কৃষকদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু সহিষ্ঞু ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তক এবং কৃষকদের আর্থ-সামাজিক মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে সারা দেশব্যাপি লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় অঞ্চল রামগতিসহ ৭৭টি উপজেলায় অনলাইনে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
বিকেল ৫ টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপের বাটন চাপার সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্মীপুরের রামগতিসহ ৭৭টি উপজেলার নির্বাচিত কৃষকদের কাছে মোবাইলের মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আড়াই হাজার টাকা চলে যায়। রামগতি উপজেলার আলগী গ্রামের ৩ টি ওয়ার্ডের ৬ শত ৫৮ জনের মাঝে এ কার্ড বিতরণ করা হয়।
রামগতি অংশের অনুষ্ঠানে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক এস. এম. মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে রামগতি উপজেলা অংশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোঃ আবুল খায়ের ভূঁইয়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোঃ শাহাদাত হোসেন সেলিম, লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মোঃ আবু তারেক, লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ জহির আহমেদ।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৌরভ উজ জামান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান, উপজেলা প্রকৌশলী স্নেহাল রায়, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মোঃ জামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন, রামগতি পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র শাহেদ আলী পটু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মুর্তজা আল আমিন, যুবদল সভাপতি শিবলী নোমানসহ প্রমুখ।
তিন ধাপে পর্যায়ক্রমে সারাদেশের সব কৃষককে এ ‘কৃষক কার্ড’ দিচ্ছে সরকার। পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে এই কার্ড। এর মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণসহ ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন কার্ডধারী কৃষকেরা। ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের পাশাপাশি মৎস্যচাষি বা আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খাতে নিয়োজিত খামারি ও দুগ্ধ খামারিসহ ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণির কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এটি একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড। সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় পর্যায়ের শাখায় সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নামে এই কার্ডের বিপরীতে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে।
কার্ড পাওয়া কৃষকেরা ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। এগুলো হল- ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ; ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা; সহজ শর্তে কৃষিঋণ; স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি; সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা; মোবাইল ফোনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য; কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ; ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ; কৃষি বিমা সুবিধা এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুবিধা পাবেন কৃষকেরা।
হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজাম এমপি বলেন, এ কার্ডের মাধ্যমে উপকূলের কৃষকেরা সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছে সরবরাহ করা পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন ব্যবহার করে সার, বীজ, মৎস্য বা প্রাণিখাদ্যসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ কিনতে পারবেন।



0Share