নিজস্ব প্রতিবেদক | লক্ষ্মীপুর | লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘শাহ্ আলম চৌধুরী স্মৃতি বৃত্তি-২৫’-এর দ্বিতীয় আসরের সনদ, সম্মাননা ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠান। সৈয়দ আহম্মদ চৌধুরী স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং লাইফ শাইন একাডেমির যৌথ আয়োজনে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এবারের আসরে তিনটি পৃথক ক্যাটাগরিতে মোট ১৬০ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ নগদ অর্থবৃত্তি, সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষানুরাগী ও স্থানীয় সুধীজনের উপস্থিতিতে মিলনায়তন ছিল প্রাণবন্ত।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৪ নম্বর চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সৈয়দ আহম্মদ চৌধুরী স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা আনোয়ার হোসেন বাচ্চু। সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলমগীর চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ‘শাহ্ আলম চৌধুরী স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষা’র পরিচালক এস. আর. রানা চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি মো. শামসুল করিম, কফিলউদ্দিন ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির অভিভাবক সদস্য, রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক মনির হোসেন, হাজিরপাড়া হামিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম, হাজিরপাড়া হামিদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. খোরশেদ আলম, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সভাপতি ও গণিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের, ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা আলতাফ হোসেন চৌধুরী, পূর্ব জাফরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রিপন মজুমদার, সমাজসেবক ডা. ইসলাম হোসেন, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম ফুয়াদ এবং লাইফ শাইন একাডেমির প্রধান শিক্ষক কুমুদ বন্ধু দেবনাথ। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, সমাজের বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তি, অভিভাবক ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মেধাবৃত্তি শিক্ষার্থীদের মধ্যে অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের উদ্যোগ শুধু ভালো ফলাফলে উৎসাহিত করে না, বরং মানবিক মূল্যবোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশেও সহায়ক হয়।
‘শাহ্ আলম চৌধুরী স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষা’র পরিচালক এস. আর. রানা চৌধুরী বলেন, “শাহ্ আলম চৌধুরী আমার দাদা এবং সৈয়দ আহম্মদ আমার প্রপিতামহ। তাঁদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং শিক্ষা ও সমাজকল্যাণে তাঁদের আদর্শকে ধারণ করতেই পারিবারিক উদ্যোগে ‘শাহ্ আলম চৌধুরী স্মৃতি বৃত্তি’ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমার দাদা চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি ছিলেন। আমার প্রপিতামহ সৈয়দ আহম্মদ এবং দাদা শাহ্ আলম চৌধুরী—দুজনই সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিবেদিত ছিলেন এবং এলাকার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তাঁদের আদর্শ ও অসমাপ্ত স্বপ্নকে এগিয়ে নিতেই আমাদের এ উদ্যোগ।”
প্রধান অতিথি আনোয়ার হোসেন বাচ্চু বলেন, “স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে সৈয়দ আহম্মদ চৌধুরী স্মৃতি ফাউন্ডেশন যে প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে, আমি তাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। এ ধরনের সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব।”
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ আলমগীর চৌধুরী বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং শিক্ষার প্রসারে কাজ করাই ফাউন্ডেশনের অন্যতম লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও আরও বৃহত্তর পরিসরে বৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অতিথিরা বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে নগদ অর্থ, সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ও অভিভাবকদের আনন্দঘন উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানস্থল উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘শাহ্ আলম চৌধুরী স্মৃতি বৃত্তি’ ভবিষ্যতেও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



0Share