জুনায়েদ আহম্মেদ: লক্ষ্মীপুরে চাঁদা না পেয়ে এক ব্যবসায়ীর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং হামলার ঘটনায় জড়িত এজাহারনামীয় আসামি শাকিল ওরফে মোবারক হোসেনকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী)।২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাদ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এসআরবি-১১। এর আগে গতকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানাধীন ব্রাদার্স এলপিজি ফিলিং স্টেশনের সামনের পাকা রাস্তা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত শাকিল লক্ষ্মীপুর সদর পৌরসভার বাঞ্চানগর এলাকার কসাই ধনু মিয়ার বাড়ির ধনু মিয়ার ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী মোঃ শাহেদ আলম (৩২) স্থানীয় একজন বেকারি ব্যবসায়ী। আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে আসছিল।গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে শাকিল অপর এক ব্যবসায়ীর (মামলার ৩ নম্বর সাক্ষী) দোকানে গিয়ে চাঁদা দাবি করে। তিনি ভয়ে বাদী শাহেদ আলমের দোকানে আশ্রয় নিলে আসামিও সেখানে উপস্থিত হয়। একপর্যায়ে আসামিরা ওই ব্যক্তির শরীরে এবং বাদীর দোকানে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরানোর চেষ্টা চালায়। বাদীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সাময়িকভাবে সটকে পড়ে।
পরবর্তীতে আসামিরা পুনরায় সংগঠিত হয়ে বাদীর দোকানে এসে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গ্রেপ্তারকৃত আসামি ও তার সহযোগীরা তাদের কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে এক সাক্ষীর পেটে কোপ মেরে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে এবং গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ী শাহেদ আলম বাদী হয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুর সদর থানায় একটি হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।
মামলা রুজু হওয়ার পর ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেপ্তারে এসআরবি-১১, সিপিসি-৩ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শাকিলকে গ্রেপ্তার করে।
এসআরবি-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর কোম্পানী কমান্ডার ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।



0Share