নিজস্ব প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার এক সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে আদালতে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ১৮ জন কৃষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি গত মার্চ মাসে বরিশাল জেলার চর ভৈরবী এলাকায় ঘটে, যা লক্ষ্মীপুর জেলার সীমান্তঘেঁষা অঞ্চল।
আহত হাকিম আলী লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চর কাছিয়া গ্রামের অস্থায়ী বাসিন্দা। এ ঘটনায় গত ২৪ জুন তাঁর স্ত্রী সায়েরা বেগম লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলি) আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় চর কাছিয়া গ্রামের ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তরা সবাই কৃষক এবং হাকিম আলীর প্রতিবেশী। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নিরুতাজ বেগম, পিংকী, ফারজানা, কালু মাতবর, আলিম মাতবরসহ একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, হাকিম আলী ভোলার একটি চরে তরমুজক্ষেতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার দিন তরমুজবোঝাই ট্রাকে মাল তোলার সময় অসাবধানতাবশত তিনি ট্রাকের পেছন থেকে পড়ে যান এবং ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন।
পরে সহকর্মী শ্রমিক ও স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে (পঙ্গু হাসপাতাল) উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠান।
তবে দুর্ঘটনার প্রায় তিন মাস পর একই ঘটনাকে হামলা হিসেবে উল্লেখ করে আদালতে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা নিরুতাজ বেগমের অভিযোগ, এলাকার কিছু ব্যক্তির প্ররোচনায় একটি দুর্ঘটনার ঘটনাকে হামলা হিসেবে উপস্থাপন করে ১৮ জন নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে, যা তাঁদের হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
সরেজমিনে চর কাছিয়া গ্রামে গিয়ে মামলার বাদী সায়েরা বেগম ও আহত হাকিম আলীর সঙ্গে কথা বললে, তাঁরা উভয়েই ট্রাক থেকে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনা স্বীকার করেন। তবে দুর্ঘটনার পরও কেন হামলার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে এ প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি।
এ বিষয়ে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হবে। কোনো নিরীহ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।”



0Share