নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুরে এক সৌদি প্রবাসীর জমি দখল করে চলাচলের রাস্তা বন্ধের পাঁয়তারা করার অভিযোগ উঠেছে তার সহোদর ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এতে ঘরবন্দি হয়ে পড়ার শঙ্কা করছে প্রবাসীর পরিবারটি।
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১১ নং ওয়ার্ডের আটিয়াতলি গ্রামের নাছির মাষ্টারের ছেলে প্রবাসী মহব্বত এলাহি হাবিব ওরফে মাসুদ তার ভাই দিদার এলাহী জুয়েলের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন।
এছাড়া মায়ের কাছ থেকে হেবাসূত্রে মালিকানাধীন ৩২ শতাংশ জমি দুই ভাই বন্টননামার মাধ্যমে ভাগাভাগি করে নিলেও সেটি এখন মানছেন না দিদার।
জানা গেছে, আটিয়াতলী গ্রামের মৃত নাছির আহমেদের ৫ ছেলের মধ্যে দ্বিতীয় ছেলে দিদার এলাহী এবং চতুর্থ ছেলে মতব্বত এলাহী তাদের মা ওহিদা খাতুনের কাছ থেকে হেবাসূত্রে ৩২ শতাংশ জমির মালিক হয়৷ ওই জমি ১৬ শতাংশ করে এবং জমির মধ্যে থাকা ৮০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৫৬ ফুট প্রস্তের একটি ভবন দুই ভাই সমানভাবে ভাগ করে বন্টননামা চুক্তি করেন৷ ২০২৪ সালের ১৪ মে স্থানীয় কাউন্সিলর মাকছুদুর রহমান আলমগীর এবং স্থানীয় গণ্যমাণ্য স্বাক্ষীদের উপস্থিতিতে বন্টননামা চুক্তিতে স্বাক্ষর হয়।
বন্টননামায় ভবনের একাংশ নির্মাণ ব্যয় হিসেবে দিদার এলাহীকে তিনলাখ টাকা পরিশোধ করা হয়৷ এছাড়া বন্টনামায় ভবনের ১২ টি কক্ষের মধ্যে ৬টি কক্ষ দুভাইয়ের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হয়৷ ভবনের পশ্চিম অংশ ও সামনের অংশের জমি, পাশের খালি অংশ, ৫ ফুট সিঁড়ি মহব্বত এবং সমহারে পূর্বের অংশ দিদার ভোগদখল করিবে। ভবনের মূল ফটক হইতে ৫৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৫ ফুট প্রস্তের চলাচলের পথ দুইভাই যৌথভাবে ব্যবহার করিবে৷ এতে কেউ কারো চলাচলের ব্যাঘাত বা বাঁধা দিতে পারবে না।
কিন্তু সম্প্রতি বন্টননামার এসব চুক্তি ভঙ্গ করার অভিযোগ উঠেছে দিদারের বিরুদ্ধে।
প্রবাসী মহব্বত এলাহীর স্ত্রী শারমিন সুলতানা বলেন, ভবনসহ আমার স্বামীর নামে ১৬ শতাংশ জমি। সিঁড়ি রুমের মধ্যখান থেকে সমান ভাগ করা হয়। সামনের খালি জমিও একইভাবে ভাগ করা হয়েছে। কিন্তু দিদার এলাহী আমাদের জমি খালি করে দিচ্ছে না। তারা দখল করে রেখেছে। তারা আমাদের জমিটি একেবারে দখলের পাঁয়াতারা করছে। যদি তারা জমি দখল করতে পারে, তাহলে আমরা ঘরবন্দি হয়ে পড়বো।
ভুক্তভোগী প্রবাসী মহব্বত এলাহী মুঠোফোনে বলেন, ভবনের মাঝ বরাবর উত্তর-দক্ষিণ পর্যন্ত দুই ভাগ করে আমাকে পশ্চিমাংশের ১৬ শতাংশ ও আমার ভাই দিদারকে পূর্বাংশের ১৬ শতাংশ জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। জমি নিয়ে সকল কিছু মিমাংসিত। লিখিত স্ট্যাম্প রয়েছে। এখন সে সিঁড়ির রুম অতিক্রম করে আরও কয়েক ফুট জমি দখলের পাঁয়তারা করছে। সে আমাকে ঘরবন্দি করে রাখার পাঁয়তারা করছে। এছাড়া আমার ভাই দিদারের স্ত্রী বাড়িতে থেকে আমার স্ত্রীর সাথে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করছে এবং হুমকি দিচ্ছে। এতে পারিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। প্রশাসন এবং স্থানীয় গণ্যমান্যদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
বন্টননামা চুক্তিতে থাকা স্বাক্ষী অজি উল্যা ও সাইফুল আলম বলেন, বন্টননামার চুক্তি মেনেই উভয়পক্ষ সাক্ষর করেছে। চুক্তি মেনে দিদার তার ভাই মহব্বতের কাছ থেকে তিনলাখ টাকাও নিয়েছে। কিন্তু হঠাৎ দিদার তালবাহানা শুরু করেছে। সে আইনবিরোধী কথাবার্তা বলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিদার বখাটে ও বেপরোয়া স্বভাবের। নিজের ব্যক্তিস্বার্থে সে পরিবারের লোকজনকেও ছাড়ে না। অহেতুক ঝামেলা সৃষ্টি করছে।
অভিযুক্ত দিদার এলাহী বলেন, আমার বড় ভাই মাহবুব এলাহী আমার ভবন বরাবর তিনফুট দখল করে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করেছে। এজন্য আমি খালি জমি পেয়ে আমার অংশ বুঝে নিচ্ছি।
১১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাকছুদুর রহমান আলমগীর বলেন, দুই ভাইয়ের মধ্যে বন্টননামা চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। চুক্তি মেনে দিদার এলাহী মহব্বত এলাহীর কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নিয়েছে। কিন্তু দিদার এখন চুক্তি মেনে চলছে না।



0Share