সানা উল্লাহ সানু : লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়কে চলাচলকারী লোকাল বাসের কোন নিয়ম শৃঙ্খলা নেই। বিভিন্ন বাজারে এসকল বাস থামার নির্ধারিত কোন স্থান নেই, কোন নোটিশ নেই, বাস চলাচলের নির্ধারিত কোান সময়সূচি নেই। কোন তথ্য পাওয়ার সুযোগ নেই। মালিক সমিতি যখন ইচ্ছে বাস ছাড়েন আবার যখন ইচ্ছে বাস বন্ধ রাখেন। লোকাল বাসের নির্ধারিত সময়সূচি না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। এ সুযোগ লুপে নিচ্ছেন, সিএনজি চালকরা।
অথচ ঝুমুর স্টেশনেই রয়েছে ট্রাফিক পুলিশের চেক বক্স।
বিশেষ করে সন্ধ্যার পর কোন নোটিশ ছাড়াই বাস চলাচল বন্ধ থাকে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর ঝমুর স্টেশনে যাত্রীরা দীর্ঘ সময় বাসের জন্য অপেক্ষা করে। এসময় সিএনজি চালকরা কাছে ও দূরের যাত্রীদের সাথে চরম অমানবিক আচরণ করে নিয়মিত ভাড়ার ২গুণ ও ৩গুণ ভাড়া আদায় করে। এসময় সিএনজি চালকরা যাত্রীদের কে গালাগাল করে।
একপর্যায়ে লোকাল বাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে যাত্রীদের।
লক্ষ্মীপুর থেকে রামগতির দূরত্ব প্রায় ৫৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুর থেকে আলেকজান্ডার পর্যন্ত দূরত্ব ৪০ কিলোমিটা।
এ রুটে প্রতিদিন লোকাল বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। তবে লোকাল বাসগুলোর কখন কোন সময়ে চলাচল করবে, কখন বন্ধ থাকবে—এ বিষয়ে যাত্রীদের জন্য কোনো নির্ধারিত সময়সূচি বা আগাম তথ্য দেয় না। বাস চালক ও মালিকদের ইচ্ছে মতো যখন খুশি তখন চলাচল করে এবং তখন বন্ধ করে।
যাত্রীদের অভিযোগ, দিনের বেলায় কোনোভাবে বাস পাওয়া গেলেও সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি ভিন্ন হয়ে যায়। সন্ধ্যায় জুমুর স্টেশনে রামগতিসহ বিভিন্ন এলাকার যাত্রীরা বাসের অপেক্ষায় ভিড় করেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও বাস না পেয়ে অনেকে বাধ্য হয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠেন।
যাত্রীদের মতে, লোকাল বাসের নির্দিষ্ট সময়সূচি থাকলে তারা আগে থেকেই জানতে পারতেন কখন বাস পাওয়া যাবে। পাশাপাশি বাসস্ট্যান্ড বা গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে বাস চলাচলের সময়সূচি টানিয়ে রাখা হলে যাত্রীদের অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসত।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা লোকাল বাস মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ সুবুজের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি লোকাল বাসের নির্ধারিত সময়সূচি এবং স্টেশনে কোন নোটিশ না থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি জানান, বর্তমানে এ ধরনের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। তবে ভবিষ্যতে বাস চলাচলের সময়সূচি নির্ধারণ করে তা যাত্রীদের জানিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে যাত্রীদের দাবি লক্ষ্মীপুর ঝুমুর পুলিশ বকসের সামনে যাত্রীদের সিএনজি চালকরা জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে পুলিশকে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং বিআরটিএ কে এ বিষয়ে তদারকি করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লোকবাস চলাচলের সময়সূচি নির্ধারণ করে, বাস কখন চলবে এবং কখন চলবে না—এ বিষয়ে যাত্রীদের আগাম তথ্য নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন তাদের ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে বাস না পাওয়ার সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতাও কমানো সম্ভব হবে।



0Share