নিজস্ব প্রতিবেদক | লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর | লক্ষ্মীপুরসহ বাংলাদেশের নতুন ১০টি জেলায় রেললাইন সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহন করেছে সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর এমন একটি বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথেই লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন ফেসবুক পেজে রাতারাতি লক্ষ্মীপুরে রেললাইন স্থাপন কার্যক্রম শেষ করে ফেলেছেন। অনেকে বিভিন্ন স্টেশনে ভাড়ার তালিকায়ও প্রকাশ করেছেন। যা অবাস্তব ও হাস্যকর।
বিষয়টি নিয়ে মানুষের মাঝে আগ্রহের পাশপাশি অনেক বিভ্রান্তি ও উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। তবে লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে প্রকাশিত দায়িত্বশীল কোন গণমাধ্যমে কিংবা দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রচার হতে দেখা যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে সচেতন মানুষের মতো, গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া একটি বিবৃতি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ( ১৮ জুন) আবুল খায়ের ভূঁইয়া তার ফেসবুক পেজে বিবৃতিটি পোস্ট করেন।
সেখানে জনাব ভূইঁয়া লিখেন,
রেলপথ ও সম্ভাব্য রেলস্টেশন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন মতামত, আলোচনা ও উদ্বেগ লক্ষ্য করছি।
বিশেষ করে অনেকেই মনে করছেন যে রায়পুর তথা লক্ষ্মীপুর-২ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনায় যথাযথ অগ্রাধিকার পায়নি। ফলে রেলস্টেশন নিয়েও জনগণের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই কিছু উদ্বেগ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। জনগণের এই অনুভূতি ও প্রত্যাশাকে আমরা সম্মান করি।
তবে আমাদের একটি বিষয় বাস্তবসম্মতভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। রেলপথের মতো বৃহৎ জাতীয় অবকাঠামোগত প্রকল্প কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা নির্দিষ্ট এলাকার পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় না। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (Feasibility Study), অর্থনৈতিক কার্যকারিতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভূমি অধিগ্রহণের সুযোগ, যাত্রী চাহিদা এবং জেলার সামগ্রিক জনগণের সুবিধার বিষয়গুলো বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
আমাদের জানা মতে, পূর্বে পরিচালিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় দালাল বাজার এলাকাকে সম্ভাব্য রেলস্টেশনের জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। এর অর্থ এই নয় যে অন্য কোনো এলাকার মানুষের মতামতের গুরুত্ব নেই। বরং বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে এমন স্থান নির্বাচন করা হয়, যাতে জেলার সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ সুবিধা ভোগ করতে পারেন।
তবে আমরা এটাও বিশ্বাস করি যে রায়পুরের জনগণের দাবি, মতামত ও প্রত্যাশার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। রায়পুরের মানুষ যদি মনে করেন যে রায়পুরে রেলস্টেশন স্থাপন অধিক যৌক্তিক হবে এবং এর মাধ্যমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে, তাহলে সেই দাবি যথাযথভাবে সরকারের কাছে উপস্থাপন করা আমাদের দায়িত্ব। আমরা অবশ্যই এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলে তুলে ধরার চেষ্টা করবো। পরবর্তীতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা যদি মনে করেন যে রায়পুরই অধিক উপযোগী ও বাস্তবসম্মত স্থান, তাহলে সেই বিষয়টিও বিবেচনায় আসবে, ইন শা আল্লাহ।
আমরা আরেকটি বিষয় স্পষ্টভাবে বলতে চাই। লক্ষ্মীপুর-২ এর রায়পুর উপজেলা, সদর পশ্চিমের সকল ইউনিয়ন এবং পৌরসভার প্রতিটি মানুষ আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। এখানে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব, আঞ্চলিকতা বা বিভেদের সুযোগ নেই। একজন পিতার কাছে যেমন তার সব সন্তান সমান, তেমনি আমাদের কাছেও লক্ষ্মীপুর-২ এর প্রতিটি এলাকা ও প্রতিটি মানুষ সমান।
আমাদের লক্ষ্য কোনো একটি অঞ্চলকে অন্য অঞ্চলের বিপরীতে দাঁড় করানো নয়; বরং এমন উন্নয়ন নিশ্চিত করা, যাতে সমগ্র লক্ষ্মীপুর উপকৃত হয়। উন্নয়নের প্রশ্নে আমরা সবাই একসাথে থাকবো, সকলের ন্যায্য দাবি তুলে ধরবো এবং জনগণের স্বার্থে কাজ করে যাবো ।
রায়পুরের জনগণের এই প্রত্যাশা ও দাবি আমরা অবশ্যই জাতীয় সংসদসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলে তুলে ধরার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো, ইন শা আল্লাহ।



0Share