বেহাল সড়কে ভোগান্তিতে পারাপার হচ্ছেন উপকূলবাসী
লক্ষ্মীপুরের রামগতি-বিবির হাট আঞ্চলিক সড়কের দূরত্ব সাড়ে ৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রামগতি বাজার থেকে কোরেশ বাড়ি সংলগ্ন সড়কের দূরত্ব সাড়ে ৩ কিলোমিটার। জনগুরুত্বপূর্ণ বাজারের সড়কটিসহ ওই সড়কটি এক কি.মি. অংশে সংস্কার না হওয়ায় চলাচলকারীরা পড়ছে চরম ভোগান্তিতে।
স্থানীয়দের দাবী, মালি বাড়ি সংলগ্ন ব্রিজটি কয়েকবার ভেঙ্গে গেলে জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করে সড়ক বিভাগ। গত বছর সড়ক বিভাগ মালি বাড়ি সংলগ্ন ব্রিজটি নতুন করে নির্মানের উদ্যোগ নিলেও কিছু কাজ করার পর বর্ষার অজুহাতে থেমে আছে উন্নয়ন কার্যক্রম। বর্ষা শেষ হলেও ব্রিজটির কাজ শুরু হওয়ার কোন উদ্যোগ এখনো চোখে পড়েনি। ফলে এ সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে করে পিছু ছাড়ছে না দক্ষিণাঞ্চলের দুর্দশা।
লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, রামগতি বাজার থেকে সাড়ে ৩ কিলোমিটারের ওই সড়কটি নদী ভাঙন কবলিত। কিছু অংশে কাজ করেছি কিন্তুু বাকি অংশে যতদিন পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধের কাজ শেষ না করবে, ততদিন আমরাও সড়কটির কাজ করতে পারছি না। এছাড়া ব্রিজের কাজটি দ্রুত করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এ এম এম নঈম বলেন, বড়খেরীর ওই অংশের একটি লটের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেসিইএল এন্ড কেসিসি জেবি কে গত ১৪ আগস্ট ২০২২ সালে কাজের জন্য কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু তারা কাজ নিয়ে গড়িমসি করায় তাদের বাদ দিয়ে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। নতুন ঠিকাদার গত বছর থেকে কাজ শুরু করেছেন। মাঝখানে বর্ষার কারণে কাজ বন্ধ ছিল, এখন আবারো কাজ শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মালি বাড়ি সংলগ্ন ব্রিজটি সংস্কার কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। ফলে, এ সড়ক দিয়ে হাঁটা-চলাই কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে ব্রিজ থেকে কোরেশ বাড়ি সংলগ্ন বেড়িবাঁধের মাথা পর্যন্ত সড়কটি সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী। সড়ক জুড়ে রয়েছে বড় বড় গর্ত, নেই কার্পেটিং। সড়কের এ বেহাল অবস্থায়, যানবাহন চলাচলতো দূরের কথা হাঁটা-চলাই কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশে রয়েছে মেঘনা নদী, এরিমধ্যে চরম ঝুঁকিতে চলাচল করছে স্থানীয়রা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সড়কটি দীর্ঘ বছর ধরে সংস্কার হচ্ছে না ফলে এ দুর্ভোগ। রামগতি বাজার থেকে ব্রিজ পর্যন্ত সংস্কার হলেও ঝুঁকিপূর্ণ এ স্থানে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এ পথে চলাচল করতে গিয়ে অনেকে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এনিয়ে আমরা অনেক ভোগান্তিতে রয়েছি। দ্রুত এ সড়কটি সংস্কারের দাবীও জানান তারা।
পথচারী, সিএনজি চালক, মটরবাইক চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রয়োজনের তাগিদে চলাচলের অযোগ্য এ সড়ক দিয়ে আসতে হয়। এ সড়ক দিয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই সিএনজি, অটো, মটরবাইকের যন্ত্রাংশ বিকল হওয়া সহ দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হচ্ছে। বর্তমানে বিকল্প পথ ব্যবহার করে বহু পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। অন্যদিকে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাসেল জানান, দুই যুগেও এ সড়কটিতে কাজ হতে দেখিনি। এ ভাঙ্গা সড়কটি দিয়ে বুক ভরা যন্ত্রণা নিয়ে দীর্ঘ বছর ধরে আমাদের পথ চলা। নদী ভাঙনের ফলে কোরেশ বাড়ি সংলগ্ন মুল সড়কটি পাঁচ বছর আগে ভেঙে যাওয়ায় আমাদের ভোগান্তি আরো বেড়ে গেছে। নদীতে যখন জোয়ার আছে তখন অনেক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় আমাদের।
স্থানীয় ব্যবসায়ী বিজয় মাহমুদ মামুন জানান, ব্রীজের কাজটি বর্ষার অজুহাতে এখনো বন্ধ আছে প্রায় এক বছর ধরে। ব্রীজের কাজের জন্য আনা কয়েক টন লোহার রড়গুলো অযতেœ সড়কের পাশে রাখা হয়েছে। রড়গুলোতে মরিচা চলে এসেছে, নেই কর্তৃপক্ষের কোন ভ্রæক্ষেপ। কাজ কবে নাগাদ শুরু হবে তাও কেউ বলতে পারেন না।
শিক্ষার্থী প্রান্ত মজুমদার জানান, দীর্ঘ বছর ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ার সুযোগে সিএনজি, অটো চালকরা ইচ্ছেমত ভাড়া হাঁকিয়ে নিচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করে বাস চলাচলের উপযোগী করে তোলার দাবীও জানান তিনি।
বড়খেরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান মাকসুদ মিজান বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে ব্রিজ থেকে কোরেশ বাড়ি সংলগ্ন বেড়িবাঁধের মাথা পর্যন্ত সড়কটির কাজ হচ্ছে না। অন্যদিকে বেড়ী বাঁধের কাজের অজুহাতে সড়কের এ কাজটুকু করছে না সওজ।
সড়ক সংস্কার সম্পর্কে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দীন বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দ্রুত কাজ করতে বলবো।



0Share