সব কিছু
facebook lakshmipur24.com
লক্ষ্মীপুর মঙ্গলবার , ২৩শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলাদেশের কনিষ্ঠতম ক্যাপ্টেন লক্ষ্মীপুরের সোহেল

বাংলাদেশের কনিষ্ঠতম ক্যাপ্টেন লক্ষ্মীপুরের সোহেল

বাংলাদেশের কনিষ্ঠতম ক্যাপ্টেন লক্ষ্মীপুরের সোহেল

সানা উল্লাহ সানু: সোহেল চৌধুরী সাজ্জাদ। স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের নিকট ক্যাপ্টেন সোহেল নামেই পরিচিত তিনি। কারণ মার্চেন্ট (আন্তর্জাতিক রুটের জাহাজ) নেভীর ক্যাপ্টেন হওয়ার মতো অত্যন্ত কষ্টকর ট্রেনিং, বিরামহীন লেখাপড়া এবং পরীক্ষা শেষের পর মাত্র ৩২ বছর বয়সেই মাস্টার ক্যাপ্টেন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি। আর মাস্টার ক্যাপ্টেন হয়ে বিশ্বের অন্যতম শিপিং কোম্পানি জাপানের টোকিও মেরিনের কেমিক্যাল ট্যাঙ্কারের ক্যাপ্টেন হিসেবে এখন পাড়ি দিচ্ছেন দেশ থেকে দেশে।

দেশের কনিষ্ঠতম ক্যাপ্টেন হওয়ার পর সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোরের সাথে এক সাক্ষাতকারে সোহেল জানান, কেমিক্যাল ট্যাঙ্কারের একজন ক্যাপ্টেন হতে কমপক্ষে ৪০-৪৫ বছর অতিবাহিত করতে হয়। কিন্ত তিনি মাত্র ৩২ বছরেই এ অসাধ্য গৌরব অর্জন করেছেন। এ কারণে সোহেলকে গত কয়েক বছরের মধ্যে কনিষ্ঠতম বাংলাদেশী ক্যাপ্টেন হিসেবে অভিহিত করে মেরিনাররা।

ক্যাপ্টেন সোহেল চৌধুরী সাজ্জাদ লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও লক্ষ্মীপুর জেলা শিক্ষা অফিসে কর্মরত মো: শাহ আলমের ছেলে। সোহেল নেতৃত্ব দিয়ে বড় বড় কেমিক্যাল ট্যাঙ্কার মহাসমুদ্র পাড়ি দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন দেশ থেকে দেশান্তরে।

নীল সমুদ্রের দুঃসাহসিক অভিযাত্রী ক্যাপ্টেন সোহেলের সাথে কথোপকথনের পুরো বক্তব্যটি তুলে ধরা হলো:

আপনি বর্তমানে কোথায় এবং কোন পদে আছেন ? কবে থেকে চাকুরি শুরু করেন ?

আমি বর্তমানে জাপান বেইজড একটা ফরেন মার্চেন্ট নেভীতে ক্যামিকেল ট্যাংকার শীপের ক্যাপ্টেন হিসেবে কর্মরত আছি। আমার কোম্পানিতে শতাধিক কেমিক্যাল ট্যাঙ্কার রয়েছে। আমি ২০২১ সালে ক্যাপ্টেন প্রমোশন পেয়ে একই কোম্পানিতে আছি। এর আগে ২০১১ সালে আমি ডিজি শীপের অধীন থার্ড অফিসার পরীক্ষা দিয়ে লাইসেন্স পাওয়ার পর জাহাজে যোগদান করি। বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে বর্তমানে ক্যাপ্টেন।

জাহাজের চাকুরি অন্য চাকুরীর তুলনায় কি কারণে লোভনীয় এবং ব্যতিক্রম ?

আপনারা জানেন এবং বিভিন্ন সময় সিনেমার গল্পে দেখেছেন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার বা মেরিনশিপ একটা প্রিমিয়ার জব। যার কারণে প্রায় সব যুবক বা ইয়াং বয়সের মানুষের এ এটা নিয়ে একটা স্বপ্ন থাকে। কিন্তু বাস্তবে এই জবটা হচ্ছে খুবই একটা জেন্টলম্যান প্রফেশান। বিশেষ করে মার্চেন্ট জাহাজে চাকুরীজীবি ক্যাপ্টেন এবং ইঞ্জিনিয়ারদের বাড়তি কোন ঝামেলা নেই। অনেক দেশ ঘুরে তারা এবং অনেক সুযোগ-সুবিধা তাদের। আমি এরই মধ্যে এ বয়সে বিশ্বের প্রায় পঞ্চাশটির অধিক দেশ ভ্রমণ করে ফেলেছি।

ন্যদিকে শিপিং আসলে একটা এডভেঞ্চার জব। বিনামূল্যে নানান দেশ নানান সংস্কৃতি দেখা এবং বিভিন্ন দেশে যাওয়া যায় । আমরা কোন দেশে যাওয়ার পরপরই অটোম্যাটিকেলি সেই দেশের শোউর পাস আমাদের জন্য চলে আসে। যেটার কারণে আমরা বিনা বাঁধায় ওই দেশের সংশ্লিষ্ট কোন শহর ঘুরে দেখতে পারি। যেটা অন্য চাকরিতে বা অন্য কোন প্রফেশনে কখনোই সম্ভব না।
রেকটা কারণ হচ্ছে অ্যাডভেঞ্চারের জন্য প্রত্যেক মানুষেরই ছোটবেলা থেকে একটা স্বপ্ন থাকে। কিন্ত সত্যিকারের অ্যাডভেঞ্চার উপভোগ করা যায় শুধুমাত্র শিপিং প্রফেশনে। কারণ হচ্ছে যেহেতু আমরা বড় বড় ওসান ক্রসিং করি। এত বড় বড় সাগর গুলো অতিক্রম করার সময় আমাদের অনেক ধরনের অভিজ্ঞতা হয়। আমরা খুব খারাপ আবহাওয়া অতিক্রম করি, আমরা ঝড়ে পড়ি, আমরা তুষারপাত দেখি, আমরা খুবই উষ্ণতা দেখি । এই নানান ধরনের অ্যাডভেঞ্চার গুলো আমাদেরকে মানসিকভাবে শক্ত করে, যেটা অন্য সাধারণ মানুষের পক্ষে উপভোগ করা বা কল্পনা করা সম্ভব না।

সর্বশেষ যে বিষয়টি সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে এ পেশায় ১০০% সৎ থাকা যায়। যেটা অন্য পেশায় সম্ভব না। এই পেশায় আপনি দুর্নীতিমুক্ত থাকতে পারবেন।

একজন ক্যাপ্টেন হিসেবে আপনি সামাজিকভাবে প্রতিবেশীদের নিকট কি প্রত্যাশা করেন?

সামাজিক মানুষ হিসেবে আমাদের সমাজের অনেক মানুষ ক্যাপ্টেনদের উচ্চবিলাসী মানুষ হিসেবেই জানে। ক্যাপ্টেনরা জাহাজে ৪/৫ মাস থাকে এরপর বাড়িতে ফিরে এসে ৪/৫ মাস পরিবারের সাথে সময় কাটায়। তারা নিরিবিলি থাকতে পছন্দ করে। ৯০ ভাগ নাবিক নিজেদের ব্যক্তিত্ব ধরে রাখতে গিয়ে সমাজের প্রচলিত ধারার সাথে একিভুত হয় না। ক্যাপ্টেনরা নিজেদের জন্য একটা জগৎ তৈরি করতে চেষ্টা করে। সমাজের অনেকেই জানে ক্যাপ্টেন একটি বৃহৎ এবং মহৎ পেশা। সমাজের মানুষ আমাদেরকে খুবই সম্মান করে, আমরা এটাই প্রত্যাশা করি।

ক্যাপ্টেন হতে আপনি কি ধরনের পড়াশোনা করেছেন এবং কোথায় করেছেন ?

আমি ২০০৪ সালে লক্ষ্মীপুর আর্দশ সরকারি সামাদ উচ্চ বিদ্যালয় হতে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে এসএসসি এবং ২০০৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পাশ করি। এরপর আমি চট্টগ্রামে অবস্থিত বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিতে প্রথম চান্সেই ভর্তি হতে পারি। সেখানে ২ বছর পিসি করি। এরপর আমি সিঙ্গাপুরের একটি মার্চেন্ট শীপে জুনিয়র ক্যাডেট হিসেবে একবছর ট্রেনিং নিয়ে দেশে ফিরে এসে পরীক্ষায় অংশ নিই। পরে আরো একবছর পড়াশোনার পর ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে
মেরিনশীপে অর্নাস শেষ করি।
মেরিন একাডেমিতে ২ টি বিভাগ রয়েছে মেরিটাইম সাইন্স নটিক্যাল এবং মেরিন ইঞ্জিনিয়ারং। আমি মেরিটাইম সাইন্স নটিক্যাল থেকে পাশ করি। আমাদের বিভাগের কাজ হচ্ছে জাহাজের নেভীগেশন, কার্গো এবং ক্যাপ্টেন।

মেরিনে আপনার জার্নি সম্পর্কে একটু বলেন।

২০০৯ সালের ডিসেম্বরে মেরিটাইমে পাশ করার পর ভালো ফলাফল করার কারণে জাপানের সরকারি স্কলার শীপ সেকজ এর আওতায় আমি জাপানের ওসাকা প্রদেশের আসিয়া এলাকার মেরিন টেকনিক্যাল কলেজ ভর্তি হয়ে ১৪ মাস ট্রেনিং শেষ করি। ট্রেনিং শেষ করার পর ২০১১ সালে আমি জাপান বেইজড টোকিও মেরিন নামের একটি ক্যামিক্যাল ট্যাংকারে জয়েন্ট করি।

একই বছরের ডিসেম্বরে আমি বাংলাদেশে ফিরে এসে আবার পড়াশোনা করি এবং একাডেমিক পরীক্ষা দিই এবং শেষে ডিজি শীপের অধীন থার্ড অফিসার পরীক্ষা দিই। থার্ড অফিসের পরীক্ষার পর লাইসেন্স পেয়ে আগের কোম্পানিতেই যোগদান করি।

কেমিক্যাল ট্যাঙ্কারে অনেক ধরনের ইকুয়েশন রয়েছে। অনেক অভিজ্ঞতা দরকার। অনেক ধরনের ট্রেনিং দরকার। থার্ড অফিসার থেকে সেকেন্ড অফিসার হতে হলে সি এক্সপেরিয়েন্স এবং কোম্পানির প্রমোশন লাগে।

সেকেন্ড অফিসার হওয়ার পর আমি ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে সিঙ্গাপুরে পড়াশোনা শেষ করি। এরপর আমি ক্লাস টু শীপ অফিসার ওইটা সিঙ্গাপুর দিই। এরপর ২০১৬ সালে আমি চীফ অফিসার পাশ করে চীফ অফিসার সার্টিফিকেট অর্জন করি। এরপরে আমার কোম্পানিতে চীফ অফিসার পদে আমাকে প্রমোশন দেওয়ার জন্য আমি কোম্পানিকে প্রপোজ করি এবং ২০১৭ সালে আমি চীফ অফিসার পদে প্রমোশান পাই।

২০১৮ সালে আমি সিঙ্গাপুরে ক্যাপ্টেনের জন্য মাস্টার ম্যারিনের কোর্স করি এবং মাস্টার মেরিনার পরীক্ষা দিই। মাস্টার মেরিন এর পরীক্ষা পাস করার পর আমি আমার কোম্পানিকে আবার প্রপোজ করি আমাকে ক্যাপ্টেন করার জন্য। ২০২১ সালে আমি ক্যাপ্টেন হই।

আসলে জেনারেলি কেমিক্যাল ট্যাঙ্কারে অনেক ম্যাট্রিক্স থাকে। অনেক নাবিক সনদ পাওয়ার পরেও সরাসরি প্রমোশন পায় না। সেকারণে অনেকে এ পদে আসতে ৪০-৪৫ বছর সময় লাগে। কারণ সেখানে অনেক ধাপ অতিক্রম করতে হয়।

জাহাজ বিদ্যা পড়াশোনার পরেও জাহাজে চাকুরি না করলে আর কি করা যাবে?

এখানে একটা কথা বলে রাখি জাহাজ বিদ্যায় অনার্স শেষ করার পর কেউ ইচ্ছে করলে বিসিএস পরীক্ষা দিতে পারে। কেউ শীপিং ভালো না লাগলে আর্মিতে যেতে পারে, নেভীতে যেতে পারে এবং এয়ারফোর্সে যেতে পারে।

অন্যদিকে শিপিং চলে মূলত পারফরমেন্সের ভিত্তিতে। পারফরমেন্স একই ন্যাশনালিটি তে হয় না। বড় কোম্পানিতে অনেক সুযোগ সুবিধা রয়েছে। কারণ তাদের অনেক জাহাজ রয়েছে। আমার কোম্পানি টোকিও ম্যারিনের অনেকগুলো জাহাজ রয়েছে সেটি বর্তমানে এম.ওয়েল ক্যামিকেল কোম্পানির অধীন। সেখানে কেমিক্যাল ট্যাঙ্কার প্রায় এক শতাধিক, কন্টেনার শীপ রয়েছে, ভাল্ক কেরিয়ার রয়েছে, গ্যাস ট্যাঙ্কার রয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে আপনার মত এরকম আর কেউ ক্যাপ্টেন আছে কিনা?

আমি যখন এ মেরিন একাডেমিতে ঢুকলাম তার আগে দীর্ঘদিন পর্যন্ত আমি জানতাম না লক্ষ্মীপুর কোন ক্যাপ্টেন আছে কি না? আমার পরে কয়েকজন চান্স পেয়েছে মেরিন একাডেমিতে। তারা এখন জুনিয়র অফিসার হিসেবে রয়েছে। রায়পুর একজন চীফ ইঞ্জিনিয়ার রয়েছে বলে আমি জানি। আর অন্য কেউ ক্যাপ্টেন আছে কিনা লক্ষ্মীপুর জেলার আমার জানা নেই। এছাড়া না জানার অন্য আরেকটি কারণ রয়েছে বেশিরভাগ মেরিনার মূলত ঢাকা অথবা চট্টগ্রাম শহরে থাকেন। কিন্তু লক্ষ্মীপুরে আছে কিনা জানি না।

অ্যাডভেঞ্চার বা জীবন সাজানোর জন্য মেরিনার বা ক্যাপ্টেন পেশাটা বর্তমানে প্রয়োজন রয়েছে কিনা?

অবশ্যই পৃথিবীতে যত পেশা রয়েছে তার মধ্যে সবচাইতে বেশি সৎ থাকার সুযোগ রয়েছে মেরিনার পেশায়। এখানে অ্যাডভেঞ্চার রয়েছে। জীবনের সুযোগ রয়েছে। জীবনকে বিকশিত করার মতো নানান ধরনের পদক্ষেপ রয়েছে। এখানে রোমান্স রয়েছে এবং এখানে ফ্রিডম রয়েছে। এক কথায় এখানে এমন কিছু রয়েছে যা অন্য কো পেশায় নেই। তাই অ্যাডভেঞ্চার বা জীবন সাজানোর জন্য মেরিনার বা ক্যাপ্টেন পেশাটা বর্তমানে প্রয়োজন রয়েছে।

ক্যাপ্টেন হতে আগ্রহীদের জন্য আপনি কি জানাতে চান ?

সর্বশেষ কথা হয়েছে এমন নানান ধরনের সুযোগের জন্য এই পেশায় আসতে হলে অবশ্যই মেধাবী হতে হবে। কারণ এখানে পরীক্ষার পরে পরীক্ষ। এখানে রিটেন পরীক্ষা রয়েছে । এখানে আইকিউ টেস্ট রয়েছে । রয়েছে ফিজিক্যাল টেস্ট, মেডিকেল টেস্ট এবং ভাইভা পরীক্ষা। এই সব কিছু পার হয়ে যে কেউ মেরিন একাডেমিতে চান্স পাবে। সব শেষ কথা হচ্ছে এপ্লাই করার যোগ্য যে কেউ ওখানে সবগুলো পরীক্ষার ধাপ অতিক্রম করলে চান্স পেতে পারে মেরিন একাডেমিতে । হতে পারেন একজন ক্যাপ্টেন বা চীফ ইঞ্জিনিয়ার।

দীর্ঘ সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোরের সকল পাঠক ও দর্শকদের ও ধন্যবাদ।

জীবনী | ব্যক্তিত্ব আরও সংবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক মাকসুদ কামাল

নেডারল্যান্ডের শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হলেন লক্ষ্মীপুরের মাইনুল ইসলাম

লক্ষ্মীপুরে মোটরসাইকেল চাপায় সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ উল্যা নিহত

ইউএস আর্মি স্পেশালিস্ট পদে নিয়োগ পেলেন বাংলাদেশি যুবক ফরহাদ

৪১তম বিসিএসে ক্যাডার হলেন লক্ষ্মীপুর জেলার ২২ জন

‘ব্যারিস্টার-এট-ল’ ডিগ্রী অর্জন করলেন লক্ষ্মীপুরের এডভোকেট সালাহ উদ্দিন দোলন

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ে অনলাইন নিউজপোর্টাল প্রকাশনার নিবন্ধনের জন্য আবেদনকৃত, তারিখ: 9/12/2015  
 All Rights Reserved : Lakshmipur24 ©2012- 2024
Chief Mentor: Rafiqul Islam Montu, Editor & Publisher: Sana Ullah Sanu.
Muktijudda Market (3rd Floor), ChakBazar, Lakshmipur, Bangladesh.
Ph:+8801794 822222, WhatsApp , email: news@lakshmipur24.com