আব্দুর রহমান বিশ্বাস || নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা ভোটার আইডি কার্ডে নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা, স্বামী-স্ত্রীর তথ্য কিংবা অন্যান্য তথ্য ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তবে সব ধরনের সংশোধনের জন্য একই কাগজপত্র প্রয়োজন হয় না। যে তথ্য সংশোধন করতে চান, তার পক্ষে প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সরকারি কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
নাম সংশোধনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
নামের বানান বা আংশিক সংশোধনের জন্য সাধারণত প্রয়োজন হয়—
এসএসসি/জেএসসি/পিএসসি সনদ (যা প্রযোজ্য)
অনলাইন জন্ম নিবন্ধন
পাসপোর্ট (যদি থাকে)
ড্রাইভিং লাইসেন্স (যদি থাকে)
সন্তানের জন্মসনদ বা শিক্ষাসনদ (যদি থাকে)
কাবিননামা বা বিবাহ সনদ
স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি
সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এসব কাগজপত্রের পাশাপাশি
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফনামা জমা দিতে হবে। প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশন সরেজমিন তদন্তও করতে পারে।
বাবা-মায়ের নাম সংশোধন
বাবা বা মায়ের নামের বানান, পদবি বা সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে—
শিক্ষাগত সনদ
অনলাইন জন্ম নিবন্ধন
বাবা-মায়ের এনআইডি
ভাই-বোনদের এনআইডি ও শিক্ষাসনদ
পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স (যদি থাকে)
সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিল, করের রশিদসহ অতিরিক্ত প্রমাণপত্র চাওয়া হতে পারে।
জন্মতারিখ সংশোধনে যা লাগবে
জন্মতারিখ পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন হতে পারে—
এসএসসি/জেএসসি/পিএসসি সনদ
অনলাইন জন্ম নিবন্ধন
ভাই-বোনদের এনআইডি
ওয়ারিশ সনদ
কাবিননামা
পাসপোর্ট
ড্রাইভিং লাইসেন্স
সিভিল সার্জনের বয়স নির্ধারণ প্রতিবেদন
সার্ভিস বুক, এমপিও শিট বা অফিসের প্রত্যয়নপত্র
অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন বই
মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সনদ
স্বামী/স্ত্রীর নাম সংশোধন বা সংযোজন
স্বামী বা স্ত্রীর নাম সংযোজন বা সংশোধনের জন্য প্রয়োজন হতে পারে—
কাবিননামা বা বিবাহ সনদ
স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি
সন্তানের জন্মসনদ বা এনআইডি (যদি থাকে)
সন্তানের শিক্ষাসনদ
দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্বামী/স্ত্রীর মৃত্যু সনদ বা তালাকনামা এবং দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামা জমা দিতে হবে। সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে হলফনামা, ওয়ারিশ সনদ, বিদ্যুৎ বিল বা করের রশিদসহ অতিরিক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে।
জন্ম নিবন্ধন নম্বর সংশোধন
অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ
ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি করপোরেশনের প্রত্যয়নপত্র
লিঙ্গ সংশোধন
ভোটার নিবন্ধন ফরম (ফরম-২)
মেডিকেল সনদ
সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকারের প্রত্যয়নপত্র
জন্মস্থান সংশোধন
অনলাইন জন্ম নিবন্ধন
পাসপোর্ট (যদি থাকে)
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র
পেশা সংশোধন
নিয়োগপত্র (চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে)
পেশাসংক্রান্ত সনদ
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র
দৃশ্যমান সনাক্তকরণ চিহ্ন সংশোধন
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার প্রতিবেদন
মেডিকেল সনদ
রক্তের গ্রুপ সংযোজন বা সংশোধন
রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার রিপোর্ট
স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা সংশোধন
ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন হতে পারে—
অনলাইন জন্ম নিবন্ধন
বিদ্যুৎ বিল
চৌকিদারি ট্যাক্স বা পৌর করের রশিদ
ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের প্রত্যয়নপত্র
টিন (TIN) নম্বর সংযোজন বা সংশোধন
টিন সার্টিফিকেটের সত্যায়িত কপি
ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর সংযোজন বা সংশোধন
ড্রাইভিং লাইসেন্সের সত্যায়িত কপি
পাসপোর্ট নম্বর সংযোজন বা সংশোধন
পাসপোর্টের সত্যায়িত কপি
আবেদনের ক্যাটাগরি
নির্বাচন কমিশন সংশোধনের আবেদন সাধারণত চারটি ক্যাটাগরিতে বিবেচনা করে—
‘ক’ ক্যাটাগরি: সাধারণ ও স্বল্প জটিল সংশোধন
‘খ’ ক্যাটাগরি: তুলনামূলক বেশি যাচাই প্রয়োজন
‘গ’ ক্যাটাগরি: জটিল সংশোধন, অধিক প্রমাণপত্র প্রয়োজন
‘ঘ’ ক্যাটাগরি: সর্বোচ্চ জটিল আবেদন, বিস্তৃত তদন্ত ও যাচাই প্রয়োজন
বিশেষ করে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে পার্থক্যের পরিমাণ অনুযায়ী আবেদন ‘ক’, ‘খ’, ‘গ’ বা ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে পড়ে।
যা মনে রাখবেন
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এনআইডি সংশোধনের সময় যে তথ্য পরিবর্তনের আবেদন করবেন, তার পক্ষে যত বেশি নির্ভরযোগ্য সরকারি নথি জমা দিতে পারবেন, আবেদন অনুমোদনের সম্ভাবনা তত বেশি থাকবে। আবেদন করার আগে সব তথ্য মিলিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখলে সংশোধন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে।



0Share