সব কিছু
লক্ষ্মীপুর বুধবার , ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলাদেশের নেতৃত্বে নোয়াখালী জেলার এমপিদের মন্ত্রিত্বের ইতিহাস

বাংলাদেশের নেতৃত্বে নোয়াখালী জেলার এমপিদের মন্ত্রিত্বের ইতিহাস

বাংলাদেশের নেতৃত্বে নোয়াখালী জেলার এমপিদের মন্ত্রিত্বের ইতিহাস

সানা উল্লাহ সানু: স্বাধীনতার পর প্রায় প্রতিটি জাতীয় সংসদেই নোয়াখালী থেকে নির্বাচিত কোনো না কোনো সংসদ সদস্য পেয়েছেন মন্ত্রিত্ব কিংবা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কেউ হয়েছেন মন্ত্রী, কেউ প্রতিমন্ত্রী, কেউ উপপ্রধানমন্ত্রী, আবার কেউ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিংবা জাতীয় সংসদের স্পিকার।

কিন্তু ২০২৬ সালের ১৩তম জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্যই মন্ত্রীসভায় স্থান পাননি। এ কারণেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি দাবি বেশ আলোচিত হচ্ছে— “দীর্ঘ ৩৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম নোয়াখালীর কোনো নির্বাচিত সংসদ সদস্য মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন না।” কিন্তু সত্যিই কি তাই? নাকি ইতিহাসের হিসাব বলছে অন্য কথা? লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোরের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে সেই প্রশ্নের উত্তর। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে বৃহত্তর নোয়াখালী নয়, বর্তমান নোয়াখালী জেলার সংসদীয় আসনগুলোরও রয়েছে দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঐতিহ্য।

জাতীয় সংসদের বিভিন্ন নির্বাচনে এ জেলা থেকে নির্বাচিত একাধিক রাজনীতিক শুধু সংসদ সদস্যই হননি, তাঁরা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পরিচালনা করেছেন। কেউ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, কেউ উপপ্রধানমন্ত্রী, কেউ মন্ত্রী, আবার কেউ জাতীয় সংসদের স্পিকার। স্বাধীনতার পর নোয়াখালীর সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া উল্লেখযোগ্য চারজন হলেন—আব্দুল মালেক উকিল, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান এবং ওবায়দুল কাদের। নোয়াখালীর রাজাপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া আব্দুল মালেক উকিল ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান।

এরপর ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তৎকালীন নোয়াখালী-১২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পর তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৪ সালে আব্দুল মালেক উকিল জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন। এরপর নোয়াখালীর রাজনীতিতে আসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম—ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি উপপ্রধানমন্ত্রী হন। এরপর ১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদে আবারও তিনি উপপ্রধানমন্ত্রী হন। একই সংসদে নোয়াখালীর নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান দায়িত্ব পান শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে।

এর আগে ১৯৮৪ সালে দ্বিতীয় সংসদের সময় মাহবুবুর রহমান ধর্মমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৮ সালে চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন। পরের বছর, ১৯৮৯ সালে, তিনি একই সংসদের সময়ে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। অন্যদিকে, চতুর্থ জাতীয় সংসদেও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান। ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সরকারে নোয়াখালীর নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। কারণ, এখান থেকেই বোঝা যায়—নোয়াখালীর কোনো নির্বাচিত সংসদ সদস্য মন্ত্রিসভায় না থাকার ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে একেবারে নতুন নয়।

অর্থাৎ, “৩৫ বছরের মধ্যে এই প্রথম”—এই দাবিটি যাচাই করতে হলে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের সংসদীয় ইতিহাসও বিবেচনায় নিতে হবে। ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোম্পানীগঞ্জ আসন থেকে নির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারে তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। এরপর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী হন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের প্রায় তিন বছর পর, ২০১১ সালে ওবায়দুল কাদেরকে যোগাযোগমন্ত্রী করা হয়। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের পুনর্গঠনের পর তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল নবম জাতীয় সংসদ এবং ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হন ড.শিরীন শারমিন চৌধুরী ।

এছাড়া তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল নবম জাতীয় সংসদ এবং ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হন ড.শিরীন শারমিন চৌধুরী । এছাড়া তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ এবং ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদেও নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ আসন থেকে নির্বাচিত ওবায়দুল কাদের একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

এরপর শেখ হাসিনা সরকারের শেষ মেয়াদে, জাতীয় সংসদের দ্বাদশ সংসদেও, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ আসন থেকে নির্বাচিত ওবায়দুল কাদেরকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী করা হয়। এবার ২০২৬—ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। নোয়াখালী জেলার রয়েছে মোট ছয়টি সংসদীয় আসন।

পাঁচটিতে বিএনপি এবং একটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। নির্বাচিতরা হলেন— নোয়াখালী-১ আসনে এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী-২ আসনে জয়নুল আবদিন ফারুক, নোয়াখালী-৩ আসনে বরকতউল্লা বুলু, নোয়াখালী-৪ আসনে মো. শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ আসনে মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, এবং নোয়াখালী-৬ আসনে এনসিপির আবদুল হান্নান মাসউদ।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় এখন পর্যন্ত নোয়াখালীর এই ছয় নির্বাচিত সংসদ সদস্যের কেউই মন্ত্রীসভায় স্থান পাননি। এ কারণেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। — এটাই কি গত ৩৫ বছরের মধ্যে প্রথম ঘটনা? লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোরের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য বলছে, দাবিটি পুরোপুরি সঠিক নয়। কারণ, ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ এবং ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ—এই দুই সংসদ পর্বের পর গঠিত সরকারেও নোয়াখালীর নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য মন্ত্রিসভায় ছিলেন না।

অর্থাৎ, নোয়াখালীর নির্বাচিত এমপি মন্ত্রিসভায় না থাকার ঘটনা আগেও ঘটেছে। তবে এবারের ঘটনাটি অবশ্যই রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, দীর্ঘ সময় ধরে নোয়াখালীর নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে কাউকে না কাউকে মন্ত্রিসভায় দেখা গেছে। বিশেষ করে ১৯৯৬ সালের পর টানা কয়েকটি সংসদে নোয়াখালীর নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রতিবেদক

ইতিহাস আরও সংবাদ

লক্ষ্মীপুরের ৬ষ্ঠ উপজেলা হলো ‘‘চন্দ্রগঞ্জ”

কামানখোলা জমিদার বাড়ি | লক্ষ্মীপুরের পর্যটন ও ইতিহাস সংরক্ষণে দরকার সংস্কার

লক্ষ্মীপুর জেলার ইতিহাস

লক্ষ্মীপুরের কোন উপজেলা কখন হানাদার মুক্ত হয় ?

রামগঞ্জের ৩ মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর্যটির সংরক্ষণ প্রয়োজন

লক্ষ্মীপুর শব্দের ইংরেজী বানান ও উচ্চারণ বির্তক

তথ্য অধিদফতরের নিবন্ধন নং: 236  
 All Rights Reserved : Lakshmipur24 ©2012-2026
Chief Mentor: Rafiqul Islam Montu, Editor & Publisher: Sana Ullah Sanu.
Muktijudda Market (3rd Floor), ChakBazar, Lakshmipur, Bangladesh.
Ph:+8801794 822222, WhatsApp , email: news@lakshmipur24.com