লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এ.বি.এম. আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেছেন, ফারমার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ শুধু কৃষিপণ্য সংরক্ষণের একটি স্থাপনা নয়, এটি বর্তমান সরকারের কৃষি অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল করার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। সংরক্ষণের সুযোগ বাড়লে কৃষক ভরা মৌসুমে কম দামে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হবেন না। এতে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন, অপচয় কমবে এবং কৃষি আরও লাভজনক খাতে পরিণত হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা পরিষদসংলগ্ন এলাকায় একটি মিনি কোল্ড স্টোরেজ (ছোট হিমাগার) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উদ্বোধন শেষে হুইপ নিজান হিমাগারটি পরিদর্শন করেন এবং এর সংরক্ষণ ও পরিচালনা পদ্ধতি সম্পর্কে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন। তিনি বলেন, রামগতি উপজেলায় এখন ব্যাপক পরিমাণে টমেটো, ফুলকপি, শিম, বেগুনসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদিত হচ্ছে। কিন্তু সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ভরা মৌসুমে বাজারে দাম কমে যায়, অনেক সবজি নষ্ট হয় এবং কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
হুইপ নিজান বলেন, কৃষকের উৎপাদিত কৃষিপণ্য এখন এই মিনি কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করা যাবে। কৃষক প্রয়োজন অনুযায়ী সুবিধাজনক সময়ে এসব পণ্য বাজারজাত করতে পারবেন। এতে একদিকে কৃষকের ক্ষতি কমবে, অন্যদিকে তিনি তাঁর উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ধারাবাহিকভাবে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। মিনি কোল্ড স্টোরেজ সেই উদ্যোগেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষিপণ্য সংরক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি হলে কৃষকের আয় বাড়বে, খাদ্য অপচয় কমবে এবং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সাশ্রয়ী কোল্ড স্টোরেজ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকের আয় বৃদ্ধি’ প্রকল্পের আওতায় হিমাগারটি স্থাপন করা হয়েছে। এই মিনি কোল্ড স্টোরেজে ৮ থেকে ১০ টন ফল ও সবজি সংরক্ষণ করা যাবে। সৌরশক্তিচালিত ও সেন্সরনিয়ন্ত্রিত এই হিমাগারে ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কয়েক মাস পর্যন্ত বিভিন্ন ফল ও সবজি সতেজ রাখা সম্ভব। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতাও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন, পাইলট প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীপুর জেলায় প্রথমবারের মতো রামগতিতে এই মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা হয়েছে। ৩০ জন কৃষকের একটি দল এটি পরিচালনা করবে। কৃষকেরা এখানে পচনশীল ফল ও সবজি সংরক্ষণ করে বাজারের অনুকূল সময়ে বিক্রি করতে পারবেন। এতে কৃষিপণ্যের অপচয় কমবে, কৃষকের আয় বাড়বে এবং এ অঞ্চলে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দীন, রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী স্নেহাল রায়, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন, রামগতি পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র শাহেদ আলী পটু, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মুর্তজা আল আমিন, উপজেলা যুবদলের সভাপতি শিবলী নোমান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।



0Share