হাসিবুর রশীদ, লক্ষ্মীপুর | ঋণখেলাপিদের প্রভাবশালী অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের জন্য কঠোর আইনের সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ড. রেজাউল করিম।
তিনি বলেন, “হাজার হাজার কোটি টাকা যারা ঋণ খেলাপি করেছে, তারা বিগত নির্বাচনে ১৩৩ জন ছিল। কিন্তু বিভিন্নভাবে তারা নির্বাচনে টিকে গেছে। অথচ আমাদের দেশে সামান্য চুরি-ডাকাতির মতো অপরাধ করলে কেউ টিকে থাকতে পারে না। তাদের জন্য আইন ও শাস্তি অনেক কঠোর।”
বুধবার (১ এপ্রিল) শহরের ঐতিহ্য কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল, লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার আয়োজনে নবাগত ৭০ জন আইনজীবীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. রেজাউল করিম বলেন, “আমরা অসহায় মানুষের জন্য শুধু আইন নিয়ে দাঁড়াবো না, বরং তাদের পাশে দাঁড়াবো। যারা দুর্নীতি, অন্যায়-অবিচার ও খুন-খারাবির সঙ্গে জড়িত—আমাদের অবস্থান হবে তাদের বিরুদ্ধে।”
তিনি আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “আমরা এখনও দেখি এই মামলাটি বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। আবু সাইদ-মুগ্ধদের মামলাও নানা ষড়যন্ত্রের মুখে পড়ছে। এতে আমরা হতবাক হই। আমরা যে বাংলাদেশের জন্য সংগ্রাম করেছি, কেউ যেন সেই আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হয়।”
তিনি আরও বলেন, “একটি প্রবাদ আছে—‘যে যায় লঙ্কায়, সে হয়ে যায় রাবণ’। বর্তমানে সরকার যে চারটি বিষয় বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে, তার মধ্যে একটি হলো এন্টি করাপশন কমিশন গঠনের পদ্ধতি। গুম-খুনের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে শিথিলতা আনা হচ্ছে এবং ব্যাংক ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনও দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।”
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল, লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট নজির আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমীর মাস্টার রুহুল আমিন ভূঁইয়া, সংগঠনের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, মাওলানা নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন বাবুল।



0Share