আব্দুর রহমান বিশ্বাস || নিজেস্ব প্রতিবেদক:
লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগরেে উপকূলীয় অঞ্চলের একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বলিরপোল-নাছিরগঞ্জ সড়কের মোফাগো সেতুটি জোয়ারের পানির তোড়ে বিলীন হয়ে গেছে বেশ ৫ বছর আগে। এরপর এলাকাবাসী ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে যাতায়াত সচল রাখতে একটি অস্থায়ী কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং জোয়ার-ভাটার ক্রমাগত আঘাতে এখন সেই কাঠের সেতুটিও সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ।
সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় এবং বর্তমান কাঠের সেতুটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন। যেটি দিয়ে প্রতিদিন মার্টিন ও কালকিনি ইউনিয়নের ১০ হাজার মানুষের চলাচল।
স্থানীয় স্কুল পড়ুয়া, রবিন ও রাকিব বলেন, সেতুটি অচল হওয়াতে আমরা স্কুল ও মাদ্রাসার যেতে পারছি না। অনেকেই বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে, আবার কেউ কেউ পুরোপুরি ক্লাসে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
স্থানীয় আব্দুল আলি বলেন, মুমূর্ষু রোগী কিংবা গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতালে নেওয়ার মতো কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই। অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি যানবাহন আসার পথ বন্ধ থাকায় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি আমরা।
স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ীরা পণ্য পরিবহনে চরম বিপাকে পড়েছেন। কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে না পারায় লোকসানের মুখে পড়ছেন।
৫ বছর আগে একটি শক্তিশালী জলোচ্ছ্বাস ও অস্বাভাবিক জোয়ারের টানে সড়কের মূল আরসিসি সেতুটি ধসে নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। সে সময় সড়ক যোগাযোগ সচল করতে দ্রুততার সাথে একটি অস্থায়ী কাঠের সেতুটি তৈরি করা হয়।
“মূল সেতুটা যাওয়ার পর কাঠের এই সেতুটিই ছিল আমাদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু জোয়ারের নোনা পানি আর প্রতিনিয়ত শত শত মানুষের চাপে কাঠের খুঁটিগুলো পচে ধসে পড়েছে। এখন এটার ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ারও কোনো উপায় নেই।”
পথচারী আজাদ বলেন, বর্তমানে কাঠের সেতুর মাঝখানের অংশ ভেঙে ঝুলে রয়েছে এবং বেশ কয়েকটি তক্তা উপড়ে গেছে। ফলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান তারেক রহমান রকি সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “কাঠের সেতুটি সাময়িক ব্যবস্থা ছিল। এটি যে এখন পুরোপুরি অচল, তা আমরা জানি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও এলজিইডি (LGED) প্রকৌশলীদের জানানো হয়েছে। একটি স্থায়ী ও টেকসই সেতু নির্মাণের জন্য বরাদ্দ হয়েছে, সেটির কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।
তবে আশ্বাসেই দিন কাটছে এলাকাবাসীর। বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় জোয়ারের পানির উচ্চতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি—কোনো জোড়াতালির অস্থায়ী সমাধান নয়, অনতিবিলম্বে এখানে একটি স্থায়ী, পাকা ও উঁচু সেতু নির্মাণ করে এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন করা হোক।



0Share