়ে বাস্তবায়নে প্রতি অর্থ বছরে গড়ে ৬শ কেটি টাকা অর্থ বরাদ্দ দেয়ার কথা ছিল। তবে বিগত সরকার সে অর্থ বরাদ্দ না দিয়ে উল্টো বালু সংকটসহ নানা কাল্পনিক যুক্তি দেখিয়েছিল।

পরিকল্পনা কমিশন ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি(এডিপি)র বিগত তালিকাগুলো থেকে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে মাত্র ৫০ কোটি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৫০ কোটি, ২০২৩-২৪ অর্থবছর ১২০ কোটি এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪০০ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়। ৩ হাজার কোটির টাকার প্রকল্পটিতে ৪টি অর্থবছরে সংশোধিত বরাদ্দ সহ মোট বরাদ্দ দেয়া হয় ৮শ ৪৭ কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ১ হাজার কোটিসহ মোট বরাদ্দ দাড়াঁবে ১৮শ ৪৭ কোটি টাকা।

মেঘনা নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ নিমার্ণ দাবি নিয়ে আন্দোলনরত সামাজিক সংগঠন ‘কমলনগর-রামগতি বাঁচাও মঞ্চ’ এর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, ‘শুরু থেকেই প্রকল্পটিতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ ছিল না। এখন সংশোধিত আরএডিপিতে ১ হাজার কোটি বরাদ্দ রয়েছে। যা দিয়ে আগামী ১ বছরের মধ্যে প্রকল্পের সিংহভাগ কাজ শেষ করা যাবে। তবে আগামীতে যিনি এ এলাকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন, তিনি কাজটি ভালোভাবে তদারকি করতে পারবেন, অর্থের জন্য তার কষ্ট করতে হবে না। পাশাপাশি প্রকল্পের অবশিষ্ট ১২শ ৪২ কোটি টাকা সরকারের নিকট থেকে নিয়ে আসার ব্যাপারে তাকে উদ্যোগ নিতে হবে।

এ প্রকল্প যেভাবে শেষ হচ্ছে:

রামগতি ও কমলনগর দুটি উপজেলার তীব্র নদী ভাঙন কবলিত ৩১.৩২ কিলোমিটার এলাকায় চলমান বেড়িবাধঁ নিমার্ণ প্রকল্পটিকে ৩৪টি প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি প্যাকেজের অধীন রয়েছে কয়েকটি লট (প্রতি লট ২৫০-৩৫০ মিটার)। বর্তমানে প্রায় সবগুলো প্যাকেজের অধীন অন্তত ১শ লটে কাজ করছে দেশের অন্তত ১৬টি ছোট-বড় কোম্পানী।

প্রকল্পের অধীন মতিরহাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে সে এলাকায় জিওব্যাগের কাজ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ ইব্রাহীম জানায়, ২০২২ সালে কাজ শুরু হলেও এ এলাকায় কাজ শুরু হয়েছে ২০২৫ সালের জুনের পরে। এখন জিওব্যাগের কাজ চলছে। তবে দেখে মনে হচ্ছে দ্রুতই কাজ চলছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রকল্পের বেশিরভাগ অংশে জিওব্যাগের ডাম্পিং প্রায় শেষ হওয়ার পথে। ২-৩টি স্থানে বেড়িঁবাঁধ দৃশ্যমান হয়েছে। অন্য কিছু এলাকায় ব্লকের কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় ঠিকাদারের লোকের জানিয়েছে এরপর মূল বেঁড়িবাঁধ তৈরি হবে। তবে কিছু কিছু এলাকায় কাজ ধীরগতিতে চলছে। স্থানীয়রা জানিয়েছে, গত ৫ আগষ্টের পর বেশ কয়েকজন ঠিকাদার অনেক দিন কাজে অনুপস্থিত ছিল।

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনুপস্থিত ঠিকাদারদের কিছু কাজ পুনঃটেন্ডার করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ-জামান খান জানান, “প্রকল্পে এ বছর সর্বোচ্চ ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে আশা করা যায় ২০২৬ সালের মধ্যে লক্ষ্মীপুরের রামগতি এবং কমলনগর উপজেলার নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধ প্রকল্পটি পুরোপুরি শেষ হবে।”

বাঁধের পরিকল্পনায় কী রয়েছে?

প্রকল্পের পরিকল্পনাপত্র সূত্রে জানা গেছে, ভাঙনরোধে প্রথমে জিওব্যাগে বালু ভর্তি করে মেঘনা নদী থেকে তীরের দিকে ৫০ মিটার অংশে বস্তা ফেলে ভাঙনের গতি রোধ করা হবে। এটাকে বলা হয় ডাম্পিং। পরে জিওব্যাগের ওপর পাথরের তৈরি সিসি ব্লক ফেলা হয়। এটাকে বলা হয় ব্লক ডাম্পিং। এরপর ব্লক প্লেসিং, গাইড ওয়াল নির্মাণ। জিওব্যাগ এবং পাথরের ব্লকের পরে মাটির উচু বেড়িবাঁধ তৈরি করা হবে। এ সময় ৩১.৩২ কিলোমিটার এলাকায় ১৮টি রেগুলেটর  নির্মাণ করা হবে। শেষে বেড়িবাধেঁর ওপর ১২ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হবে। এরআগে ২০১৪ সালে একই এলাকার তিনটি স্থানে ৬ কিলোমিটার বাঁধ নিমার্ণ হয়েছিল। সবমিলে দু উপজেলার ৩৭ কিলোমিটার বাঁধ নিমার্ণ শেষ হবে।

বাঁধ নির্মাণের পর

প্রকল্পের কাজ শেষ হলে দুই উপজেলার ৫ লাখের বেশি মানুষ নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে। প্রকল্প এলাকার কাজ শেষের পর ৩৭ কিলোমিটার লম্বা একটি মেরিন ড্রাইভ তৈরি হবে। এতে একদিনে যেমন যোগাযোগ সহজ হবে, অন্যদিকে এটি পর্যটকদেরও আকর্ষণ করবে।

যে কারণে বাঁধটি ঘিরে স্থানীয়দের অনেক স্বপ্ন

১৯৮১ সালের এবং ২০১১ সালের আদমশুমারি তথ্য থেকে জানা গেছে, মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে ৩০ বছরে রামগতি ও কমলনগর এলাকার অন্তত ২৪০ বর্গকিলোমিটার নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ সময় মেঘনা নদীতে ঘরবাড়ি হারিয়েছে অন্তত দেড় লাখ মানুষ।

অব্যাহত নদী ভাঙন, নদীর জোয়ার এবং প্রতি বছরের ঘূর্ণিঝড়ে ১৯৬০ সালে নির্মিত বন্যা নিয়ন্ত্রণকারী বাঁধ ৫৯/২ নম্বর পোল্ডারটি পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায়। এতে ৫ লাখের বেশি মানুষের দুটি উপজেলা পুরোপুরি অরক্ষিত হয়ে পড়ে।

এসব অঞ্চলের প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ৮০জনই নদী ভাঙনের শিকার হয়। প্রতি বছর হাজার হাজার একর জমির ফসল এবং মানুষের ঘর বাড়ি নদীর পানিতে ভেসে যায়।

নদী ভাঙন কবলিত এসব মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন। পরে রামগতি ও কমলনগরকে রক্ষার জন্য ২০২১ সালের জুন মাসে একনেকের সভায় ৩ হাজার ৮৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে কাজের উদ্বোধন হয়।

নদী ও উপকূল আরও সংবাদ

মধ্যরাতে ইলিশ ধরতে প্রস্তুত জেলেরা, শেষ হবে নিষেধাজ্ঞা

বয়ারচরে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মানের দাবীতে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ সমাবেশ

তিন’শ মিটার বাঁধে রক্ষা পেল ত্রিশ হাজার বসতি

জলাবদ্ধতা নিরসনে ভুলুয়া নদীতে এবার স্থানীয়দের সাথে যুক্ত হলো পাউবো

স্থানীয়দের দানে ৭৬ কিমি ভুলুয়া নদীতে খনন শুরু; ২০ বছর পর নদীতে এলো স্রোত

লক্ষ্মীপুরে মেঘনার বাঁধ নির্মাণ বন্ধ রেখেছে ৫ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, আতঙ্কে স্থানীয়রা

Lakshmipur24 | লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ে নিবন্ধিত নিউজপোর্টাল  
 All Rights Reserved : Lakshmipur24 ©2012- 2026
Editor & Publisher: Sana Ullah Sanu
Muktizudda Market (3rd Floor), ChakBazar, Lakshmipur, Bangladesh.
Ph:+8801794822222, WhatsApp , email: news@lakshmipur24.com