লক্ষ্মীপুরের রামগতি-সোনাপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশের বেশ কয়েকটি জায়গা দখল করে বালুর স্তূপ রেখে ব্যবসা চালাচ্ছে অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা। এতে করে সড়কে চলাচলে যেমন বিঘ্ন ঘটছে, তেমনি সড়কের ওপর বালু ছড়িয়ে পড়ে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
জনবসতি ও মূল সড়কের পাশে বালুর স্তূপের কারণে বালু উড়ে পথচারীর চোখে-মুখে যাওয়ায় এখানে প্রতিনিয়তই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের। প্রকাশ্যে সড়কের পাশে এমন বালুর ব্যবসা চালালেও স্থানীয় প্রশাসন নীরব।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জনবসতি ও মূল সড়কের পাশে অনেক জায়গা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে বালুর উঁচু স্তূপ। প্রায় ১০-১২টি স্থানে বালুর স্তূপ রাখা হয়েছে সেখানে। উপজেলার নবীয়ল মিয়াগো ব্রিজ এলাকা থেকে খোসাল মার্কেট ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আগ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি জায়গায় সড়কের পাশে বালু রাখা হয়েছে। যথাযথভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করায় এসব বালু হালকা বাতাসে উড়ে পথচারীর চোখে-মুখে যাচ্ছে। মূল সড়কের ওপর বালু পড়ে সেগুলো বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। দ্রুত এই সড়ক থেকে বালুর স্তূপ সরানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের চালকসহ স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল বাচেত জানান, বালুর স্তূপ থেকে ঢাকনাবিহীন ট্রাক, মাহিন্দ্রা ট্রাক্টর, ট্রলি ও ভ্যানগাড়ি বোঝাই করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বালু নেওয়া হচ্ছে। এতে পিচঢালাইয়ের রাস্তা বালুতে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া বালু উড়ে আশপাশের এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধুলাবালুর কারণে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও পরিবহনের চালকেরাও পড়েছেন বিপাকে।
খোসাল মার্কেট এলাকার বাসিন্দা মো: হৃদয় জানান, আমাদের বাড়ির আশপাশে বালুর বিশাল বিশাল স্তূপ। মেঘনা নদীর দক্ষিণা বাতাস হলেই এসব বালু ঘরের মধ্যে ঢুকে যায়। আসবাবপত্র ও কাপড়-চোপড় নষ্ট হয়। এমনকি খাবারের মধ্যেও বালু ঢুকে যায়। এনিয়ে আমরা খুব ভোগান্তির মধ্যে আছি। এসমস্যা নিয়ে আমরা মানববন্ধন করেছি এবং তা উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েও কোন প্রতিকার পাইনি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রাকিব বলেন, সকালে দোকান খুলে বসলে এক ঘণ্টার মধ্যে দোকানে বালু জমে যায়। যখন ট্রাকে করে বালু নিয়ে যায় বাতাসের সঙ্গে বালু উড়ে চোখে-মুখে চলে আসে। শ্বাস-প্রশ্বাসে মারাত্মক সমস্যা হয়।
মোটরসাইকেল চালক হাবিব উল্যাহ তারেক অভিযোগ করে বলেন, রাস্তার পাশে বালু রাখার কারণে মোটরসাইকেল চলাচলে খুবই অসুবিধা হয়। মোটরসাইকেল চালানোর সময় বালু চোখে আসে। এর কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, এ ব্যাপারে সড়কের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো সরেজমিন দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনবসতি এলাকায় ও সড়কের পাশে বালু স্তূপ করে রাখার সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।



0Share