আবদুর রহমান বিশ্বাস: মহিন উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি গত দুই বছর আগের দূর্ঘটনায় আহত হন। ওই দুর্ঘটনায় তিনি মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হন। দুর্ঘটনায় আহতের সেই এক্সের ছবি দেখিয়ে আব্দুস সাত্তার মাঝি নামের স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও মিথ্যা মামলা দায়ে করে। ২ বছর আগের দুর্ঘটনার চিত্র ব্যবহার করে এমন মিথ্যা মামলা দায়েরের পর আব্দুস সাত্তার মাঝিকে পুলিশ গ্রেফতারও করে।
এমন মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ-মতিরহাট সড়কের হাজী মোখলেছুর রহমান জামে মসজিদ এলাকায় মানববন্ধন করে স্থানীয় এলাকাবাসী।
বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে এলাকার শতাধিক মানুষ অংশ গ্রহন করে।
মানববন্ধনে অংশ গ্রহনকারীদের বক্তব্য এবং এলাকবাসীর সূত্রে জানা গেছে, কমলনগর উপজেলার উত্তর লরেঞ্চ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত কাজ করতেন মামলার বাদী মহিন উদ্দিন । তবে কিছুদিন আগে মামলার বাদী অন্যত্র চলে যান।
এতে তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত লেনদেন নিয়ে গত ১৭ মার্চ বিকেলে মোখলেছুর রহমান জামে মসজিদের সামনে দুজনের কথা কাটাকাটি হয়। পরে দুজন এক সাথে মসজিদে নামাজও আদায় করেন। কিন্ত এর কিছুক্ষণ পর মহিন উদ্দিন কমলনগর থানায় গিয়ে আব্দুস সাত্তারসহ তার পরিবারের আরো তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পরপরই রাতে তারাবির নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বাহির হওয়ার সময় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যান। বুধবার সকালে তাকে আদালতে হাজির করলে, আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন বলেন, সামান্য বিষয় নিয়ে দুই বছর আগের দূর্ঘটনার আহত হওয়া মাথা কাটার এক্সরে যুক্ত করে মামলা করেন মহিন উদ্দিন। তার মিথ্যা মামলায় এখন জেল খাটছেন আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেন, মামলা এখন খুবই সহজ হয়ে গেছে মনে হয়। এই মিথ্যা মামলার প্রতিবাদ ও ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছি আমরা।
মানববন্ধেনে উপস্থিত জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম বলেন, সামান্য কথা কাটাকাটি করে আগের আহত হওয়ার দাগগুলোর এক্সরে করে নাটক সাজিয়ে আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা করেছেন। এতে নিরপরাধ মানুষ মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
প্রশাসনের কাছে দাবি, এই সাজানো মামলার বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে নির্দোষ লোকজনদের হয়রানি থেকে মুক্তি দেওয়া হোক। ’
মাওলানা কামাল উদ্দিন বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু মহিন উদ্দিনের মাথায় কেউ আঘাত করেনি। এটি সম্পূর্ণ সাজানো নাটক। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। ’



0Share