চলতি আমন মৌসুমে ১০ বিঘা জমি চাষাবাদ করেন লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় অঞ্চল রামগতি উপজেলার কৃষক জসিম উদ্দিন। তাঁর বাড়ি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডস্থ টুমচরে। প্রথম দফায় জমিতে দেওয়ার জন্য তাঁর ৯০ কেজি ইউরিয়া সারের প্রয়োজন ছিল। ৩০ কেজি কেনার পর স্থানীয় ডিলারের কাছে গিয়ে আর সার পাননি। গত শনিবার সকালে সারের জন্য তিনি যান বিভিন্ন ডিলারের কাছে।
বিভিন্ন দোকান ঘুরে সার না পেয়ে জসিম উদ্দিন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন । এমন সংকটে পড়েছেন উপজেলার অনেক কৃষক। এ কারণে চলতি মৌসুমে আমনে আশানুরূপ ফলন নিয়ে তারা হতাশায়।
গত শুক্রবার থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। কৃষকেরা জানান, চাহিদা অনুযায়ী সার দিতে পারছেন না বিক্রেতারা। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী তাদের সার সরবরাহ করতে পারছেন না ডিলারেরা। অন্যদিকে সময়মত সার পাচ্ছেন না তারা। অনেকের ইউরিয়া প্রয়োজন ৩ বস্তা কিন্তু পাচ্ছেন ১ বস্তা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিবির হাট বাজারের এক খুচরা বিক্রেতার ভাষ্য, স্থানীয় কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী দিনে তাঁর প্রয়োজন ১০০-১৫০ বস্তা ইউরিয়া সার। কিন্তু তিনি পাচ্ছেন মাত্র ২০-২৫ বস্তা। এতে কৃষকের চাপে পড়ছেন।
চর আফজল এলাকার কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে এলাকার দোকানে দোকানে ঘুরতেছি। কিন্তু কারও কাছে সার পাচ্ছি না। অনেক সময় চাহিদা অনুযায়ি না পেলেও বেশি দাম দিয়ে সার কিনতি হচ্ছে।
একই রকম তথ্য দেন চর আবদুল্যাহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাজার এলাকার কৃষক পারভেজ হোসেন। তিনি বলেন, ‘৩০ বিঘা জমির সার জোগাড করতি চোখে অন্ধকার দেখতি হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকার কোনো দোকানে চাহিদামতো সার মিলছে না। তাই, উপায় না দেখে কয়েকজন মিলে একটি ট্রলার ভাড়া করে অন্য উপজেলা থেকে চড়া দামে সার আনতে হয়েছে। এভাবে কতদিন চলবে বুঝতিছে না।’ দ্রুত সময়ের মধ্যে সারের সংকট নিরসনের দাবি এই কৃষকের।
প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সার পরিবেশক জানান, সার আনতে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়াতে কেজিতে ১-২ টাকা বেশি নিতে হচ্ছে। পাশের উপজেলা থেকে আনতে গেলেও সেই সারের দাম বেশি পড়ছে। বাধ্য হয়ে অনেক কৃষকের কাছ থেকেও বেশি দাম রাখতে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে ২৩,৫৩৫ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়েছে। সেপ্টেম্বরে ৯জন সার ডিলারের অনুকূলে ইউরিয়া বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬২৭ টন। এ ছাড়া ডিএপি ২৩৫ টন, এমওপি ১৩৮ টন ও টিএসপি বরাদ্দ হয়েছে ৭৫ টন। এর মধ্যে দুই কিস্তিতে বরাদ্দ সার তুলে নিয়েছেন ডিলারেরা। চাষাবাদের জমি ও কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সারের বরাদ্দ কম বলেও স্বীকার করেন কর্মকর্তারা।
একাধিক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যমতে, এই মুহূর্তে কয়েকটি ইউনিয়নে সারের সংকট বেশি। কোন ডিলারের কাছে মজুত নেই বললেই চলে। কৃষকেরা সারের জন্য তাদের কাছে এসেও ধরনা দিচ্ছেন। কিছুদিনে মধ্যে এ সংকট কেটে যাবে বলে মনে করছেন তারা।
উপজেলা সার পরিবেশক সমিতির সভাপতি বাচ্চু মিয়ার ভাষ্য, গত বছর চাহিদা মেটাতে অন্য জায়গা থেকে সার কিনে ঘাটতি পূরণ করা হয়েছিল। কিন্তু এবার সে সুযোগ নেই। সরকারের কঠোর নজরদারিতে কালোবাজারি বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
রামগতি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন, আমনের ভরা মৌসুমে যে পরিমাণ সার বরাদ্দ পাওয়া গেছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় একটু কম। কিছুদিনের মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী কৃষকেরা সার পাবেন। চাহিদা মেটাতে বরাদ্দ বাড়ানো ও বর্তমান ঘাটতি মেটাতে উপবরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন। দ্রুত বরাদ্দ আসলে আশাকরি এ অঞ্চলে ঘাটতি থাকবে না।



0Share