সব কিছু
লক্ষ্মীপুর শুক্রবার , ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৯ শে এপ্রিল কি ঘটেছিল বাংলাদেশের উপকূল? - Lakshmipur24

২৯ শে এপ্রিল কি ঘটেছিল বাংলাদেশের উপকূল?

২৯ শে এপ্রিল কি ঘটেছিল বাংলাদেশের উপকূল?

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভয়াল ২৯ শে এপ্রিল। ১৯৯১ সালের এ দিনে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার বিস্তৃর্ণ জনপদ। ক্ষতবিক্ষত এ জনপদে বাঁচতে পারেনি মানুষ-জন, গবাদি পশু, ও পক্ষি, গাছপালা, ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট, দালান-কোঠো ইত্যাদি। জান-মালের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয় এদিনে। ঘূর্ণিঝড়ের দীর্ঘ ২৩ বছর পার হয়ে গেলেও উপকূলের লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের ক্ষতি এখনও পুষিয়ে উঠতে পারেনি।

ভয়াল ২৯ এপ্রিল। এদিন ‘ম্যারি এন’ নামক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় লণ্ডভণ্ড করে দেয় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় পূরো উপকূল। লাশের পরে লাশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল চারদিকে। বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়েছিল। দেশের মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে সেদিন প্রত্যক্ষ করেছিল প্রকৃতির করুণ এই আঘাত। প্রাকৃতিক দূর্যোগের এতবড় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি এদেশের মানুষ এর আগে আর কখনো হয়েছিল না। পরদিন বিশ্ববাসী অবাক হয়ে গিয়েছিল সেই ধ্বংসলীলা দেখে। কেঁপে উঠেছিল বিশ্ব বিবেক। বাংলাদেশে আঘাত হানা ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় নিহতের সংখ্যা বিচারে পৃথিবীর ভয়াবহতম ঘূর্ণিঝড় গুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিল রাতে বাংলাদেশে-র দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানা এ ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়টিতে বাতাসের সর্বোচচ গতিবেগ ছিল ঘন্টায় প্রায় ২৫০ কিমি (১৫৫ মাইল/ঘন্টা)। ঘূর্ণিঝড় এবং তার প্রভাবে সৃষ্ট ৬ মিটার (২০ ফুট) উঁচু জলোচ্ছ্বাসে আনুমানিক ১৩৮,০০০ জন মানুষ নিহত এবং প্রায় এক কোটি মানুষ আশ্রয়হীন হয়। (১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিল ঘূর্ণিঝড়, Visible satellite image from 06:23 UTC on April 29, 1991) ঘূর্ণিঝড় বা ঘুর্নিবাত্যা হল ক্রান্তীয় অঞ্চলের সমুদ্রে সৃষ্ট বৃষ্টি, বজ্র ও প্রচন্ড ঘূর্ণি বাতাস সম্বলিত আবহাওয়ার একটি নিম্ন-চাপ প্রক্রিয়া (low pressure system) যা নিরক্ষীয় অঞ্চলে উৎপন্ন তাপকে মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত করে। সাম্প্রতিক সময়ে বিজ্ঞানীরা অনেকে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে দায়ী করেছেন। ক্রান্তীয় অঞ্চলের সমুদ্রের তাপমাত্রা ১৯৭০ সালের পর প্রায় এক ডিগ্রী ফারেনহাইট বৃদ্ধি পেয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই এক ডিগ্রী ফারেনহাইট তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এখন আগের চেয়ে শক্তিশালী এবং বেশী সংখ্যায় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হচ্ছে। এই ধরনের ঝড়ে বাতাস প্রবল বেগে ঘুরতে ঘুরতে ছুটে চলে বলে এর নামকরণ হয়েছে ঘুর্নিঝড়। ঘুর্নিঝড়ের ঘুর্নন উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে। ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানলে যদিও দুর্যোগের সৃষ্টি হয়, কিন্ত্ত এটি আবহাওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা পৃথিবীতে তাপের ভারসাম্য রক্ষা করে। গড়ে পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ৮০ টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। এর অধিকাংশই সমুদ্রে মিলিয়ে যায়, কিন্ত্ত যে অল্প সংখ্যক ঘূর্ণিঝর উপকূলে আঘাত হানে ভয়াবহ ক্ষতি সাধন করে তার একটি ১৯৯১ সালের ঘুর্ণিঝর ম্যারি এন। বাংলাদেশ তথা উত্তর ভারত মহাসাগর এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয় না। তার পরিবর্তে, আরব সাগর এলাকায় উৎপন্ন ঝড়গুলোকে A এবং বঙ্গোপসাগরে উৎপন্ন ঝড়গুলোকে B অক্ষর দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। ১৯৯১ সালের ২৯ শে এপ্রিল যে ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশে আঘাত হেনেছিল তার পরিচয় TC-02B হিসেবে, তার মানে এটি ছিল ১৯৯১ সালে বঙ্গোপসাগরে উৎপন্ন দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড়। ১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিল ভয়ংকর এই ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় এক লক্ষ চল্লিশ হাজার লোক নিহত হয়েছিল এবং চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। ‘ম্যারি এন’ নামে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছিল নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় আর এতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় পূরো উপকূল। স্মরণকালের ভয়াবহ এ ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার। ২০ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। সেই ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৩৮ হাজার ২৪২ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে এর সংখ্যা আরো বেশি। মারা যায় ২০ লাখ গবাদিপশু। গৃহহারা হয় হাজার হাজার পরিবার। ক্ষতি হয়েছিল ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পদ। উপকূলবাসী আজও ভুলতে পারেনি সেই রাতের দুঃসহ স্মৃতি। (১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ের পর নিহত মানুষের লাশ পড়েছিল উপকূলজুড়ে। শতাব্দীর প্রলয়ঙ্করি ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বৃহত্তর চট্টগ্রাম এবং দেশের উপকূলীয় অঞ্চল মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়। ধ্বংস স্তূপে পরিণত হয় কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ। প্রলয়ঙ্করি এই ধ্বংসযজ্ঞের ২২ বছর পার হতে চলেছে। এখনো স্বজন হারাদের আর্তনাদ থামেনি। ঘরবাড়ি হারা অনেকে মানুষ এখনো মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিতে পারেনি। এই ঘুর্ণিঝড়ে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মারা গিয়েছিলেন প্রায় ১২ হাজার মানুষ।

এই ঘূর্ণিঝড়ে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় প্রাণহানি হয়েছিলো প্রায় ৮ হাজার লোকের। স্বজন হারানোর বেদনায় এখনো কাঁদে হাতিয়ার বাসিন্দারা। লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে প্রাণ হারায় কয়েকজন। ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের ২২ বছর অতিবাহিত হলেও উপকূলীয় মানুষের সুরক্ষায় নেয়া হয়নি কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।
নির্মাণ করা হয়নি মজবুত কোনো বেড়িবাঁধ। তাই প্রতি বছর জোয়ার ও বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় দ্বীপের শতশত একর জমির ফসল। সাগরে কোনো লঘুচাপ, নিম্নচাপ কিংবা মেঘ দেখলেই আতঙ্কে চমকে ওঠেন উপকূলবাসী। ৯১-এর ঘূর্ণিঝড়ের পর ২২ বছর পেরিয়ে গেলেও উপকূলীয় এলাকায় বাঁধসমূহ বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। ঘূর্ণিঝড়ের পরে নেয়া পরিকল্পনার মধ্যে স্বল্প মেয়াদী পরিকল্পনার কিছু বাস্তবায়ন হলেও মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাসমূহের বেশির ভাগই বাস্তবায়ন হয়নি। উপকূলীয় এলাকা ও দ্বীপাঞ্চলে যে পরিমাণ সাইক্লোন শেল্টার সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল তাও করা হয়নি। তার ওপর বিদ্যমান সাইক্লোন শেল্টারগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্যবহার অনুপযোগী। কোথাও কোথাও সাইক্লোন শেল্টার সাগর ও নদী ভাঙনের কারণে অস্তিত্ব হারিয়েছে। যার কারণে ২২ বছর পরেও উপকূল আজও নিরাপদ নয়। ভয়াল সেই দুঃসহ স্মৃতির ২২ বছর পেরিয়েও এসব ভাগ্যহত মানুষ কান্নায় বুক ভারী করেন আর একটি স্থায়ী বসতভিটার আশায় দিন গোনেন।

ঝুঁকিতে কমলনগর-রামগতির মেঘনাপাড়ের দেড় লাখ মানুষ

মারাত্মক প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঝুঁকিতে রয়েছে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার মেঘনাপাড়ের ১০টি ইউনিয়নের দেড় লাখ মানুষ। মেঘনা তীরবর্তী ওই ইউনিয়নগুলোতে পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র ও বেড়িবাঁধ না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া মেঘনার অব্যাহত ভাঙন, ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে যে কোন সময় স্থানীয়রা তাদের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। অপরদিকে এসব বিষয় মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে যে কোন সময় প্রাকৃতিক দূর্যোগকালীন চরম মানবিক বিপর্যয়ের আশংকা করছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জেলার রামগতি উপজেলার চরগাজি, বড়খেরি, চররমিজ, চরআলগি, চরআলেকজান্ডার ও চরআবদুল্যাহ ইউনিয়ন এবং কমলনগর উপজেলার পাটারীরহাট, চরফলকন, সাহেবেরহাট ও চরকালকিনি ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি প্রাকৃতিক দূর্যোগের মুখে রয়েছে। প্রতিনিয়ত নদীভাঙন, ঝড়-জলোচ্ছাস, জোয়ারের পানি, বন্যাসহ একাধিক প্রাকৃতিক দূর্যোগের মুখোমুখি বৈরি পরিবেশে অবস্থান করছেন এসব ইউনিয়নের বাসিন্দারা। অথচ প্রায় দেড় লাখ মানুষের বসবাসরত এসব ইউনিয়নে প্রাকৃতিক দুর্যোগে আশ্রয় নেয়ার জন্য রয়েছে মাত্র ৩৮টি (সাইক্লোন শেল্টার ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রসহ) আশ্রয়কেন্দ্র। এছাড়া ওইসব এলাকায় নির্মিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৫৯/২ নম্বর পোল্ডারের পশ্চিম তীরের ৪৫ কিলোমিটার পুরনো বেড়িবাঁধ এবং ওই পোল্ডারের সম্প্রসারিত এলাকার ২১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মেঘনা নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে। এরমধ্যে ৪৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ইতিমধ্যে নদীতে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে মাত্র ২৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে পারলেও ঝড়, জলোচ্ছাস সৃষ্টি হলে বাকিরা নিরুপায় ও আশ্রয়হীন হয়ে পড়বেন। অন্যদিকে নির্মিত এসব আশ্রয়কেন্দ্রগুলো এখন অনেকটাই ব্যবহারের অযোগ্য, পুরোনো এবং মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় সেগুলোতেও আশ্রয় নেওয়ার জন্য নিরাপদ নয়।

কমলনগর উপজেলার চরকালকিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার ছায়েফ উল্যাহ জানান, তার ইউনিয়নে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বসবাস করলেও তাদের নিরাপত্তায় বর্তমানে কোনো ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নেই। বিভিন্ন সময়ে তিনটি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মিত হলেও ইতিমধ্যে সেগুলো মেঘনার ভাঙনের মুখে পড়ে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় চরম ঝুঁকিতে থাকা ওইসব মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর করা কঠিন হয়ে পড়েছে। রামগতি উপজেলার চরআলেকজান্ডার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম আহাম্মদ উল্যাহ মজনু মাস্টার জানান, তার ইউনিয়নে ১২টি আশ্রয়কেন্দ্র থাকলেও ইতিমধ্যে চারটি ভাঙনের মুখে মেঘনার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অপর আটটি আশ্রয়কেন্দ্র কাম প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও তা বসবাসকারী প্রায় ৪০ হাজার মানুষের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। একই উপজেলার চরআবদুল্যাহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. বেলাল হোসেন জানান, প্রয়োজনীয় আশ্রয়কেন্দ্র এবং বেড়িবাঁধ না থাকায় তার গোটা ইউনিয়নবাসীই এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আশ্রয়কেন্দ্র তার ইউনিয়নের চরগজারিয়ায় নির্মিত হলেও তা ভাঙনের শিকার হয়ে ইতিমধ্যে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। নদীবেষ্টিত তার ইউনিয়নের দ্বীপচর দ’টির ‘চরগজারিয়া’ ও ‘তেলিরচরের’ প্রায় ২৫ হাজার মানুষ, হাজার হাজার গবাদিপশু, হাঁস-মুরগী চরম নিরাপত্তাহীনতায় বসবাস করছেন।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি’র (সিপিপি) রামগতি ও কমলনগর উপজেলার টিমলিডার মো. মাইন উদ্দিন খোকন জানান, মেঘনাপাড়ের ওই ১০টি ইউনিয়নের প্রায় দেড় লাখ মানুষের বিপরীতে মাত্র ৩০ হাজারের ধারণমতা সম্পন্ন ৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ১৩টি মাটির কিল্লা রয়েছে। বাকি সোয়া লাখ মানুষ রয়েছেন চরম বিপদ ঝুঁকিতে। যে কোন সময় ভয়াবহ দূর্যোগের ফলে চরম মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে এ অঞ্চলে। রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ স ম হাসান আল আমিন পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র ও বেড়িবাঁধের অভাবে মেঘনা তীরবর্তী ইউনিয়নগুলোতে বসবাসকারীরা অত্যন্ত ঝুঁকিতে থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় রামগতি ও কমলনগরে আরও সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ অত্যাবশ্যক। এছাড় নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্বেও সম্প্রতি ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্য়োগ ঘুর্নিঝড় ‘মহাসেন’ মোকাবেলায় লক্ষ্মীপুরের জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সফলতা পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভয়াল সেই ঘূর্ণিঝড়ের স্বজন হারা মানুষদের জন্য আমাদের গভীর সমবেদনা।

প্রতিবেদক

প্রকৃতি আরও সংবাদ

বাংলাদেশের ঋতু এবং চাষাবাদ

৫০ ফুট চওড়া খালে দেড় ফুট ব্যাসার্ধের ২ চোঙ্গ; লক্ষ্মীপুর নোয়াখালীর পানি প্রবাহ ব্যাহত

ভুলুয়া নদীর জলাবদ্ধতা নিয়ে লক্ষ্মীপুর সরব হলেও নিরব কেন নোয়াখালী ?

জোয়ারের পানিতে কমলনগর-রামগতিতে বীজতলা ও কাঁচা-পাকা সড়কের ব্যাপক ক্ষতি

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে মেঘনার জোয়ারে ভয়ে থাকে লক্ষ্মীপুরের উপকূলবাসী

১৯৭০ সালের পর থেকে লক্ষ্মীপুরে ১৫২ ভূমিকম্প অনুভূত

তথ্য অধিদফতরের নিবন্ধন নং: 236  
 All Rights Reserved : Lakshmipur24 ©2012-2026
Chief Mentor: Rafiqul Islam Montu, Editor & Publisher: Sana Ullah Sanu.
Muktijudda Market (3rd Floor), ChakBazar, Lakshmipur, Bangladesh.
Ph:+8801794 822222, WhatsApp , email: news@lakshmipur24.com