সব কিছু
facebook lakshmipur24.com
লক্ষ্মীপুর বুধবার , ১৯শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আমেরিকায় জনপ্রিয় হচ্ছে লক্ষ্মীপুরের প্রবাসী মনির দম্পত্তির চাষাবাদ ও কৃষি ট্যুরিজম

আমেরিকায় জনপ্রিয় হচ্ছে লক্ষ্মীপুরের প্রবাসী মনির দম্পত্তির চাষাবাদ ও কৃষি ট্যুরিজম

আমেরিকায় জনপ্রিয় হচ্ছে লক্ষ্মীপুরের প্রবাসী মনির দম্পত্তির চাষাবাদ ও কৃষি ট্যুরিজম

সানা উল্লাহ সানু | @sanubd | ক্ষেতে লাউ, মিষ্টি কুমড়া, শশা, খিরা, কচুশাক, বাঁধাকপি আর শিম। ঘরে বাহিরে শত ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মুরগি ও খরগোশ। দূর থেকে দেখে মনে হয় যেন বাংলাদেশের কোন ফসলী মাঠের পাশে কৃষকের বাড়ি। কিন্ত না এ ছবি শিল্প উন্নত দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি এলাকার “মাহিন এগ্রো” নামের একটি কৃষি খামারের।

শিল্প উন্নত দেশ আমেরিকায় বৃহৎ এ কৃষি খামার ও কৃষিভিত্তিক ট্যুরিজম গড়ে তুলেছে বাংলাদেশের মনির হোসেন দম্পত্তি। মনির হোসেনের বাড়ি বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার টুমচর গ্রামে।

মনির যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির কনজিউমার এ্যাফেয়ার্স এন্ড ওয়ার্কার প্রটেকশন ডিপাটমেন্টের ইন্সপেক্টর। তার স্ত্রী ফারহানা হক শিমু ইউনাইটেড স্টেট পোস্টাল সার্ভিসের অফিসার।

চাকুরীর পাশাপাশি আমেরিকায় কৃষি ও কৃষিভিত্তিক টুরিজমে সফলতার মুখ দেখছেন এ বাঙালি দম্পত্তি। শখের কৃষি থেকে বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপ দিতে আমেরিকার কৃষিতে ৫ লাখ ডলার বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে মনির হোসেন দম্পত্তি। এ দম্পত্তির ছোট ছেলে মাহিনের নামানুসারে খামারটির নাম রেখেছেন “মাহিন এগ্রো”।খামারটি এখন আমেরিকার বাংলাদেশী ও মুসলিম কমিউনিটির নিকট একটি জনপ্রিয় নাম।

“মাহিন এগ্রো” নামের কৃষি খামারটির অবস্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির নিকটবর্তী বিংহ্যামটন এলাকায়। খামারের মোট জমি এক হাজার ষাট শতক। মনির হোসেন জানান, তাজা শাকসবজি ও হালাল মাংস এবং অবসর সময় কাটাতে মাহিন এগ্রো এখন বাঙালী আমেরিকানদের নিকট খুবই জনপ্রিয় স্থান। প্রতিদিন আমেরিকার বিভিন্ন রাজ্য থেকে বাঙালীসহ বিভিন্ন দেশ, জাতি, ধর্মের লোক ছুটে আসছে এ খামারে। খামারেই বসছে শাকসবজি, বীজ ও পশু বিক্রির হাট। চলছে বাংলাদেশের মতো পিকনিক। শাকসবজি ও পশুপাখির খামারটি ঘিরে গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রম কৃষি ট্যুরিজম। খামার দেখতে আসা এবং পিকনিকে আসা মানুষ খামারের শাকসবজি ও পশু পাখি কিনে নিচ্ছেন। খামারটিতে রয়েছে ১৫ হাজার বর্গফুট আয়তনের একটি পুকুর। আগামী বছর চাষ হবে বাংলাদেশী মাছ। পুকুরে ভাসবে নৌকা।

মনির হোসেন বলেন, চাকুরীর মাঝে অবসরে শখের বাগান করতে গিয়ে স্ত্রী ফারহানা হক শিমু হাত ধরেই আমেরিকার মাটিতে এখন ফলছে বাংলাদেশী নানা শাকসবজি। বিভিন্ন রাজ্য জুড়ে জনপ্রিয় হচ্ছে সেগুলো।      মাহিন এগ্রো খামারে উৎপাদিত বাংলাদেশী মিষ্টি কুমড়ো, খিরা, শসা আমেরিকানদের মন জয় করে ফেলেছে। শাকসবজির পাশাপাশি ছাগল, ভেড়া, মুরগি, হাঁস, টার্কি ও খরগোশ রয়েছে। খামারটি আমেরিকান মুসলিমদের জন্য শতভাগ হালাল মাংস উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে । চলতি বছর থেকে বাংলাদেশ থেকে বীজ আমদানি করে তিনি আমেরিকান কৃষকদের নিকট বাংলাদেশী বিভিন্ন শাকসবজির বীজ বিক্রয় করছেন। আমেরিকান কৃষকরা আমাজন, ইবে এর মতো মার্কেট থেকে তার বীজ কিনছেন। বর্তমানে তিনি ৩৭ রকমের শাকসবজির বীজ বিক্রয় করছেন।

আমেরিকান কৃষি খামার ও কৃষি ট্যুরিজম নিয়ে মোবাইল ফোনে মনির হোসেনের সাথে কথা হয়। এমন বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সারাবিশ্ব থেকে সব ধরনের শাকসবজি আমেরিকায় আসে। কিন্ত সেসব শাকসবজিতে কোনো স্বাদগন্ধ পাইনা। নিউইয়র্ক সিটিতে আমার মতো যত বাঙালী রয়েছে সবাই বাংলাদেশী শাকসবজি ও মুসলিম হালাল মাংস চায় কিন্ত পায় না। এসব ভেবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাঙালীদের কে আমাদের দেশের শাকসবজি ও গৃহপালিত পশু পাখির মাংসের স্বাদ দিতে গড়ে তুলেছি মাহিন এগ্রো নামের এ খামার।

কি ফসল উৎপাদন করছেন ? উৎপাদিত ফসল কিভাবে বাজারজাত করেন?

২০২২ সালের অক্টোবর মাসে আমি খামার শুরু করি। মাত্র অল্প সময়ে আমেরিকার মাটিতে বাংলাদেশী ফসলের ফলন দেখে আমরা হতবাক! যা লাগিয়েছি প্রচুর হচ্ছে। মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শাকসবজি উৎপাদন করা যায়। উৎপাদিত ফসলগুলো খামারে বেড়াতে এসে অনেকে নিজে এবং আত্মীয় স্বজনের জন্য কিনে নিচ্ছে। অবশিষ্ট সবজি নিউইয়র্ক সিটিতে লোকাল গ্রোসারিতে সরবরাহ করে থাকি।

আমার খামারে বর্তমানে ২০জন কর্মচারীর কাজ করতে পারবে । তবে আমরা স্বামী স্ত্রী ২জন এবং ৪জন অস্থায়ী কর্মচারী কাজ করি। আমার বাসস্থান এবং কর্মস্থল থেকে ২৯০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে প্রতিদিন খামারে কাজ করি। তবুও ভালো লাগে।

খামারে পশু পালন করছেন কেন ?
মনির হোসেন বলেন, শত জাতির উদার দেশ আমেরিকায় মুসলিমদের জন্য হালাল মাংস ও কোরবানির পশু সংগ্রহ করা বিরাট চ্যালেঞ্চ । সে কারণে আমার খামার মাহিন এগ্রোতে শাকসবজির পাশাপাশি ছাগল, ভেড়া, মুরগি, হাঁস, টার্কি ও খরগোশ রয়েছে। গত কোরবানে ১০০ ছাগল বিক্রি করলাম। অনেকে খামারে পিকনিক করতে এসে ছাগল, ভেড়া, মুরগি, হাঁস, টার্কি ও খরগোশ কিনে নেয়। আবার কেউ কেউ খামারে জবাই করে টাটকা মাংস নিয়ে যায়। খামারটি হতে যাচ্ছে এদেশের মুসলিমদের জন্য শতভাগ হালাল মাংস উৎপাদন কেন্দ্র ।

খামার কিভাবে শুরু করলেন ?
স্ত্রীর শখকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে নানান জায়গায় জমি দেখে শেষে নিজ শহর থেকে ১৮০ কিলোমিটার দূরে এ খামারটি কিনে ফেলি। খামারে রয়েছে এক হাজার ষাট শতক জমি। জমি কেনার পর বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ২ কোটি বিনিয়োগ করেছি। অনেক যন্ত্রপাতি ক্রয় করলাম। খামারে সাড়ে তিন হাজার বর্গফুট আয়তনের তিনতলা একটি বার্ন রয়েছে। ভেতরে থাকার একটি স্টুডিও রয়েছে। সেচের জন্য ৩০০ ফুটের গভীর কূপ বসালাম। ১৫ হাজার বর্গফুটের একটি পুকুর খনন করলাম। সেখানে দেশীয় মাছ রয়েছে। ভিজিটরদের জন্য নৌকা থাকবে। আমার এ উদ্যোগ বাংলাদেশি ইমিগ্রেন্টদের কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশী বীজ কিভাবে সংগ্রহ করেছেন?
সকল বীজ বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা। আমেরিকাতে কৃষিজাত পণ্য আমদানি সহজ নয়। আমার প্রতিনিধির মাধ্যমে আমি বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হতে উন্নত মানের বীজ, কৃষিজাত পণ্য ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করেছি। কৃষিতে সম্পৃক্ত হওয়ার কারনে দেশে বিদেশে অনেক কৃষকের সাথে পরিচিত হচ্ছি। এখন আমি আমেরিকান কৃষকদের জন্য আমাজন, ইবে এর মতো মার্কেটে ৩৭ রকম বীজ বিক্রি করছি।

কৃষিকে কিভাবে ট্যুরিজম বানালেন ?
আমার খামারে ভিজিটরদের জন্য স্বপারিবারে দেশী স্টাইলে পিকনিক করার ব্যবস্থা রেখেছি। ভিজিটররা সারাদিন পারিবার নিয়ে বেড়ানোর সুযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালে ১০০০ এর উপর ভিজিটর আমার খামার ভিজিট করেছে। সেখান থেকেও সামান্য আয় হচ্ছে এবং ফসল ও পশুপাখি খামারেই বিক্রি হচ্ছে।খামারে ট্যুরিজম আইডিয়াটি ভিন্নমাত্র্রা যোগ করেছে।

মনির হোসেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার টুমচর গ্রামের পাঞ্চায়েত বাড়ীর তছলিমুর রহমানের ছেলে । জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জনের পর ২০০৯ সালে তিনি ডিভি লটারির মাধ্যমে আমেরিকায় গমন করেন। এ দম্পত্তির ২ ছেলে স্কুল পর্যায়ে পড়াশোনা করছে।

জীবনী | ব্যক্তিত্ব আরও সংবাদ

আমেরিকায় জনপ্রিয় হচ্ছে লক্ষ্মীপুরের প্রবাসী মনির দম্পত্তির চাষাবাদ ও কৃষি ট্যুরিজম

বার কাউন্সিলের সনদ পেলেন কর বিষয়ক লেখক সিরাজ উদ্দিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক মাকসুদ কামাল

লক্ষ্মীপুরে মোটরসাইকেল চাপায় সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ উল্যা নিহত

ইউএস আর্মি স্পেশালিস্ট পদে নিয়োগ পেলেন বাংলাদেশি যুবক ফরহাদ

৪১তম বিসিএসে ক্যাডার হলেন লক্ষ্মীপুর জেলার ২২ জন

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ে অনলাইন নিউজপোর্টাল প্রকাশনার নিবন্ধনের জন্য আবেদনকৃত, তারিখ: 9/12/2015  
 All Rights Reserved : Lakshmipur24 ©2012- 2024
Editor & Publisher: Sana Ullah Sanu
Ratan Plaza(3rd Floor), ChakBazar, Lakshmipur, Bangladesh.
Ph:+8801794822222, WhatsApp , email: news@lakshmipur24.com