নিজস্ব প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনা নদীতে জেগে ওঠা নতুন চরে ‘পিডাইন্না জাল’ ফেলা ও পয়েন্ট দখলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় জেলে সিন্ডিকেটের মুখোমুখি অবস্থানে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। একাধিক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারামারির পর বর্তমানে দুই পক্ষই শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও প্রাণহানির আশঙ্কায় নদীপাড়ের সাধারণ বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এসব ঘটনায় একপক্ষ মামলা দায়ের করেছে অন্য পক্ষ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাতাব্বর হাট সংলগ্ন চরে মাছ শিকারে ১০টি নৌকা চলাচলের জন্য জেলে নেতাদের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। এতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. জিহাদ, যুবদল নেতা হেলাল মেম্বার, বিএনপি নেতা মো. কবির ও হাসানাতের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে, সমঝোতা ভেঙে জিহাদ, কবির ও হাসানাত জোটবদ্ধ হয়ে বিএনপির কয়েকজন নেতার ছত্রছায়ায় হেলাল মেম্বারের গ্রুপকে নদী থেকে বিতাড়িত করেন।
বিরোধের জের ধরে সম্প্রতি হেলাল মেম্বারের একটি নৌকা জাল ফেললে জিহাদ গ্রুপের অনুসারীরা তা কেটে ফেলে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে হেলাল মেম্বারের লোকজনের হাতে চারজন আটক হন। পরে কমলনগর থানা পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে আটককৃত জামাল মাঝি, তাঁর ছেলে সুমন, কামাল মাঝি ও শামীমকে স্বজনদের জিম্মায় দেয়।
এ ঘটনায় বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জামাল উদ্দিন মাঝি বাদি হয়ে কমলনগর থানায় অপহরণ মামলা করেন। মামলায় হেলাল উদ্দিনকে এক নম্বর আসামিসহ ৯জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে মাঝি মো. রিপন বলেন, সমঝোতা অনুযায়ী জাল ফেলার পর আমাদের ওপর হামলা চালানো হয় ও জাল কেটে বিপুল ক্ষতি করা হয়। অপরদিকে, হেলাল মেম্বার অভিযোগ করেন, ঘটনার পর পুলিশ তাঁদের এজাহার গ্রহণ না করে শুধু প্রতিপক্ষের মামলাটি নিয়েছে। তবে প্রতিপক্ষ জামাল মাঝি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, হেলাল মেম্বার নদী দখলের চেষ্টা করায় সাধারণ জেলেরা প্রতিবাদ করেছিল।
সাধারণ জেলে ছিদ্দিক উল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রাজনৈতিক ও স্থানীয় নেতাদের এই কোন্দলে সাধারণ জেলেরা প্রাণভয়ে নদীতে যেতে পারছেন না।
কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরিদুল আলম জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার শঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।



0Share