জুনায়েদ আহম্মেদ: লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে ঢাকা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়ক ফোর লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প চলাকালে উচ্ছেদ পরিস্থিতি নিয়ে ফেসবুক লাইভে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার, চাঁদাবাজি ও ভুয়া সাংবাদিকতার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চন্দ্রগঞ্জ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির ব্যানারে গণমিলনায়তন কার্যালয়ে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী নেতারা দাবি করেন, মূল ঘটনা না জেনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আংশিক ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে মূল ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী নেতা আনোয়ার হোসেন মনু, বৃত্ত, এনামুল হক ফাহাদ ও চন্দ্রগঞ্জ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এনায়েত উল্যাহ বক্তব্য দেন। তারা জানান, মহাসড়ক ফোর লেনে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে সরকারের উন্নয়নকাজে সাড়া দিয়ে ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগেই নিজ নিজ দোকানঘর সরিয়ে নিচ্ছিলেন।
এ সময় উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চলাকালে একই দিনে অন্তত চার থেকে পাঁচবার গিয়ে ব্যবসায়ীদের নানাভাবে অতিষ্ঠ ও বিরক্ত করেন ইসমাইল হোসেন নামে এক ব্যক্তি। পরবর্তীতে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে “সরকারি সম্পত্তি দখল উচ্ছেদ অভিযান চলছে” বলে নানা উস্কানিমূলক ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়াতে থাকেন তিনি। তার সাথে ইয়াছিন, মুজাহিদ ও ফজলে এলাহী নামে আরও তিনজন সাংবাদিক পরিচয়ে যোগ দেন।
একপর্যায়ে ইসমাইল স্থানীয় ব্যবসায়ী এনামুলের কাছে চা-নাস্তার নামে টাকা দাবি করেন। ব্যবসায়ী এনামুল তার এই চাঁদাবাজির দৃশ্য নিজস্ব মোবাইলে ধারণ করতে গেলে ইসমাইল ক্ষিপ্ত হয়ে মোবাইলটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তা ছুড়ে ফেলে দেন। এ সময় এনামুলের দোকানের তিন কর্মচারী মোবাইল ছিনতাই হচ্ছে ভেবে ‘চোর চোর’ বলে ধাওয়া দিলে ইসমাইল গণপিটুনির শিকার হন। ঘটনা ঢাকতে এবং সঠিক তথ্য ধামাচাপা দিতে ইসমাইলের সহযোগী মিজান মল্লিকসহ কয়েকজন এসে সিকিউরিটি ক্যামেরার ডিভিআর প্লেয়ার ও যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে যায়।
ঘটনাটি বিশ্লেষণ করে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘটনার আগে কিংবা পরে ফেসবুক ছাড়া নিবন্ধিত কোনো মূলধারার গণমাধ্যমে ইসমাইলের এ সংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। কেবল ফেসবুকে ভিউ বাড়ানো ও ব্যক্তিগত কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ইসমাইল এ ধরনের অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় পেশাদার সাংবাদিকরা।
এদিকে সংবাদ সম্মেলন চলাকালে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ হওয়ার ভয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব প্রবীণ ব্যক্তি মো: কবির হোসেন ফারুক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তাকে শান্ত হয়ে বসার অনুরোধ জানালে তিনি ব্যবসায়ীদের সাথে উচ্চবাচ্যে জড়িয়ে পড়েন এবং পেশাদার সাংবাদিকদের সাথেও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন।
পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে চাঁদাবাজি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাজার ব্যবসায়ীরা।



0Share