নিজস্ব প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুর বালিকা বিদ্যানিকেতনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিটন চন্দ্র দেবনাথের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। ওই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মতিউল কাদেরের স্বাক্ষর জাল করে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে খসড়া ভোটার তালিকার রেজুলেশন তৈরিসহ বিভিন্ন প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার আদালত গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করে।
এদিকে এসব ঘটনায় তাকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শিক্ষক লিটন জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব রাজাপুর গ্রামের মতিলাল চন্দ্র দেবনাথের ছেলে।
জানা গেছে, লিটন চন্দ্র দেবনাথ লক্ষ্মীপুর বালিকা বিদ্যানিকেতনের সহকারী শিক্ষক ছিলেন৷ পরে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হন। ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর তিনি সভাপতি মতিউল কাদেরের স্বাক্ষর জাল করে বিদ্যলয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সংক্রান্ত রেজুলেশন বই, খসড়া ভোটার তালিকা ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরি করে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য যান৷ বিষয়টি সভাপতি জানতে পেরে স্বাক্ষর নিয়ে চ্যালেঞ্জ করে।
এসময় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাক্ষর যাচাই করে প্রতারণার সত্যতা পান। এছাড়া ২০১০ সালের ২১ অক্টোবর সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে এনটিআরসিএ এর নিয়োগপত্র, যোগানদারের দরখাস্ত ও রেজুলেশন তৈরি করে। পরে জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে সভাপতি লিখিত অভিযোগ দিলে স্বাক্ষর জাল করার সত্যতা পায়। এছাড়া ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর এনটিআরসিএ এর শিক্ষক নিয়োগে সুব্রত মন্ডল, শাখায়েত করিম ও মোহাম্মদ জামিল হাসানের নিয়োগের সুপারিশে সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে জেলা এবং উপজেলা শিক্ষা অফিস এবং মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক আঞ্চলিক শিক্ষা অফিস কুমিল্লাতে প্রেরণ করে।
সভাপতির স্বাক্ষর জাল প্রমানিত হওয়ায় জেলা শিক্ষা অফিসার এমপিও কাগজপত্র স্থগিত করে। এদিকে বিভিন্ন সময়ে রেজুলেশনের বইয়েও সভাপতির স্বাক্ষর জাল করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। বিভিন্ন সময়ে স্বাক্ষর জাল করে এসব অনিয়ম ও প্রতারণায় আশ্রয় নেওয়ায় অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করে বিদ্যালয়ের সভাপতি।
মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় লক্ষ্মীপুর সিআইডিকে। সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নজরুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পান। তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত শিক্ষক লিটন চন্দ্র দেবনাথের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেন।



0Share