লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার কয়েকটি এলাকায় মেঘনা নদী তীর রক্ষা বাঁধের কাজ ও ভুলুয়া নদী পরিদর্শনে আসেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
এসময় মন্ত্রী বলেন, গ্রেটার নোয়াখালীর দুঃখ দূর করতে ভুলুয়া নদী দখলমুক্ত করা হবে। অবৈধ দখল ও ময়লা-আবর্জনা সরানো না গেলে আমাদের দু:খ পোহাতে হবে। একটি দেশপ্রেমিক সরকার তারেক রহমানের নেতৃত্বে সকল বিভাগের সাথে সমন্বয় করে এই ভুলুয়া নদীটি দখলমুক্ত করে পুনরুদ্ধার কাজ সম্পন্ন করা হবে।
শনিবার দুপুরে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার ব্রীজঘাট এলাকা পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি উপজেলার বড়খেরী, বিবিরহাট, আসলপাড়া, বয়ারচরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গিয়ে তীর রক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। এলাকাবাসী নদীভাঙনের কারণে তাদের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হওয়ার আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন। তারা দ্রুত কাজ শেষ করে স্থায়ীভাবে নদীভাঙন প্রতিরোধের দাবি জানান।
উপজেলার বিভিন্ন নদী ভাঙন এলাকায় পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী বলেন, জনগণের দাবী অনুযায়ী উপকূলের প্রধান সমস্যা নদী ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মান কাজ দ্রুত শেষ হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ বুঝিয়ে না দেওয়া হলে, অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা কঠোরভাবে তদন্ত করা হবে। কোনো ধরনের দুর্নীতি বা গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিভিন্ন স্থানে খাল-নদী দখল ও দূষনের ফলে বর্ষায় স্থায়ী জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়েন বাসিন্দারা। শুষ্ক মৌসুমে ইরিগেশন ও সবজি আবাদে পানি শুন্যতায় ব্যহত হয় চাষাবাদ। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এসব চিন্তায় খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন। এজন্য কৃষি উৎপাদন ও মাছ চাষে সুফল পেয়েছে দেশের মানুষ। এজন্য আমরা আবার সেই কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী কমলনগরের পাটোয়ারীহাট ইউনিয়নের লুধুয়াহাট এলাকায় তীর রক্ষা বাঁধের চলমান নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কাজের অগ্রগতি, ব্যয় ও নির্ধারিত সময়সীমা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি।
এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান, লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহাদত হোসেন সেলিম, লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ জামান খান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাছিবুর রহমান, সদর উপজেলা (পূর্ব) বিএনপির সভাপতি মাঈন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিএনপি নেতাকর্মীসহ অনেকে।



0Share